

পাসপোর্ট হলো সরকার কর্তৃক কোন নাগরিককে প্রদত্ত ট্রাভেল ডকুমেন্ট যা বিদেশ ভ্রমণকালীন সময়ে বহন করতে হয়। বিদেশে ভ্রমণ করলে কিংবা কোন দেশে দীর্ঘ দিন থাকলে ঐ দেশ তার পাসপোর্টে ভিসা লাগিয়ে দেয়। ভিসা ছাড়া অন্য দেশে থাকা যায় না। এটা সেই দেশের আইন অমান্য করার সামিল। কেউ যদি বিনা ভিসায় নিজ দেশ ব্যতীত অন্য কোন দেশে থাকে তাহলে সেই দেশের সরকার তাকে সেই দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিতে পারে। ভিসা ছাড়া অন্যে দেশে থাকা মানে অবৈধভাবে থাকা।
ভিসা ছাড়া অন্য কোন দেশে থাকা একটি অবৈধ কাজ। বর্তমানে মালয়েশিয়াতে অনেক বাংলাদেশী দেখা যায় যারা কোন প্রকার ভিসা ছাড়াই বছরের পর বছর সেখানে থাকছেন। কাজ করছেন। সেই দেশের পুলিশরা এটাকে পুজি করে তাদের কাজ থেকে টাকা খেয়েই যাচ্ছেন।
আমাদের পাশের বৃহৎ দেশ ভারতের পাসপোর্ট দেখুন। এর মেয়াদ ১০ । তারা আমাদের মতো এতো বেশী বোকা নয়।
বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে আমাদের পাশের যে দেশটি এখন বেশী সুনা্ম অর্জন করছে তার নাম নেপাল। নেপালের পাসপোর্ট দেখুন। এটার মেয়াদও কিন্তু ১০ বছর। তারাও আমাদের মতো বোকা নয়। তাদের বুদ্ধি আছে।
আমি যে ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা করতে চাইছি তা হলো পাসপোর্টের মেয়াদ। বাংলাদেশের পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর। এই ৫ বছর আবার কোন কাজে লাগে না। কারণ, পাসপোর্ট যখন ছাপা হয় তখন থেকেই এর মেয়াদ শুরু হয়ে যায়। তাই পাসপোর্ট গ্রহীতা পুরো ৫ বছর মেয়াদ পায় না। আর যারা বিদেশে বসে পাসপোর্টের আবেদন করেন তারা পাসপোর্ট হাতে পান আবেদন করার ২/৩ মাস পরে। ফলে তারা আরো কম মেয়াদ পান। আবার কোন দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দিলে কম পক্ষে ৬ মাস মেয়াদ হাতে থাকতে হবে। আর বিদেশে অবস্থান করে সেখানকার ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে চাইলে পাসপোর্টের মেয়াদ কোন কোন সময় ৫ বছরেরও বেশী থাকতে হয়। এখানে মালয়েশিয়ার কথা বলা চলে।
মালয়েশিয়াতে যারা প্রফেশনাল ভিসায় থাকেন তারা এ সাথে ২ বছর মেয়াদে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারেন। ফলে পাসপোর্ট জমা দিতে চাইলে তার কমপক্ষে ২ বছরের বেশী মেয়াদ থাকতে হবে।আবার যারা সেকেন্ড হোম এর আওতায় মালয়েশিয়াতে আছেন তারা আরো বেশী মেয়াদে ভিসা পান ফলে দেখা যায় তারা তাদের পাসপোর্টের পুরো মেয়াদ কাজে লাগাতে পারেন না।
তাই বাস্তবতার আলোকেই পাসপোর্টর মেয়াদ এখন ১০ বছর কিংবা তারো চেয়ে বেশী করা জরুরী হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে সময়ের চাহিদায় পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা সময়ের দাবি। যারা বেশী বেশী ভ্রমণ করেন তাদের জন্য মেয়াদ কম রাখলেও চলে। কিন্তু যে সব শ্রমিক বিদেশে কাজ করতে যায় তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশী করলেও ভালো হবে। কেননা দেখা গেছে ১০ বছর বিদেশে কাজ করলেও তাদের পাসপোর্টের ১০ টি পাতা ও ব্যবহৃত হয় না। পাসপোর্টের মেয়াদের ব্যাপারটি পাসপোর্ট ধারীদের কাছে উন্মুক্ত রাখা উচিত। কেউ চাইলে ৩ বছর,কেউ চাইলে ৫ বছর কেউ চাইলে ১০ বছর মেয়াদ এর পাসপোর্ট নিতে পারবেন এমন বিধান করা উচিত। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে আমাদের পাশের দেশ ভারতসহ পৃথিবীর অনেক দেশে পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর। ইন্দোনেশিয়ায় ৫ বছর ও ১০ বছর উভয় মেয়াদী পাসপোর্ট চালু রয়েছে।
আরেকটি বিষয় হলো-বিদেশে বিশেষ করে মালয়েশিয়াতে শ্রমিকরা পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবার আগেই রিইস্যু করছেন। যেমন কারো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের মার্চে। কিন্তু তিনি ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসেই রিইস্যু করছেন। ফলে রাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে। এব্যাপারে দূতাবাসগুলোর সচেতন থাকা উচিত।
আমার আবেদন, পাসপোর্টের মেয়াদ ১০ বছর করা হোক। মেয়াদ শেষ হবার কমপক্ষে ১০ মাস আগে রিইস্যু করার ব্যবস্থা করা হোক। তাহলে কাজের চাপ কমবে। রাষ্ট্রের অনেক টাকা বাঁচবে।
আমি সবার কাছে আবেদন রাখছি, আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে এব্যাপারে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

