somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[রং=মৎববহ] প্রিয়তমাসু 5: ও আমার দেশের মাটি, কলঙ্কভালে হলে রাজটিকা [/রং]

১৬ ই আগস্ট, ২০০৬ সকাল ৮:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




টানা তিনদিন ঝুম বৃষ্টির পর আজ আকাশের মুখভারটা বেশ কিছুটা কেটে গেছে। তবুও মেঘবালিকাদের ইত:স্তত ঘোরাঘুরি, ওড়াওড়ি চাঁদের চারপাশে- কখনো বা তাকে ঢেকে দিয়ে। এ কি কোন গোপন প্রণয়? সুধাংশুবালা আজ যেন সদ্য যৌবনে পা দেয়া ষোড়শীর মত উছলে উঠেছে ভরা রূপ-লাবণ্যে। তবে কি আজ পূর্ণিমা? হবে হয়তো! কে তার খবর রাখে? কি অদ্ভুত! যে আমি জ্যোৎস্নাকে ভালোবাসতে শেখার পর থেকে এমন একটি চন্দ্রালোকিত পূর্নিমা রাতও কাটাইনি রূপোলি আলোতে অবগাহন না করে, বৃষ্টিকে ভালোবাসতে শেখার পর থেকে বর্ষার প্রথম জলে নিজেকে তুমুল ভেজাতে ভুল করিনি একটিবারও, কষ্টকে উপশম করতে জানার পর থেকে সুনীল শান্ত আকাশের পানে অগনন মুহুর্ত স্থির তাকিয়ে থেকে জীবনের পরম সত্যকে হৃদয়ঙ্গম করতে দেরী করিনি একটুও- সেই আমি সব ভুলে কেমন সম্মোহিতের মতো পার করছি জরতী সময়, একই বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া দিনগুলি। এই দীর্ঘ এক বছরে আমি কোন ফুল দেখিনি, পাখি দেখিনি, নদী-আকাশ-বৃষ্টি-মেঘ কিছুই দেখিনি একান্ত অনুভবের দৃষ্টি মেলে।

কেন আমি সবকিছুর মাঝারে থেকেও বিছিন্ন ছিলাম সবার কাছ থেকে? কেন আমি চোখ থাকতেও দৃষ্টিহীন হয়ে আছি? তার কারণ- এ মাটির সোঁদা গন্ধে আমার হৃদয়ে কাঁপন জাগে না, এই রূপোলি জ্যোৎস্নায় আমার দু'চোখে চাতকের তৃষ্ণা জাগে না, এই বর্ষণে আমার শ্যমিলিমা দেশমাতৃকার চঞ্চলতা নেই।কখনো আপন মনে হয়নি এখানকার কোন কিছুই। তাই একটিবারও ইচ্ছে হয়নি খালি পায়ে হেঁটে যাই অনেকটা পথ- অনুভবে জীবন্ত হয়ে উঠুক মাটির মমতা- যেমনটি আমার দেশের মাটির বুকে পা রাখলে ইচ্ছে করতো। চোখের সামনে কেন জানি আজ বার বার ভেসে উঠছে একটি অসহায় মুখ- কষ্টে ভেঙ্গে যাওয়া একটি বুক- রাজ্যের হাহাকার নিয়ে দেশান্তরী হওয়া সেই মানুষটি- বাবার বন্ধু স্বপন আংকেল। জলের দামে চৌদ্দ পুরুষের ভিটে-মাটি বিক্রি করে দিয়ে, পরিবার নিয়ে শুধু বেঁচে থাকার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন সীমান্তের ওপাড়ে। যাওয়ার সময় সে কি কান্না তার! এতো বড় মানুষটাকে এভাবে বাচ্চা ছেলের মতো কাঁদতে দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম সেদিন। খুব ছোট ছিলাম বলে বুঝতে পারিনি- কতোটা নিরুপায় হলে এক বুক হাহাকার নিয়ে একজন মানুষ তার তিল তিল করে গড়া স্বপ্নের সৌধকে নিজ হাতে কবর দিয়ে পা বাড়ায় অনিশ্চয়তার দিকে। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে স্বপন আংকেল সেদিন মাটিতে প্রণাম করেছিলেন কাঁদতে কাঁদতে। মাটি ভিজেছিলো তার চোখের পানিতে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- সে দাগ এখনো মুছে যায়নি- যাবে না কোনদিন। বাবা তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন খুব, বাবাকে মনে হচ্ছিল ভীষণ অপরাধী- যে জন্য স্বপন আংকেলকে সব ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে বাবা যে সেই সমাজেরই প্রতিনিধি। বাবা পকেট থেকে রুমাল বের করে আংকেলের কপাল থেকে ধুলো মুছে দিতে গেলেন। আংকেল বাধা দিয়ে বললেন- মুছিস নারে, আমার দেশের কিছুই তো সাথে নিতে পারলাম না, এই ধুলোটুকু থাক না হয় কপালে লেগে, এ আমার রাজটিকা।

কালের স্রোতে হয়তো মুছে যাবে সেই ধুলোর দাগ কিন্তু কখনো কি মুছবে বুকের ভেতরের গভীর রক্তক্ষরণের গোপন কষ্টের দাগ?

*** অনুপ্রেরণা : ধুসর গোধূলির একটি পোস্টের প্রেক্ষিতে মাসকাওয়াথ হাসানের "অদ্ভুত আধাঁর এক" উপন্যাসটি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

খ্যাতির বিড়ম্বনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৫


ক্ষেতের মধ্যে কনটেন্ট বানাতে বানাতে নাবালিকা নিয়ে ধরা খেয়ে এখন শ্রীঘরে আছেন ক্রিয়েটর রিপন মিয়া। ২০১৬ সালের দিকে  রিপন মিয়ার যাত্রা শুরু। আম গাছে আম নেই, ঢিল কেন মারো। তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×