তারপর?
তারপর একদিন আমি এক বুক ধুকপুকানি নিয়ে পৌরুষের সকল অহংকার বিসর্জন দিয়ে হৃদয় লুটালাম সেই আরাধ্য মৃত্তিকা মানবীর চরণে। ভালোবাসার সাজানো ডালি নিয়ে দাঁড়ালাম তার সামনে, বললাম- সুচিত্রা, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি কি আমার হবে? ক্ষণিক চুপ করে রইলো সে। তারপর কটাক্ষ ভরা দৃষ্টি নিয়ে ঘৃণার আগুনে জ্বলতে জ্বলতে বলল, ভালোবাস? এর আগে তোমারই মতো আরো অনেক প্রেমিক হৃদয় আমাকে একই কথাই শুনিয়েছে বার বার। পরখ করে দেখলাম- তারা কেউ আমায় ভালোবাসেনি, ভালোবেসেছে আমার শরীরটাকে। তুমিও তার ব্যতিক্রম হতে পার না।
আমি কাতর কন্ঠে বললাম, না না সুচিত্রা। আমি তোমাকে সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবাসি। তোমার সমস্ত অস্তিত্ব-তর্জন, সম্পূর্ণ তুমিকেই ভালোবাসি। আমার ভালোবাসায় কোন খাদ নেই, বিশ্বাস করো। সে উচ্চস্বরে হেসে উঠলো। যেন ছোটখাট একটা প্রলয় ঘটে গেল নিমিষে কোথাও। সে কি! বোধহয়, আমার বুকের ভিতরেই। সুচিত্রা বললো, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে- তুমি সেই পুরুষ যে কখনো কোন নারীর দিকে ইতর চোখে তাকায়নি? বাসের ভিড়ের মধ্যে ইচ্ছে করে কৌশলে হাত দেয়নি কোন যুবতীর খোলা পিঠে-বুকে? কোন চঞ্চলা কিশোরীকে দেখে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে সিটি বাজায়নি, বাজে মন্তব্য ছুঁড়েনি? কামুক চোখে পরিমাপ করেনি মেয়েদের স্তন, কোমর আর উরুর মাপ? প্রতিরাতে কামার্ত হয়ে ধর্ষণ করেনি হাজার মেয়েকে, এমনকি পরিচিত জনদেরও?
আমি চিৎকার করে বলে উঠি, প্লিজ, প্লিজ, তুমি থামো। আমি এসবের কিছুই করিনি। তখন সে অবিশ্বাসের হাসি হেসে ভ্রুকুটি করে বললো, তবে তুমি তো পুরুষ নও, তুমি মহাপুরুষ। দু:খিত, আমার কোন মহাপুরুষের দরকার নেই। আমার একজন রক্ত মাংসের সাধারণ পুরুষেরই দরকার। আমি এবার টানটান হয়ে দাঁড়ালাম। তারপর শীতল চোখ মেলে গভীরভাবে তাকালাম তার দু'চোখে। শুষে নিলাম তার চোখের উত্তাপ। তারপর আরো বেশি শান্তভাবে বললাম, সুচিত্রা, আমি ফের তোমার কাছেই আসব সাধারণ মানুষদের লাম্পট্য শিক্ষা শেষে। তুমি অপেক্ষা করো . . . . ।
[/সাইজ]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


