প্রবাসি একটা ফরম্যাট
জাহাঙ্গীর বাবু
বেতনের কাঁটা একই জায়গায় আটকে আছে।২০১২ সাল থেকে।দেশ ডিজিটাল হয়েছে।জিনিষ পত্রের দাম বেড়েছে।গাড়ি ভাড়া,বাসা,ভাড়া।মাথা পিছু আয় ডলারের অংকে উর্ধমুখী। দেশের কথা জানিনা।বিদেশে আইসা কোন শ্বশুরের বেটা বেটি তদবীর করে না।কোন কাজ খুইজা দেয় না। বিদেশে আসাও নিজের ইচ্ছায়।বিদেশে কোম্পানি গুলা বেতন স্থির রাখে,কম করে নয়তো চাকরী থেকে ছাটে।বাড়িতে সবাই বকে কি এমন দিয়া উল্টাইয়া ফালাইতাছ। খাওন,পোষাক শিক্ষা চিকিৎসাই তো।সে একই ডাইল,একই ভাত, ফাষ্ট ফুডে যাই নাই,গহনা কিনি নাই,পিকনিক করি নাই।তাইলে কি বাবর আলীরাই ফুর্তি করে। দেশের মতো বিদেশে ও খরচ উর্ধ মুখী। আগে দিনে দশ ডলার এ চলতো এখন বিশে হয়না। ঘর ভাড়ার অংক অনেক বেশী।সিট ভাড়া আগে ছিলো ১৫০-১৮০ এখন ২৫০-৩০০, ছোট খুপরি ৫০০-৮০০, কিন্তু বেতন এর কাঁটা একই জায়গায়।বাড়িতে ফোন করলেই টিটকারী মারে, খাইছ,নিশ্চই ভালো।বাবর আলীর জবাব,প্রবাসীরা খাওয়ার টাকা বাঁচায় বলেই দেশের খাবারের প্লেটে খাবার উঠে।একটা মাসে একটু এ দিক সে দিক হইলেই বাজেট ফেল।বাপ মা বউ ভাই বন্ধু কেউ বিশ্বাস করে না,প্রবাসীর কষ্ট।একমাত্র যারা প্রবাসের বন্ধু যারা এক জন আরেক জনকে ধার দেনা দেয়,যারা এক বিছানায় থাকে,এক প্যাকেটের খাবার শেয়ার করে তারা বিশ্বাস করে। কথায় কথায় বাড়ির লোকজন অন্যের আয়ের সাথে তুলনা করে।প্রবাসের সবার আয় সমান নয়,শিক্ষা বেশী হলেই আয় বেশী নয় বুঝতে চায় না।আজকাল দেশের জীবন যোদ্ধারা বিদেশী মানে প্রবাসী জীবন যোদ্ধাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা শুরু করছে,হিংসা করে।বিদেশে কি আছে একবার দেখতে চায়,আর এসেই ফেঁসে যায়। দশ পনর বছর ধরে যারা বিদেশে পড়ে আছে তাদের সাথে বেতনের তুলনা করে।খুব কম লোক আছে দুই এক ডলার বেসিক বাড়ছে বা ফিক্সড সেলারী হইছে। সিঙ্গাপুরে একটা বৈষম্য মুলক বিষয় লক্ষনীয় সেটা হলো নতুন পুরাতন সবার একই সেলারী আঠার ডলার। অনেক লিখেছি কাজ হয় না,তবু লিখি। বাংলাদেশীদের কর্ম সুযোগ ভালো নয় সিঙ্গাপুরে।আসতে সাবধান।এল টি এর কাজ কিছু থাকলেও বিল্ডিং আর মেরিনের অবস্থা খুব খারাপ। বেতন নিয়ে কথা বলা দুরের কথা চাকরি নিয়ে ভাবনা।কত কোম্পানি গুটিয়ে নিচ্ছে। প্রবাসিরা দেশে গেলে আবার ছুটে আসে প্রবাসে। দেশে না থাকতে থাকতে প্রেম ভালবাসা আদর এমনকি কর্মের সাথে অপরিচিত হয়ে যায়। একবার দেশ যে ছাড়ে দেশ মুখ ফিরিয়ে নেয়,প্রকৃতি বিমুখ হয়,যদি দু এক জন থেকেও যায়,দেশে সেটেল হতে চায়, তার মতো কঠিন অবস্থায় যে পড়ে সেই বুঝে। তাকে শুরু করতে হয় একেবারে শুরু থেকে। বাবর আলী বরাবরের মতোই বলছে,দেশ ছেড়ে এসো না প্রবাসে,অভিশপ্তরাই প্রবাসে আসে,বার বার আসে।জীবনের গতিটাকে মা মাটি মানুষের মতো রেখো।জীবন যাত্রার মান দেশীয় ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল হোক। যে কবছর প্রবাসির কর্ম থাকবে বিন্দাস চলবে পেটে ভাতে।কর্ম নেই,পাশের মেয়াদ শেষ,কোম্পানী ক্লোজ সব ফুস।নিজেই নিজেকে চিনবে না। এখন অনেক দিন পর দেশে গেলে পরিবার বন্ধু বান্ধবের কদর, যখন কর্মহিন তখন কেউ বসতেও বলবেনা যদি জমা না থাকে।জমা ক জনার থাকে,এখানেতো খরচের টাকা তুলতেই বছরের পর বছর লেগে যায়।আসতে কত লক্ষ খরচ বহুবার বলেছি দিন ক্ষন মাস হিসাব করে বলেছি।লাভ নেই তাও বলি দম থাকতে দেশ ছেড় না।তা না হলে দম থাকতে দেশে যেতে পারবে না। ক্ষমতায় যেই থাক তোমার কষ্ট নয় সমুদয় মোটের গড় করিয়া আয় নির্ধারন করিবেন,টেবিল চাপড়াইবেন। আপনি প্রবাসি ভবঘুরের মতো চুল ছিড়িবেন। দু এক জন ভালো থাকলেই সব প্রবাসী ভালো থাকেনা। তাহলে প্রশ্ন আসছে বাবর আলী কেন দেশে ফিরছে না।উত্তর যদিও দেয়া আছে এক কথায় বলি, প্রবাসী মানে একটা ফরম্যাট,জীবনের ফরম্যাট,বেঁচে থাকার ফরম্যাট, মৃত্যু ছাড়া খুব কম প্রবাসি বেরিয়ে আসতে পারে ফরম্যাট থেকে।
সিঙ্গাপুর, ২-২-২০১৭ ইং
ক্রিসেন্ট টু কালাং,কালাং টু সেরাংগুন, ভায়া মোস্তফা,
৭-৮টা রাত,ফেরার পথে।

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



