
জাহাঙ্গীর বাবু
এসো হে বৈশাখ এসো অনাহারে থাকা
অবুঝ শিশুর ঘরে।এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
ইলিশ না হোক পান্তার সাথে হোক পেয়াজ কাঁচা লংকা।
অভুক্ত উদোর হোক পুরণ
তোমার আগমনে,এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
লাল পাড়,সাদা শাড়ি নয়, জর্জেট,কাতান,রেশমী বাহারী নয়
মোটা খাদের কাপড় নিয়ে এসো,ভিখারী মায়ের কাছে।
লজ্জা ঢাকুক,ছেঁড়া, জরাজীর্ণ ছেড়ে,বাৎসরিক নববর্ষের আমেজে।
রমনার বটমূলে এসো,আনন্দ শোভা যাত্রায়,
এসো সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রিয় অগ্রগামী মানুষের কাছে
ধনীর দুলাল দুলালীর বিনোদনে,গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেয়া
অফুরন্ত উচ্ছাসী প্রজন্মের কাছে,এসো হে নব বর্ষ,হে বৈশাখ ।
সেই সাথে এসো মৌলিক অধিকার বঞ্চিত মানুষের কাছে।
মক্তবে,এসো,এতিম খানায় এসো,বৃদ্ধাশ্রমে,
ফুটপাতে,ষ্টেশনে,বাস স্ট্যান্ডে,লঞ্চ ঘাটে
নদী ভাঙ্গা ছিন্নমূল মানুষ নামের প্রাণীর কাছে এসো।
এসো হে বৈশাখ স্বনির্ভরতার,বৈষম্যহীন বারতা নিয়ে,
সম্প্রীতি,সৌহার্দের কথা শুধু কাগজ,কবিতা,
ভাষণ, বয়ানে বিরুধিতায়,ভীরুতায় নয়
খোলশ ছেড়ে সমঝোতা,ধৈর্য্যের পয়গাম নিয়ে
পুরাতন যন্ত্রনা মুছে দাও সৃষ্টিকর্তার হুকুমে।
এসো প্রবাসের বাংলাদেশীদের কাছে
উৎসব উল্লাসে থাকুক
দরিদ্রের দারিদ্রতা মোচনের অঙ্গীকার।
ভাগাভাগি করে খাই পান্তা,ইলিশ,
মৌলিক অধিকার,স্বাধীনতা, স্বাধিকার।
দুর্নীতি,ঘুষ,অহংকারের জরা হোক বিসর্জন
মানবতার সেবায় নিবেদিত হোন তন মন।
আপত্তি নেই যেখানেই আসো,
এসো হে বৈশাখ ভূলোনা যেতে গরীবের ঘরে।
ধনীর উল্লাস হতে পারে গরীবের এক বেলা আহার।
যারা বলেন,এ করো না,ও করোনা, এ করো ও করো
শিরক গুনাহ ছেড়ে পুন্যের কাজ করো,
তারাই শুরু করে দিন।
শুরু হলেই দৃষ্টান্ত হবে,নিজে করে দেখিয়ে দিন,
সাধ্য মতো হোক ভালো কাজ।
লাঠি, বন্দুক,কথার ঝাঁজালো ঘায়েল বন্ধ হোক
সৎ কররমের প্রদর্শনে।
এসো হে বৈশাখ, নেই বাঁধা,এসো এসো।
সবার ঘরে এসো,এসো আমার ঘরে,এসো প্রবাসের কর্মস্থলে।
সিঙ্গাপুর
১৪-৪-২০১৮ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




