somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
ঘামের কালিতে হৃদয়ের কোরা কাগজে লিখি শ্রম সাহিত্য

করোনার থাবায় যেতে পারিনি আব্বার কবর জিয়ারতে

২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৬:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
অফিস কোয়ান্টারেন থেকে বলছি-
-
জাহাঙ্গীর বাবু


২৩ এপ্রিল ২০১৯ আমার হিরো আমার বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যান পরপারে,নির্দিষ্ট গন্তব্যে,না ফেরার দেশে ।আব্বা ছিলেন আমার বন্ধুর মতো।দেশে গত বছর অল্প কয়েকদিন, দেড়মাস,একটা কোম্পানীতে কাজ করি,কাজের প্রতি ঈমানদারী দেখাতে গিয়ে আব্বাকে শেষ দেখাটা।দেখতে পারিনি।অথচ তার পুর্বে প্রায় দেড় বছর এক টানা।আব্বাকে নিয়ে ঢাকা,নোয়াখালী ফেনীর হাসপাতালে ঘুরে বেড়িয়েছি।


কথায় আছে শেষ ভালো যার সব ভালো তার,মনে হয় বাবার জন্য যে টুকু করার তা করতে পারিনি,তাই শেষ মুহুর্তে স্পর্শ পাইনি। বাবা মায়ের নেক সন্তানরাই শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দোয়া আর দয়ায় থাকে তাদের পাশে।বুকে বাবা হারানোর চাপা কষ্ট আমার,বাবার মৃত্যুর পর আমার অর্ধেক পৃথিবী অন্ধকার। আপনজনদের আর আপন মনে হয়না।বাবার ছায়ায় সবাইকে আপন মনে হতো বেশি। বাবা কষ্ট পাবে এমন কাজ যাতে না হয় খেয়াল রাখতাম,বাবার রাগের চেয়ে অভিমান ছিল বেশি,প্রতি দিন দুইবার কল করতেই হবে,অবশ্য আব্বাই বেশি কল দিতেন।৯৫ সাল থেকে কর্ম জীবন,২০১৬ সালে প্রথম নিজের ব্যাংক একাউন্ট করি তাও বাবার হুকুমে। তার আগে ১ আর ১০০ সবই ছিল বাবার,বাবাকে আব্বা ডেকেই অভ্যস্ত ছিলাম।


অনলাইনে লেখালেখি অনলাইনের শুরু থেকেই, আব্বাকে নিয়ে কত লিখিছি, তার মধ্যে আব্বার উক্তি " বাবা হলেই বুঝবি" আমার বাবা আমার হিরো প্রথম আলো সহ বিভিন্ন পত্রিকায়ও আসে। চিঠির যুগে আব্বা আমাকে প্রচুর চিঠি লিখতেন,অনেক পাতার চিঠি ,সৌদি আরবে যখন ছিলাম, ৯৭/৯৮ এর দিকে দেশের খবর,রাজনীতি,পারিবারিক,সামাজিক সব খবর লিখতেন চিঠিতে।পরে মোবাইল যুগ চলে আসে.আব্বার কাছে থাকলেই বেশি খুশী হতেন। তিনি চাইতে দেশে চাকরী করে থিতু হই,তাই হয়তো মৃত্যুর দিন বিকালে সন্ধ্যায় সবাইকে কল দিয়েছেন নিজ থেকে,মামাতো ভাই পলাশ ও বলেছে,আব্বা বলেছিলেন, বাবুর নতুন চাকরী, ওকে কিছু বলার দরকার নেই,শুনলে চলে আসবে।আহ আব্বা,কতো লিখবো আপনাকে নিয়ে! শেষ যে হবেনা গো আব্বা।


