
দেশটির নাম মালয়েশিয়া। অনেকের কাছেই স্বপ্ন। আমি মনে করি দুঃস্বপ্ন।
আমাদের দেশের গরীব মানুষ জন মনে করে মালয়েশিয়া গেলেই টাকা আর টাকা।
এটা তারা ভাবতেই পারে। তারা সহজ সরল মানুষ। কোন রকম প্যাচগোচ বুঝে না।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- কোন রকমে মালয়েশিয়া গেলেই টাকা আর টাকা নয়।
মালয়েশিয়া যেতে অজস্র টাকা লাগে।
এক জন শ্রমিক কাজ করতে যাবে। তার অজস্র টাকা কেন খরচ করতে হবে? এটা তো লাগার কথা নয়। তবে কেন লাগে?
কারণ- বাংলাদেশে মানুষ বেশী। কোন কাজ নাই। দেশে একটা কাজ পেতে এমএ বিএ পাস ছেলেদের ১০/১২ লাখ টাকা ঘুষ লাগে। বেতন কত পাবে? আমার মনে হয় – বাংলাদেশে ছোট খাট চাকরিতে ঢুকার সময় বেতন ১০/১২ হাজার টাকার বেশী নয়। অথচ এই চাকরি পেতে ঘুষ লাগে ১০/১২ লাখ টাকা।

মালয়েশিয়াতে গিয়ে কোন কারখানায় কাজ পেলে মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা কামাই করা সম্ভব। আপনি এক জন গরীব লোক। মাসে ২০/৩০ হাজার টাকা কামাই করবেন অথচ বখরা দিবেন না তা কি হয়?
তাই শুরু হয়ে গেলে সিস্টেম। নানান আমলাতান্ত্রিক জটিলতা শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশে ও মালয়েশিয়ায়। দুইটা দেশই চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। যারা পত্রপত্রিকা পড়েন তারা জানেন- মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব সাহেব কি পরিমাণ দুর্ণীতি করেছেন। তিনি এখন হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে জেলে যাবার ক্ষণ গুণছেণ। তার বাসায় কয়েক ট্রাক টাকা ( রিঙ্গিত) আটক করা হয়েছে। সোনা, দানা, হীরা মীরা এই সবও কম নয়। তার মানে তার প্রশাসনের নীচে যারা আছে তারাও বেশুমার চালিয়ে গেছে দুর্ণীতি।

যা, বলছিলাম। এক জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় যেতে টাকা লাগে প্রায় ৪ লাখ। আমার প্রশ্ন এটা কেন লাগবে? শ্রমিকটি যে কোম্পানীতে যাবে সেই কোম্পানীর কারখানা বা অফিসে পর্যন্ত পৌছাতে যে টাকা খরচ হবার কথা তার চেয়ে বেশী তো খরচ কথা নয়।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর একটি বাজে বিমান বন্দর যেখানে ট্যাক্সের পরিমাণ পৃথিবীর যে কোন ভালো বিমান বন্দরের চেয়ে বেশী। ফলে ঢাকা থেকে যে কোন বিমানের টিকিট খরচ অনেক বেশী হয়। তবু ধরে নিলাম- ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার বিমান ভাড়া ২০ হাজার টাকা ( মালয়েশিয়া থেকে ৭/৮ হাজার টাকায় ঢাকায় আসা যায়। কারণ তাদের বিমান বন্দরের ট্যাক্স কম। ) । বিমান ভাড়া ২০ হাজারের সাথে তার পাসপোর্ট, ভিসার খরচ আরো ২০ হাজার ধরলেও মালয়েশিয়া যেতে ৪০ হাজার টাকার বেশী লাগার কথা নয়।
তাহলে কেন লাগে ৪ লাখ টাকা???

কারণ সুবিধাভোগী চক্র।
কারণ দালাল চক্র।
১০ হাজার টাকা বেতনের সরকারী চাকরি নিতে ১০/১২ লাখ টাকা খরচ করতে পারেন আর ২০/২৫ হাজার টাকার বেতনের চাকরির জন্য ৪ লাখ খরচ করতে পারবেন না? এটা কিন্তু ভারী অন্যায়।
তাই তারা বাংলাদেশে ও মালয়েশিয়াতে নানান সিস্টেম করে রেখেছেন। এই সব জায়গায় আপনাকে টাকা খরচ করতেই হবে।
দেশেঃ দালাল> এজেন্সী>জনশক্তি অফিস>প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রণালয়>বিমানবন্দর
মালয়েশিয়ায়>দালাল ( বাংলাদেশেী ও মালয়েশিয়ান)> মাইজি> মেডিক্যাল> ইমিগ্রেশন>পুলিশ
উপরোক্ত জায়গা সমূহে অসংখ্য অমানুষ জিহ্ববা বের করে আছে। তারা টাকা খেতে চায়। তাদের চোখ লক লক করছে। তাদের জিহ্ববা দিয়ে লালা ধরছে।
এক জন শ্রমিক ৪ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া আসার পর সে যে কাজ পাবে তাতে শান্তি পাবে না। কেননা, ভাগ্য খারাপ হলে তার মালিক হবে খারাপ। মালিক তাকে মানুষ মনে করবে না। মনে করবে শ্রম দাস। তাকে কিনে না আনা হয়েছে। তার কোন অধিকার থাকতে নেই । অমানুষিক খাটুনি খেটে কোন এক সময় সে পালিয়ে যাবে। ধরবে পুলিশ। পুলিশ নিবে কম পক্ষে ৩ হাজার রিঙ্গিত। এই টাকার জোগাড় করতে তাকে ধার দেনা করতে হবে।
মালয়েশিয়ার পুলিশ হচ্ছে হারে হারামজাদা। এরা অনেক বড় ধরনের অমানুষ। এরা তক্কে তক্কে থাকে কোন বাংলাদেশী পাওয়া যায় কিনা? বাংলাদেশী পেলেই এরা ধরবে। ভিসা পাসপোর্ট থাকলেও থানায় নিয়ে যাবে। তাদেরকে ছাড়িয়ে আনে কোন দেশী ভাই। সহায়তা লাগে দালালের। পুলিশ ৩ হাজার রিঙ্গিত নিলে দালালও কিছু চায়।
আজ আর লিখছি না। সব শেষে আমার প্রস্তাবঃ
জনসংখ্যা কমান। বিদেশে শ্রম-দাস পাঠানো কোন ভালো কাজ নয়।পারলে দেশে তাদের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:২৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



