somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টাকার টাক-টাই দিলি -2 (রম্য)

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভুলু ভাইয়ের মেজাজ আজ ভীষণ চড়া। আমরাও ভেবে ভেবে দিশেহারা। সবচেয়ে বড় ভাবনার বিষয় হলো, দুশ্চিন্তায় দুশ্চিন্তায় যদি ভুলু ভাইয়ের সবেধন নীলমণি বাকি ক'গাছি চুলও উধাও হয়ে যায় তবে গতি কি?

ভুলু ভাই মৌনতা ভঙ্গ করলেন। 'এই মিল্টু একটা উপায় বের কর বাপ। আর তো পারছি না।' আমরা বিচলিত হই। মিল্টু ইন্টেলেকচুয়্যালের মতো ভাবনার অতলে খাবি খেতে খেতে হঠাৎ আর্কিমিডিসের মতো 'ইউরেকা-ইউরেকা-পেয়েছি-পেয়েছি' বলে চিৎকার শুরু করলো।

আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠলাম। ভুলু ভাইয়ের তর সইছিলো না। তিনি বললেন, ওরকম ষাঁড়ের মতো না চেচিঁয়ে বল না- কি পেয়েছিস?

মিল্টু মুখে গাম্ভীর্য এনে বললো, আপনাকে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটা হলো- অবিবাহিত তরুনীদেরকে আপনার আউট অফ ফোকাসে রাখতে হবে। আপনি বিবাহিত রমণীদের দিকে ফোকাস সেট করুন।

তার মানে? ভুলু ভাই আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করেন, তুই কি আমাকে আরেকজনের বউ ভাগিয়ে নিয়ে যেতে বলছিস নাকি হতচ্ছাড়া?

আরে, না না। আমি বলছি, আপনি অবিবাহিত তরুনীদের বাদ দিয়ে সুন্দরী তালাকপ্রাপ্তা রমণীর সন্ধান করুন। পত্রিকায় দেখেন না, এতো বছরের ডিভোর্সী পাত্রীর জন্য পাত্র চাই . . .। নিশ্চিত- তিন দিনের মধ্যেই ফললাভ করবেন। নতুবা এই টাক মাথা লইয়া ঢাক বাজাইয়া বিয়ে করিবার ইচ্ছা ইহজীবনেও পূর্ণ হইবে না।

ভুলু ভাই চরম ক্ষেপে গেলেন। কি! আমার সাথে ফাজলামো। দেখ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই আমি বিয়ে করবো। এটা জেন্টেলম্যান প্রমিজ।

আমি ভুলু ভাইকে শান্ত করি। কিছুক্ষণ পরে যোগ করি, ভুলু ভাই আসলে মিল্টুর প্রস্তাবটা একেবারে খারাপ না। ওর বুদ্ধি ধরলে আপনি কিন্তু সবকিছু রেডিমেট পেয়ে যেতে পারেন, কোন কষ্ট ছাড়াই।

মানে? খুলে বল।

মানে হলো-এই বিয়ে করা আর বউ-এর সাথে বাড়ি-গাড়ি আর কপাল বেশি ভালো হলে সন্তানও ফ্রি পেয়ে যেতে পারেন।

ভুলু ভাই এবার ভয়ানক বেখাপ্পা হয়ে গেলেন। হ্যাঁ হাতি কাদায় পড়লে চামচিকাও লাথি মারে। আগামী তিনদিনের মধ্যেই আমি বিয়ে করে তোদের দেখিয়ে দেবো। পার্কে আমার সাথে প্রতিদিন সকালে জগিং-এর সময় যে মেয়েটির দেখা হয় ওকেই পটাবো, তারপর বিয়ে করবো। অগ্রিম দাওয়াত দিয়ে গেলাম, নেক্সট শুক্রবার, ভুলিস না যেন। বলেই দাঁত কিড়মিড় করতে করতে হনহন করে হেঁটে চলে গেলেন। যাওয়ার সময় একটা শব্দ স্পষ্ট শোনা গেলো - যতসব হতচ্ছাড়ার দল।

আমরাও ভুলু ভাইয়ের বিয়ে খাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। কিন্তু শুক্রবার দুপুর পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও ভুলু ভাইয়ের কোন খবর নেই। অবশেষে সবাই মিলে সন্ধ্যেয় উনার বাসায় গেলাম। ভুলু ভাই দরজা খুলেই জিজ্ঞেস করলেন, কেন এসেছিস?

আমরা বললাম তোমার বিয়ে খেতে। তুমিই তো শুক্রবার দাওয়াত দিয়েছিলে।

দাঁড়া দাওয়াত খাওয়াচ্ছি, সব ক'টাকে আজ গুলি করে মারবো। বলেই তিনি তার দাদার আমালের ঐতিহ্যবাহী জং ধরা গাদা বন্ধুকটা আনতে গেলেন।

যদিও আমরা জানতাম ওই বন্দুক দিয়ে কখনো গুলি বের হবে না, তবুও দেরী না করে কেটে পড়লাম। দেশে আবার জরুরী অবস্থা চলছে কিনা!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একটা অপরাধ দশটা অপরাধের সুযোগ করে দিতে পারে ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


রাড্ডা হাসপাতালে লুটপাট
ঢাকার মিরপুর এক নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকের ওপর দিয়ে যেন টর্নেডো বয়ে গেছে! গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতের অন্ধকারে ১৫০-২০০ জন দুর্বৃত্ত রাড্ডা ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করে রীতিমতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সক্রেটিস ঈশ্বরের বাণী প্রচার করতেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



সক্রেটিস মানুষের সাথে কথা বলতে ভালোবাসতেন। তিনি যখনই সময়ে পেতেন, মানুষের সমাগম যেখানেই হতো, সেখানেই তিনি বক্তব্য দিতেন। সেই বক্তব্যগুলো ছিলো, সক্রেটিসের ভাষায়, 'দৈব বাণী' বাঁ 'ঈশ্বরের বাণী'। এজন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্ব্বহারা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়।
১৯৪৩ সালে জাপান ভারতে আচমকা বেশ কিছু বোমা হামলা করে। সম্ভবত হিটলারকে খুশি করতেই জাপান এই কাজ করে। একের পর এক বোমা ফেলে মাদ্রাজে (বতর্মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×