somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্যাচেলর লাইফে বাসা ভাড়ার নেয়ার কাহিনি ( একটা কেচাল পোসট) ;) ;)

০১ লা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসা ভাড়া নিতে কি পরিমান হুজ্জত পোহাতে হয় টা আর না লিখি। ব্যাচেলর লাইফে আমার সব বন্ধুরাই হয়তো কম বেশি ঐ হুজ্জত পোহানোর মদ্ধ দিয়ে গেছে।মাসের ১০ তারিখ হয়ে গেছে। এখনো কোন বাসা ঠিক করতে পারিনাই। বাসা খুজি ঠিকই , কিন্তু কোন বাসাই মন মতো হয় না। গলির চিপায় খালি সাব্লেট এর TO-LET । তানভিরকে বললাম, এতো বাসা খুজে লাভ নাই। চল সাব্লেত ঠিক করে ফেলি।
সাব্লেতে আগে কোন দিন থাকসস? বন্ধু জিগায়।


থাকি নাই বইলাই তো থাক্মু বলেতে বলতে সামনের TO-Let লাগানো বিজ্ঞাপনে ফোন দিলাম। এক মধ্যবয়েসি মহিলা ফোন ধরল।।আমাদের একটা ঠিকানার সামনে আসতে বলল।বহু চিপা চাপা ডিঙ্গাইয়া ঐ বাসার সামনে গেলাম। বিল্ডিং বাসা। ৫ তালা।জন্মের পর থেকে রঙ ছাড়া।সরি। রঙ করবো কি, প্লাস্টারই তো নাই ।জং ধরা ময়লা রেলিঙে হাতটা ভরাইয়া ৪ তালায় উঠলাম।দরজাটা এতো পুরনো যে জোরে একটা কিক মারলে কলিং বেল ছাড়াই দরজা খুলে যাবে। #:-S
যাক। ঐ মহিলা এসে দরজা খুলল শেষে। :#)
আমরা হাসি মুখে ঢুকলাম। ধুকেই একটা ছোট ডাইনিং স্পেস।ডাইনিং স্পেস বলে অপমান করা হবে।একটা জুতার আলনা আরেকটা ভাঙ্গা কাঠের টেবিল।ভিতরে দুইটা রুম আরেকটা রান্না ঘর। কোন ঘরটা যে আমরা ভাড়া নিতে যাচ্ছি বুঝতে পারতেছিলাম না। B:-) আমাদেরকে ঐ মহিলা দ্রুতই টেনশন মুক্ত করলেন।২টা রুমের রান্না ঘরের লাগোয়া রুমটায় উনি আর উনার মেয়ে থাকেন।
মেয়ে ইন্টারে পড়ে।আর আমাদের পাশের রুম ভাড়া দিবেন। পাশের রুমে সরি পাশের খোপে গিয়ে গিয়ে দেখি সাথে এটাচড বাথ্রুম ও আছে।
তানভীরের মুখ দিয়ে ফট করে বেরিয়ে এল অওাউ!! B:-)
কিন্তু বাথ্রুম দেখেই বেচারা ফুটা বেলুনের মতো চুপসে গেলো। ঐটা এটাচড সলিড টয়লেট। কোন মতে হয়তো গোসল নামে একটু রসিকতা করা যেতে পারে। কিন্তু কাপড় চোপড় ধুমু কৈ? 8-|
মহিলা মেবি পীর টাইপের হবেন। আমাদের মনের কথা উনি চট করে বুঝে ফেললেন। আরে কাপড় চপর ধুইতে গেলে পাশের বাথরুমে কাপড় ধুঁয়া যাবে। :)
পাশের বাথ্রুম মানে তারা যে রুমে থাকেন ঐ রুমের এটাচ বাথ্রুম। আমার সাথে সাথে একটা দৃশ্য বায়স্কোপের মতো চোখে ভেসে উঠল, আমি কাপড় ধুয়ে ঐ বাথ্রুম থেকে বালতি নিয়ে বের হচ্ছি আর ইন্টারে পড়া মেয়ে পা দুলিয়ে পড়া বাদ দিয়ে ফিক করে হেসে উঠছে!! বায়স্কোপটা রোমান্টিক না হরর বুঝতে পারলাম না।
এর ভিতর মহিলা আবার কথা শুরু করলেন।আমরা বাজার করতে পারবনা। কারন এই বাসায় বুয়া রাখা যাবে না।এই মহিলাই এই বাসার ম্যানেজার।মাস শেষে খাবারের থাকা পেমেন্ট করতে হবে।
আমি বলে উঠলাম বাহ !! B:-/
জোরেই হয়তো বাহ বলে উঠলাম। মহিলা আমাকে থামিয়ে দিয়ে আরও যোগ করা শুরু করলেন।ঐ ইন্টারে পড়া মেয়ে নাকি বিবাহিত।হাসবেন্ড খুলনা চাকরি করেন।মাসে দুবার এসে থাকেন। :`>
হায় হায়।ঐ লোক কি তখন রাতে আমাদের সাথে থাকবেন ? না ঐ মহিলা এসে আমাদের সাথে থাকবেন? নাকি আমাদের তখন বাইরে গিয়ে থাকতে হবে? বিশাল এক ক্লাইমেক্স। :-*
এইবারও মহিলা পীরের মতো আমাদের মনের কথা বুঝে ফেললেন।
সমস্যা নেই, ঐ সময় আমি রান্না ঘরে থাকবো।মহিলার চটপট জবাব।
মহিলাকে দেখে এইবার মায়া লাগল।আহহ। সামান্য কয়টা টাকা।এর জন্য কতো কষ্ট, কতো অপমান।
মহিলাকে নিরাশ করতে মন চাইল না।
বাসাটা নেয়া যেতে পারে, কি বলিস?
অবশ্যই।এখনি এডভান্স করে দিচ্ছি। খালাম্মা ঝিগাতলা মোড়েই তো এটিএম বুথ তাইনা?বন্ধুর ঝটপট উত্তর। :``>>

পুনশ্চঃ অবশেষে দুর্দান্ত বাসা পাওয়া গেছে। ঝামেলার শেষ পাওয়া গেছে।


সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:২৭
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×