নেতা কে?
জাহাঙ্গীর বাবু
শিক্ষিত যোগ্যতা সম্পন্ন লোক তিনি নিঃসন্দেহে।রাষ্ট্রীয় মহারথি বটে।জীবনের প্রথম দর্শন গত কয়েকদিন পুর্বে।ঈদেরপুণর্মিলনীতে।না দেখে বিগত কয়েক বছর তাকে নিয়ে লিখেছি তিনি নির্বাচিত হন,নমিনেশন পান।এতো শিক্ষিত,সমাদৃত!
কিন্তু প্রথম দর্শনে।হতাশ হয়েছি তার আচরনে।
না আমার সাথে নয়।অন্য কারো সাথে।আমি ছিলাম সেখানে। যে লোকটি অনেক বছর ধরে তার লেখনীতে,সংবাদে তুলে ধরেছেন তাকে,
সে দিন না সালাম,না দোয়া,না ঈদ মোবারক।ঘ্যাচং করেই তার সন্মানে আঘাত!
কোন সমস্যা থাকলে তাকে আড়ালে নিয়ে বলতে পারতেন।না হুট করে বলে ফেললেন।ফলাফল, তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে যুক্তি দিয়ে,রুঢ় ভাষায় শুনতে হলে আরো বেশি।জন ত্রিশেক মানুষতো ছিলেন সেথায়।
দ্বিতীয় দেখা এক জানাজায়, তার মুখে হাসি থাকলেও,কথায়, মনে হয় মিছরির ছুরি,সৌজন্যতায় যেন কৃপনতা,অহংবোধের মিশেল,মনে দারুন আশা ছিলো তার মতো শিক্ষিত জ্ঞানী,আন্তর্জাতিক সন্মানিত ব্যাক্তি হোন সাংসদ।
হাড়ির ভাত সব যাচাই করতে হয়না।তাই তার অটো কিংবা টেকনোক্রেট মন্ত্রী হবার যোগ্যতা থাকলেও তৃনমুল নেতা কিংবা ভোটের নির্বাচনে নেতা হবার সামর্থ্য নেই,অর্থের বিনিময়ে নয়,মানুষের ভালোবাসায়। নিঃসন্দেহে বলা যায়।
ফেসবুক ভিডিও ফুটেজ দেখেছিলাম অনেক আগে, তার বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা কোন এক সমাবেশে,সেখানে তার সমর্থকদের টিপ্পনী মার্কা ভাষনকে রাজনীতি ভেবে ভুল করেছিলাম,আসলে নেতাই তো টিপ্পনীবাজ।তিরস্কার করা তার সুশিক্ষার আড়ালে এক বিষাক্ত শিক্ষার নিষিদ্ধ অধ্যায়।
তিনি পলিটিশিয়ান নন,তিনি মানবিক কিনা সন্দেহ আছে।অবশ্য দেশে কেইবা পলিটিশিয়ান।সবার ভেতর অহংকার ভরপুর।তাদের পাশে চামচা,চামুন্ডায় টুইটুম্বুর।অর্থের ছড়াছড়ি,মোটর বাইক বিলানো ফ্যাশন এখন রাজনীতির কালচারে। সভ্য লোকের ঠাঁই কোন নেতার কাছে। ক্ষমতার কাছে নতজানু বিবেক আমাদের।দিন শেষে পকেটে কিছু আসবে, নেতার পিছু ঘুর ঘুর,অপেক্ষা তীর্থের কাকের মতো।
দল একটা,প্রত্যাশী একের,দুইয়ের,তিনেরও অধিক। মনোনয়নের দৌড়,ঝাঁপ,কোলাকুলি,সংযোগ, দাওয়াত,মাইয়াতে অংশ নেয়া দেখলে কেউ হাসে,কেউ কাশে,আমার মতোরা মেতে উঠে সেল্ফিতে।
নির্বাচন আসছে,কি হবে কি হতে পারে তা গলির মোড়ের চায়ের দোকানে ময়লা জগ,গ্লাস,চায়ের কাপ ও জানে।শুধু শুধু টকশোতে পাতানো অভিনয়ের দিকে হা করে তাকিয়ে দেখে নিজেকে বুদ্ধিজীবী ভাবি!