আলেম,মাওলান,এতিম,মসজিদ,এতিমখানা ছিল আব্বার প্রিয়।একবেলা খাওয়াতে পারলে খুশি হতেন,সাহায্য করতে পারলে খুশি হতেন।মৃত্যুর আগে অনেক আলেম,ইমাম , মাওলানাদের কাছে সাবেক কলিগদের কল দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। আমার স্ত্রীকে ফোন করে
বলেছিলেন দেশে ,বাবুর নতুন চাকরী ও থাক,তোমার স্যালাইন শেষ হলে চলে এসো,জামাই আসতেছে ওদের জন্য আয়োজন করতে হবে।আব্বা চলে যাবার পর আমাদের সম্পর্কের সুতা এখন অত্যন্ত্য নরম ছিড়ে যাবে যে কোন সময়।আমার বটবৃক্ষ,সকল সমস্যার সমাধান ছিলেন আব্বা। উনি অভিমান করলে আমি ছিলাম বেহায়া সন্তান। আব্বা আব্বা ডাকলেই ব্যাস, রাগ পানি। আব্বার জন্য আরো করার ছিলো হয়তো করতে পারিনি।এখন নিজেকে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বার্থপর। আরো কত কিছু করার ছিলো, আব্বার জন্য। পুরা জীবনের কথা বাদ দিলে ২০১৮ জুন থেকে ২০১৯ এর মার্চ পর্যন্ত আব্বাকে কত চুমু দিয়েছি, কত হাজার বার দাড়িতে হাত বুলিয়েছি,চোখ,মুখ,বুক পিঠে হাত বুলিয়েছি। আমি শুয়ে থাকলে শিশুর মতো আব্বা পাশে গিয়ে বসতো, পিঠ এগিয়ে দিতো,হাত বুলিয়ে দেয়ার জন্য।


আমায় নিয়ে আব্বা অফিস করেছে ৭৪,৭৫ সালে, আম্মা গ্রামে বেড়াতে গেলে ৮৬ সালে আব্বার সাথে ছিলাম,আব্বা আর আমি,৯৭ সালে বিদেশ যাবার আগে কমলাপুর রেল ওয়েষ্টেশানে কত সময় কাটিয়েছি,ঢাকা পলিটেকনিককে হোস্টেলের সামনে বসে কতো মশার কামড় খেয়ে আমায় না পেয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসে আড়িখোলা বাসায় ফিরেছে ৯৩, ৯৪ সালে,আমি থাকতাম মঞ্চ নাটকে,এলো মেলো স্মৃতিতে চোখের জলে ভাসছি এখন।


লিখছি যখন,এই সময়ে আব্বা ২৩ এপ্রিল ২০১৯ সালে ফেনী হার্টফাউন্ডেশন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আমার ছোট ভাই মাওলানা জাহিদুল ইসলামের হাতের উপর,উপস্থিত ছিলেন বোন ভগ্নিপতি, আমার স্ত্রী তখন অসুস্থ ঢাকা মগ বাজার তার ভাইয়ের বাসায়,স্যালাইন চলছে, ২০০১ সালে আব্বা নিজে পছন্দ করে আমার বৌকে ঘরে তুলেছেন,আমি বিদেশ থাকপিতে আম্মার বড় মেয়ে যখন কোলের শিশু তাকে নিয়ে টঙ্গীতে ছিলেন ,আঠার বছর আমার স্ত্রী কন্যা আব্বার কাছেই ছিল ,আব্বার বৌ সরকারি চাকরি প্রামাইরী শিক্ষক শুরুটা এবং জয়েনিং এর সময় আমি বিদেশে ,আব্বা ছিলেন তার পাশে। আমি ২২ এপ্রিল সকাল থেকে ব্যাগ কাঁধে করে বাড়ি যাবার অপেক্ষায় ছিলাম।রাত ৯ টায় ছাড়া পাই নানা নাটকীয়তার পর,মগ বাজার পোছাই রাত ১১ টায়,২৩ এপ্রিল ১২.১৫ মিনিটে বোনের কল পাই আব্বা নাই,
বহু কষ্টে এক্টা মাইক্রো জোগাড় করি, অসুস্থ্য স্ত্রী ,স্ত্রীর বড় ভাই ,ভাগ্নী,ভাগ্নেকে উত্তরা থেকে ঊঠাই,সকাল সাত টায় বাড়ি পৌছায়, ঘরের মেঝেতে তখন কাপড়ে ঢাকা আব্বার নিথর দেহ।সেই গালে কত চুমু দিলাম।তাও,আব্বা আর উঠে নাই।


আব্বা মিস ইউ,আব্বা আমি অফিস কোয়ান্টারেনে আছি।বোন।,ছোট ভাই,স্ত্রীকে কল দিলাম.....
আল্লাহ তার নামাজি,ফরেজগার,দ্বীনি বান্দাকে জান্নাতে ভালো রাখুন।আমিন।

২৩-৪-২০২০
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০২০ ভোর ৬:৩৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×