somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা বিমান বন্দরে প্রবাসী নির্যাতন : রেজোয়ানের জবানবন্দী

১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লন্ডনের কমিউনিটি টিভি চ্যানেল এস-এর চ্যারিটি ডিপার্টমেন্টের প্রধান ব্যারিস্টার রেদওয়ান হোসেন আজ বিকেলে পূর্ব-লন্ডনের সোনারগাঁও রেস্টুরেন্টে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তাঁর উপর নির্যাতনকারীদের বিচার দাবী করে বলেছেন যারা তাঁকে অত্যাচার করেছে তাদের চাকুরী থেকে বরখাস্ত এবং বিচার করা হোক। নতুবা কোন প্রবাসী দেশে যেতে সাহস পাবেনা। তিনি আজ ঢাকা থেকে ফিরে সরাসরি এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে এ দাবী জানান।

এখানে উল্লেখ্য যে গেল ১৫এপ্রিল ঢাকা জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তাকে যৌথবাহিনীর লোকজন নির্যাতন করে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। তাঁর ভাষ্যমতে গেল ১৫ এপ্রিল তিনি ঢাকায় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে তাঁর মা এবং বোনকে বিমানে তুলে দিতে গেলে নির্যাতনের শিকার হন। তিনি দেশ থেকে ফেরার আগেই চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমেদ-উস সামাদ চৌধুরী, লেস্টারের অধিবাসী আব্দুল মজিদ তাহের এবং ব্যারিস্টার রেদওয়ানের বড় ভাই জাকির হোসেন। ব্যারিস্টার রেদওয়ান বলেন তিনি তাঁর বোনকে প্লেনে তুলে দিতে গেলে টি-এস-ও অফিসের ইফতেখার জাহান নামের একজন কর্মকর্তা তার পরিচয় চান এবং বলেন ‘‘ আপনি এই সীমানায় অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন এবং সাথে সাথে একজন পুলিশকে ডেকে পাঁচজন ডিফেন্স অফিসার তাঁকে উপরে যেতে বলে, তিনি বলেন এরা সকলেই এয়ার ফোর্সের অফিসার। একটি ছোট কক্ষে নিয়ে তাকে মুজিব, আনোয়ার, সাইফুল, দেলওয়ার ও নিজাম নামের পাঁচ কর্মকর্তা তাকে লাঠি দিয়ে ২০/২৫ মিনিট ঠায়, এবং তিনি অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন বলে একটি কাগজে লিখতে বলে। তিনি তাদের কথা মতো রাজি না হওয়াতে একজন পদস্থ অফিসারে সামনে নিয়ে আরো প্রায় আধাঘণ্ঠা পেটায়, এতে তার হাত-পা ভেঙ্গে যায়। তখন তিনি তাদের কথামতো কাগজে লিখেন এবং সাক্ষর করেন। তিনি আরো জানান এর পর তিনি ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ চলে যান সেখানে হাসপাতালে ভর্তি হন। এক্সরে করে দেখতে পারেন তার শরীরে মারাত্মক জখম তখন নিজের লোক দিয়ে ঐসব ক্ষতস্থানের ছবি তোলেন, তার বন্ধু-বান্ধব এবং লন্ডনে চ্যানেল এস এর সাথে যোগাযোগ করেন। চ্যানেল এস কর্তৃপক্ষ ঢাকায় ব্রিটিশ মিশন সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন দফÍরে যোগাযোগ করে তাকে লন্ডনে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।’ এছাড়া তিনি আরো জানান যে ডিজি এফ-আই‘র লোকজন তাকে লন্ডন ফিরতে সহায়তা করেছে।


তিনি বলেন এজন্যে আমি সরকারকে দায়ী করিনা যারা আমাকে নির্যাতন করেছে তাদের বিচার চাই। সাংবাদিকরা তার কাছ থেকে বিষয়টি জানার জন্যে প্রশ্ন করতে চাইলে আগেই বলা হয় তাঁকে কোন প্রশ্ন করা যাবেনা, বলে ব্যারিস্টার রেদওয়ানকে হাসপাতালে নেবার কথা বলে গাড়ীতে করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার পরেও একজন সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন কেন তাঁকে নির্যাতন করা হলো, এর উত্তরে ব্যারিস্টার রেদওয়ান বলেন ঢাকা বিমান বন্দরের কর্মকর্তারা যাত্রীদের উপর নির্যাতন করে হাত লম্বা হয়ে গেছে এ জন্যে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর না দেয়া এবং ব্যারিস্টার রেদওয়ান ঢাকায় কোন হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে সরাসরি হবিগঞ্জ গিয়ে চিকিৎসা নেয়া এবং শুধূমাত্র অবৈধ ভাবে অনুপ্রবেশের কারনে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা ব্যারিস্টার রেদওয়ানের এসব প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ডিজি-এফ আই-এর সহায়তায় রেদওয়ানের লন্ডন ফেরা নিয়ে প্রবাসীদের মাঝে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কেনইবা তাকে অন্যায় ভাবে নির্যাতন করা হবে এর আসল রহস্য উদঘাটিত এটাই কামনা করেন বিলেত প্রবাসী বাঙ্গালীরা।