জন কল্যান করতে মন আর ধন, অর্থ থাকলেই হয়,সাংসদ কিংবা স্ট্যাম্প করা পদ লাগেনা। নমিনেশন নিতে কিংবা চামচাদের জন্য ব্যয় কৃত অর্থ দিয়ে জনসেবা করলে এলাকা গুলো সোনায় মোড়ানো যেত।অবশ্য দেশের জাতীয় পতাকা শোভিত গাড়িতে একবার চড়ার স্বাদইতো এলাকার জনগন কিছুটা হলেও উপকৃত হওয়া।নাই মামার চেয়ে কানা মামা আর কি?
সাধারন একটা বিষয়,নাক দিয়ে দুধ পড়া বালকেরা নেতার ছবি সিম্বলিত ব্যানার দিয়ে যখন আকাশ ঢেকে দেয়ে,অন্যের ইমারতে বাতাস ঢোকা বন্ধ করে। যৌণ ওষুধ বিক্রির মতো হেন জায়গা নেই পোষ্টার ব্যানার ল্যাপ্টে দিচ্ছেনা,নোংরা করছে পরিবেশ,নেতা তার ছবি দেখে খোশ,ডিশের তার দিয়ে সরকারী পিলার টু পিলারে প্রদর্শন করে জনজীবনের জড়িয়ে জাওয়া জঞ্জাল্ময় কাহিনী,ভগ্ন রাস্তায় দামী স্প্রিং সংযোজিত গড়িতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসে ভাবেন এ দেশে রাস্তা ঘাট আরামময় তাদের কাছে জনগন গিনিপিগ ছাড়া আর কিছু নয়। চলছে নাটক নির্বাচন পূর্ববর্তী।
সে দিন এক সংবাদ কর্মী বলছিলেন এক নেতার পোষ্টার তুলে আরেক নেতার পোষ্টার চিপকানো হচ্ছে।আর চলছে বিয়ে,জানাজা,কুলখানিতে নেতাদের অংশ গ্রহন। অনেকে করছেন ম্যারাথন জনসেবা।সেল্ফি প্রোগরাম।আমি আমরা সেল্ফির আশায় মেলচ্ছি একই হাত নানা হেভী ওয়েট হাতে।
যাক এ দেশে, বাবর আলীরা পেরেশান হলেও কিছু যায় আসেনা কারো। রাজনীতি যাই হোক,ভালো ব্যাবহার, আচরণ বইয়ের পাতায় শেখায় না। ইহা আল্লাহ প্রদত্ত,পারিবারিক শিক্ষা,চারপাশের পরিবেশের শিক্ষা।
যাকে দিয়ে শুরু তাকে দিয়ে শেষ করি,বলি শিক্ষিত হলেই শিক্ষক হওয়া যায়না।ফাস্ট ক্লাস সিটিজেন কিংবা টাকার কুমির যখন গায়ের কিংবা পাড়ার কাদামাটিতে নামেন,তিনি সৎ উদ্দেশ্য কিংবা মানবতা,জনসেবায় নয়,নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্যই নামেন।আর যারা স্লোগান দেয় স্বার্থে,অর্থের টানে,দেশ প্রেম নয়।পেটের জ্বালায়। লেখার প্রেক্ষাপট একাত্তর নয়,বর্তমান।
উচ্চ শিক্ষিত হলেই তিনি জন প্রতিনিধি হবেন তা নয়, এ দেশে অর্থ থাকলেই নেতা হওয়া যায়। নেতাগিরি কেনা যায়।
মেম্বর,চেয়ারম্যান,কমিশনার,এম পি, মিনিস্টার,দলীয় নেতা ইত্যাদি হওয়া যায়,জন মানুষের নেতা হওয়া যায়না। অবশ্য এখন সাধারন মানুষের কোন ক্যাটাগিরি রাখেনি,ভাগ করে দিয়েছে রাজনিতিক পরিচয়ে,ধর্মের পরিচয়ে।
মনে প্রশ্ন জাগে নেতা কে?
বাবর আলী হুদাই পেরেশান!
৩-৮-২০১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




