somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রবাসি একটা ফরম্যাট

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



প্রবাসি একটা ফরম্যাট
জাহাঙ্গীর বাবু
বেতনের কাঁটা একই জায়গায় আটকে আছে।২০১২ সাল থেকে।দেশ ডিজিটাল হয়েছে।জিনিষ পত্রের দাম বেড়েছে।গাড়ি ভাড়া,বাসা,ভাড়া।মাথা পিছু আয় ডলারের অংকে উর্ধমুখী। দেশের কথা জানিনা।বিদেশে আইসা কোন শ্বশুরের বেটা বেটি তদবীর করে না।কোন কাজ খুইজা দেয় না। বিদেশে আসাও নিজের ইচ্ছায়।বিদেশে কোম্পানি গুলা বেতন স্থির রাখে,কম করে নয়তো চাকরী থেকে ছাটে।বাড়িতে সবাই বকে কি এমন দিয়া উল্টাইয়া ফালাইতাছ। খাওন,পোষাক শিক্ষা চিকিৎসাই তো।সে একই ডাইল,একই ভাত, ফাষ্ট ফুডে যাই নাই,গহনা কিনি নাই,পিকনিক করি নাই।তাইলে কি বাবর আলীরাই ফুর্তি করে। দেশের মতো বিদেশে ও খরচ উর্ধ মুখী। আগে দিনে দশ ডলার এ চলতো এখন বিশে হয়না। ঘর ভাড়ার অংক অনেক বেশী।সিট ভাড়া আগে ছিলো ১৫০-১৮০ এখন ২৫০-৩০০, ছোট খুপরি ৫০০-৮০০, কিন্তু বেতন এর কাঁটা একই জায়গায়।বাড়িতে ফোন করলেই টিটকারী মারে, খাইছ,নিশ্চই ভালো।বাবর আলীর জবাব,প্রবাসীরা খাওয়ার টাকা বাঁচায় বলেই দেশের খাবারের প্লেটে খাবার উঠে।একটা মাসে একটু এ দিক সে দিক হইলেই বাজেট ফেল।বাপ মা বউ ভাই বন্ধু কেউ বিশ্বাস করে না,প্রবাসীর কষ্ট।একমাত্র যারা প্রবাসের বন্ধু যারা এক জন আরেক জনকে ধার দেনা দেয়,যারা এক বিছানায় থাকে,এক প্যাকেটের খাবার শেয়ার করে তারা বিশ্বাস করে। কথায় কথায় বাড়ির লোকজন অন্যের আয়ের সাথে তুলনা করে।প্রবাসের সবার আয় সমান নয়,শিক্ষা বেশী হলেই আয় বেশী নয় বুঝতে চায় না।আজকাল দেশের জীবন যোদ্ধারা বিদেশী মানে প্রবাসী জীবন যোদ্ধাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা শুরু করছে,হিংসা করে।বিদেশে কি আছে একবার দেখতে চায়,আর এসেই ফেঁসে যায়। দশ পনর বছর ধরে যারা বিদেশে পড়ে আছে তাদের সাথে বেতনের তুলনা করে।খুব কম লোক আছে দুই এক ডলার বেসিক বাড়ছে বা ফিক্সড সেলারী হইছে। সিঙ্গাপুরে একটা বৈষম্য মুলক বিষয় লক্ষনীয় সেটা হলো নতুন পুরাতন সবার একই সেলারী আঠার ডলার। অনেক লিখেছি কাজ হয় না,তবু লিখি। বাংলাদেশীদের কর্ম সুযোগ ভালো নয় সিঙ্গাপুরে।আসতে সাবধান।এল টি এর কাজ কিছু থাকলেও বিল্ডিং আর মেরিনের অবস্থা খুব খারাপ। বেতন নিয়ে কথা বলা দুরের কথা চাকরি নিয়ে ভাবনা।কত কোম্পানি গুটিয়ে নিচ্ছে। প্রবাসিরা দেশে গেলে আবার ছুটে আসে প্রবাসে। দেশে না থাকতে থাকতে প্রেম ভালবাসা আদর এমনকি কর্মের সাথে অপরিচিত হয়ে যায়। একবার দেশ যে ছাড়ে দেশ মুখ ফিরিয়ে নেয়,প্রকৃতি বিমুখ হয়,যদি দু এক জন থেকেও যায়,দেশে সেটেল হতে চায়, তার মতো কঠিন অবস্থায় যে পড়ে সেই বুঝে। তাকে শুরু করতে হয় একেবারে শুরু থেকে। বাবর আলী বরাবরের মতোই বলছে,দেশ ছেড়ে এসো না প্রবাসে,অভিশপ্তরাই প্রবাসে আসে,বার বার আসে।জীবনের গতিটাকে মা মাটি মানুষের মতো রেখো।জীবন যাত্রার মান দেশীয় ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল হোক। যে কবছর প্রবাসির কর্ম থাকবে বিন্দাস চলবে পেটে ভাতে।কর্ম নেই,পাশের মেয়াদ শেষ,কোম্পানী ক্লোজ সব ফুস।নিজেই নিজেকে চিনবে না। এখন অনেক দিন পর দেশে গেলে পরিবার বন্ধু বান্ধবের কদর, যখন কর্মহিন তখন কেউ বসতেও বলবেনা যদি জমা না থাকে।জমা ক জনার থাকে,এখানেতো খরচের টাকা তুলতেই বছরের পর বছর লেগে যায়।আসতে কত লক্ষ খরচ বহুবার বলেছি দিন ক্ষন মাস হিসাব করে বলেছি।লাভ নেই তাও বলি দম থাকতে দেশ ছেড় না।তা না হলে দম থাকতে দেশে যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেই থাক তোমার কষ্ট নয় সমুদয় মোটের গড় করিয়া আয় নির্ধারন করিবেন,টেবিল চাপড়াইবেন। আপনি প্রবাসি ভবঘুরের মতো চুল ছিড়িবেন। দু এক জন ভালো থাকলেই সব প্রবাসী ভালো থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন আসছে বাবর আলী কেন দেশে ফিরছে না।উত্তর যদিও দেয়া আছে এক কথায় বলি, প্রবাসী মানে একটা ফরম্যাট,জীবনের ফরম্যাট,বেঁচে থাকার ফরম্যাট, মৃত্যু ছাড়া খুব কম প্রবাসি বেরিয়ে আসতে পারে ফরম্যাট থেকে।
সিঙ্গাপুর, ২-২-২০১৭ ইং
ক্রিসেন্ট টু কালাং,কালাং টু সেরাংগুন, ভায়া মোস্তফা,
৭-৮টা রাত,ফেরার পথে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:১৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×