নন প্র্যকটিস ব্যারিস্টার রেদওয়ান চ্যানেল এস-এর একজন নিয়মিত ফান্ডরাইজার। এছাড়া বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি মসজিদ মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন সময় টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে ফান্ড কালেকশন করেন। গেল ২৯ রমজান তার নিজ এলাকা হবিগঞ্জের ইমামবাড়ী মাদ্রাসার জন্যে ৭০ হাজার পাউন্ড ফান্ড কালেকশন করেন, এখানে উল্লেখ্য যে ২০০২ সালে ঔ ইমামবাড়ী মাদ্রাসার ১২ ছাত্রকে নবীগঞ্জ পুলিশ দিনারপুরের পাহাড় থেকে ট্রেনিংরত অবস্থায় তালেবান সন্দেহে আটক করে। এই সংবাদটি বাংলাদেশ এবং লন্ডনের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়। ২৩ নভেম্বর ২০০২, ৯ অগ্রহায়ন ১৪০৯ দৈনিক হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস ‘‘ নবীগঞ্জের একটি দুর্গম পাহাড় থেকে ১২ সন্দেহভাজন যুবক গ্রেফতার‘‘। শুধু তাই নয় তিনি মাসে ২/৩ বার করে বাংলাদেশে যাতায়াত করেন সেই সাথে মুসলিম এউডের ব্যানারে, আফগানিস্থান, সোমালীয়া, সুদান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্থান প্রবৃতি দেশে যাতায়াক করেন, তার এইসব দেশে ভ্রমনের ফুটেজ গুলো টিভিতেও প্রচারিত হওয়ার পর বৃটিশ গোয়েন্দাদেরও নজর পরে যায় তার উপর। বাংলাদেশের সন্দেহভাজন মাদ্রাসা গুলোর ফান্ডকালেকশনের বিষয়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দৈনিক খবর, দৈনিক আন্দোলনের বাজার, দৈনিক যুগভেরী ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ ‘‘মাদ্রসার নামে জঙ্গীদের কাছে আসছে বিশাল অংকের অর্থ‘‘।


সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোন প্রশ্ন করতে না দেয়ায় অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে গেছে, সন্দেহ জেগেছে সবার মনে ।

প্রথমত আহত হয়ে তিনি কেন ঢাকায় চিকিৎসা না নিয়ে হবিগঞ্জ গেলেন ? এমন গুরুতর আহত কোন ব্যক্তি কি করে বাই রোডে এমন ঝুকি নিয়ে হবিগঞ্জ গেলেন ? হবিগঞ্জ থেকে কেনই বা সেরে উঠা না পর্যন্ত দুই দিনের মাথায় লন্ডন ফেরত আসলেন। লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার বিষয়টি না ভেবে কেন তড়িঘরি করে সংবাদ সম্মেলন করলেন? সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেছেন ডিজিএফ আইয়ের লোক তাকে লন্ডনে আসতে সহায়তা করেছেন, কিন্তু বক্তব্যে তিনি বলেছেন যৌথ বাহিনীর লোকজন তার উপর নির্যাতন চালিয়েছে, বিষয়গুলো কেমন অস্পষ্ট মনে হয়েছে আগত সাংবাদিকদের কাছে। তাহলে ডিজি এফ আই কেন তাকে লন্ডনে আসতে সহায়তা করলেন সেটি তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। এবং মুচলেকার কোন কপিও তিনি সাংবাদিকদের দেখাননি। তাছাড়া শুধু মাত্র এয়ার পোর্টের অনুমদিত স্থানে অনুপ্রবেশের কারনে কারো উপর এমন শারীরীক নির্যাতন কোন ভাবেই যুক্তি সংঙ্গত নয়! সেই সাথে ঢাকা এয়ারপোর্টে এমন একটা ঘটনা ঘটলো কিন্তু ঢাকা সংবাদপত্র গুলো নিরব ভূমিকা পালন করার কারন কি সে বিষয়েও সন্দেহের যুক্তি রয়েছে।

তবে অন্যায় ভাবে যেন কাউকে বিমান বন্দরে হয়রানী করা না হয় এব্যপারে প্রবাসীদের দাবী ছিলো স্পষ্ট। কিন্তু রেজোয়ানের এই অসম্পূর্ণ সংবাদ সম্মেলন জনমনে সন্দেহ বাড়িয়ে তুলেছে।

অন্যায় ভাবে যেন কাউকে বিমান বন্দরে হয়রানী করা না হয় সেই সাথে ব্যারিস্টার রেদওয়ানের বিষয়টির আসল রহস্য উদঘাটিত হোক এটাই কামনা করেন লন্ডনের বাংলাদেশী কমিউনিটি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ সকাল ৯:১৫
১৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×