somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকরা যদি আস্তিকদের তুলনায় সংখ্যায় একটু বেশি হত, তাহলে তারা কি কখনও আস্তিকদের আক্রমন করে বসত না (?) সোসাল মিডিয়ায় আস্তিকদের বিরুদ্ধে উগ্রমানুষিকতার পোস্ট দেখেতো সেটাই মনে হচ্ছে, নাকি (?)

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভাবছিলাম ব্লগে ধর্ম নিয়ে কোন ধরনের পোষ্ট করব না-কেননা পৃথিবীতে সম্ভবত এই বিষয়টা নিয়েই সবচেয়ে বেশি তর্ক বিতর্ক হয়। তর্ক বিতর্ক আমার একেবারে পছন্দ না। জ্ঞানীরা তর্ক করতে গিয়ে যুক্তি ব্যবহার করেন, কিন্তু মূর্খরা শুরু করেন যুক্তি দিয়ে কিন্তু শেষ করেন রক্ত দিয়ে। আমার এই পোষ্টের কারনে সবার মনে কি প্রভাব পড়ে আগাম বলতে পারিনা।
ইদানিং, কোরবানিরর মৌসুমে কোরবানি নিয়ে ব্লগ, ফেসবুক সহ বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় প্রচুর পোষ্ট দেয়া হচ্ছে। পোষ্টগুলোর বেশিরভাগই উৎসব মূলক। আবার কিছু কিছু কোরবানি বিরোধী পোষ্টও দেখা যায়-যার মাধ্যমে সৃষ্টি হয় ইসলাম বিরোধী আলোচনা। আর এই সুযোগটা নাস্তিকেরা খায় ভাল, এই সুযোগে নাস্তিকদের মানবতা খুব ভালভাবেই উদয় হয়। এত মানবতা যে নাস্তিকেরা কোথায় পায়, সত্য কথা বলতে গেলে শুধু নাস্তিক না- অনেকেরই গায়ে পড়বে। তাই থাক, বেশি মানুষের সাথে ঝগড়া করে লাভ নেই।
নাস্তিকদের কাজ, তারা ধর্মকে ভুল প্রমান করার চেষ্টা করে নিজেদের সঠিক বলে প্রমান করতে চাইবে যে তারাই ঠিক পথে আছে, আর বাকি সব পথ ভূল। আর তাই তারা ধর্মের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লাগে।
আমার মনে হয়, একধরনের ভন্ড নাস্তিকও আছে যারা নাস্তিক সেজে ব্লগে পোস্ট দিয়ে মজা লোটে। অনেক নাস্তিকের পোষ্ট আর মন্তব্যের ধরন দেখেতো তাই মনে হয়।
আবার কিছু কিছু নাস্তিক আছে যারা শুধু ইসলামের বিপক্ষেই কথা বলে।
মানুষের আলাদা আলাদা বিশ্বাস বা চিন্তা ধারা থাকতেই পারে, তবে সেটা নিয়ে এত প্রচার প্রচারণার কি প্রয়োজন। ইসলাম বা অন্য অনেক ধর্মে ধর্মের প্রচারণায় পূন্যের কথা বলা থাকে, কিন্তু নাস্তিকতায়তো সেরকম কিছু নেই যে উঠে পড়ে লাগতেই হবে তাদের চিন্তাগুলোকে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।
কিছু নাস্তিকদের দেখা যায় অত্যন্ত উগ্র মানুষিকতার। অনেক ক্ষেত্রে ধার্মিকদের সাথে যুক্তিতে পেরে না উঠে উগ্রতা প্রকাশ করে। নাস্তিকতা প্রচার করছ ভাল কথা, যুক্তি প্রমান দিয়ে কর। উগ্র মানুষিকতা আর ক্ষোভ নিয়ে নাস্তিকতা প্রচার করা কি প্রয়োজন!
নাস্তিকরা কতটাই উগ্র হতে পারে তা তাদের পোষ্ট দেখলেই অনুমান করা যায়। অনেক পোষ্টে নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে ধার্মীকদের প্রতি নিজেদের প্রচন্ড ঘৃনা ও প্রচন্ড রাগ প্রকাশ করে ফেলে। মনে হয়, কোন সাধু বা কোন ঈমামকে সামনে পেলে গলা টিপে হত্যা করবে।
এরকম রাগ কি শুধু তাদের লেখার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়? এই রাগ কি তাদের মনের মধ্যে থাকেনা? আর রাগের চুড়ান্ত পর্যায় কি মারামারি বা রক্তারক্তিতে চলে যেতে পারেনা?
আমার মনে হয়, নাস্তিকরা যদি সংখ্যায় বেশি থাকত, তবে ধর্মান্ধ মানুষেরা যে হারে মানুষ হত্যা করছে, নাস্তিকরা তাদের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ ধার্মিক হত্যা করত। যেহেতু তারা সংখ্যায় কম, আর শক্তির দিক দিয়ে দুর্বল, তাই তারা তাদের পৈচাশিক রূপ প্রকাশ করতে পারছে না। তাই তারা শুধু ভার্চুয়াল জগতেই রাগটা ঝেরে শেষ করছে।
আসল কথা হল, পৃথিবীতে কোনকিছুতেই শান্তি আসবে না যদি না আমরা আমাদের মনকে সব ধরনের উগ্রবাদ থেকে মুক্তি না দিতে পারি।
পৃথিবীতে অনেক বড় বড় যুক্তিবাদী নিজেদের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে গেছেন। কিন্তু সব সময়ই যুক্তির উপরে যুক্তি ছিল, থাকবে, আছে। সুতারাং আপনি যে মন মানুষিকতারই হন না কেন, যুক্তি দেখাতে গিয়ে শুধু বিশৃঙ্খলাই হবে কোন লাভ হবে না।
তাই বলি, মুসলমানরা কোরবানি দিচ্ছে দিক, তাতে আমারতো কোন ক্ষতি হচ্ছে না। কেন একটা ছোট বিষয়কে বড় আর জটিল করে সমাজে বিশৃঙ্খলা করব। আমরা যদি বেশি তর্ক বিতর্ক না করি, একটা বড় বিষয়ও তুচ্ছ বলে গন্য হতে পারে। আবার বেশি আলোচনা সমালোচনা করলে, একটা ছোট বিষয়ও অনেক বড় সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ একে বলে তিল কে তাল বানানো। এখন আপনিই ভেবে দেখেন, তিল কে তাল বানিয়ে সমাজে গণ্ডগোল সৃষ্টি করবেন, নাকি তিলকে ফু দিয়ে ধুলোর সাথে মিশিয়ে দেবেন।
আবার হিন্দুদের ক্ষেত্রে। হিন্দুরা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান করছে, করুক, পুজায় বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে বাজাক, কেউ কেউ কুসংস্কার বিশ্বাস করে করুক। তাতে আমারতো কোন ক্ষতি হচ্ছেনা। তাহলে আমি কেন সে সব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সমাজে সমস্যার সৃষ্টি করব। আমার যে বিশ্বাস আমার ভেতরেই থাকবে, অন্যের ভেতরে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়োজন কি? আপনি বিজ্ঞান উপাস্থাপন করতে পারেন বিজ্ঞানের মত, সেখানে ধর্মীয় সংগতি অসংগতি খোঁজার কি কোন প্রয়োজন আছে? তাহলে?
সুতারাং ধর্ম আর নাস্তিকতা নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, এগুলোর কোনটি আমাদের ভাল করতে পারবেনা। (আমি একজন নাস্তিকের ব্লগে মন্তব্য করেছিলামঃ আমি চার্লস ডারউইনের তত্ত্বে যুক্ত খুঁজে পাই। আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব বিশ্বাস করি। আরো বিভিন্ন বিজ্ঞানে বিশ্বাস করব যদি তার পেছনে যুক্তি থাকে। তবুও আমি বিজ্ঞান পরে তোর মত ঘোর নাস্তিক হতে পারি নি। মহাজগতে একটি বিন্দু কনা যে কতরহস্যময়-তার ব্যাখ্যা নিখুত ভাবে আজ পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানী দিতে পারেনি। আমার চার্লস ডারউইন আর আইনস্টাইন এর তত্ত্ব যে যুক্তি খুজে পাই, সে তুলনায় স্টিফেন হকিংয়ের তত্ত্ব কোন যুক্তির মাধ্যেই পড়েনা আমার কাছে। বুঝলাম, সব কিছু একটি বস্তু কনার মহাবিষ্ফোরনের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে যা ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়ে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। তারপরেও কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, ওই বিন্দু কনাটির সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল, কেন হয়েছিল? আর মহাবিশ্বের প্রসারন রহস্য কি? এর উওর দিতে গিয়ে আরো যুক্তি হয়ত আবিষ্কার হয়েছে, কিন্তু সেগুলো আরো রহস্যের জন্ম দেয়। এভাবে রহস্যের কোন শেষ নেই। আপনি জীবন নিয়ে যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কথা বলেছেন, সেটাও যুক্তি যুক্ত, অনেকটা বিজ্ঞান সম্মত। যদিও তার মাধ্যমে এখনও প্রান রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না। তবে ভবিষ্যতে হয়ত এই তত্ত্বের মাধ্যমেই প্রান রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যা দেয়া যেতে পারে। এত সবের পরও আমার মনে হয় না, আমি নাস্তিক হয়ে যায়। এমনওতো হতে পারে ঈশ্বর আমাদের এমন একটি ঘোরের মধ্যে রেখেছেন, যেখানে নাস্তিকতাকেই যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয়। হতে পারে, এই ঘোর কাটিয়ে ওঠা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। হতে পারে, ঈশ্বর আমাদের ব্রেইন এমন ভাবে তৈরি করে দিয়েছেন, যেখানে সবসময়ই নাস্তিকতা যুক্তিযুক্তি বলে মনে হবে। আমরা তার বাইরে চিন্তা করতে পারব না। মহাবিশ্বে এমনও অনেক বিষয় আছে, আমরা যা দেখি বাস্তবে তা ঘটেনা, আবার বাস্তবে যা ঘটে আমরা তা দেখিনা। স্বপ্ন দেখার সময় কিন্তু স্বপ্নকেই আমাদের বাস্তব বলে মনে হয়। তখন একবারও মনে হয়না, আমরা যা দেখছি, তা মিথ্যা। অথচ স্বপ্নের দৃশ্যগুলো বাস্তবের দৃশ্য থেকে কত অস্পষ্ট। হতে পারে আমাদের বাস্তবব জীবনটাও এরকম যেখানে যা ঘটতে দেখছি তার সব মিথ্যা। হতে পারে ঈস্বরই এভাবে সাজিয়ে রেখেছেন। কোন উত্তর পাইনি) সুতারাং যার চিন্তা নিয়ে তাকে থাকতে দিন, অন্যের বিশ্বাসে আঘাত করবেন না। সব সময় অন্যের বিশ্বাসের ব্যাপারে একটা কথাই মেনে চলবেন- Its simple, don't make it matter... দেখবেন সব ঠিক ঠাক চলছে। কোন কিছুকেই সিরিয়াসলি নিবেন না, আর কোন কিছুকে সিরিয়াস বানাবেন না। দেখবেন সব কিছু স্বাভাবিক। ভুল বললে ক্ষমা করবেন। সবাইকে Eid Mubarak
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৪১
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×