somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিজড়ারা আমাদের পরিবারেরই সন্তানঃ ওদের প্রতি সহানুভূতি প্রয়োজন সবার আগে

০৯ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিজড়া শব্দটির সাথে আমরা সবাই মোটামুটি পরিচিত। আরবী শব্দ يهاجر বা হিজরী থেকেই এ শব্দটা এসেছে, যার ইংরেজি শব্দ Migrate বা Transfer, বাংলায় যাকে পরিবর্তন, বদল বা বদলানো বলা যায়। এখান থেকেই হিজড়া বা Transgender শব্দের উৎপত্তি।


হরমোনাল জটিলতার কারণে কোন কোন সময় একটি সন্তান না পুরুষ, না নারী এমনই একটা জটিল অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করে। সঠিক কোন লিঙ্গ পরিচয় থাকে না, যাকে লিঙ্গ প্রতিবন্ধীও বলা হয়ে থাকে। এর জন্য বাবা-মা অথবা সন্তান কেউই দায়ী নয়। সরকার এদের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু মানুষ হিসেবে মর্যাদা, সঠিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেননি। আমাদের সমাজে এখনো কিছু ভুল মানসিকতা ও ভুল সংস্কারের ফলে তাদেরকে সমাজ থেকে দূরে চলে যেতে হয়। মা-বাবা বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হয়ে প্রিয় সন্তানকে হিজড়া কমিউনিটির কাছে ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এ ক্ষেত্রে পরিবার পরিজন তথা আপনজন ছেড়ে হিজড়া সন্তানটির অভিশপ্ত একটা জীবনে প্রবেশ ঘটে। যা কখনোই সুখকর নয়। বিষয়টা অত্যন্ত বেদানাদায়ক ও হৃদয়বিদারক।
আমাদের সমাজে বর্তমানে শারীরিক, মানসিক প্রতিবন্ধীরা কিছুটা সুবিধা ভোগের অধিকার পেলেও লিঙ্গ প্রতিবন্ধীরা অর্থাৎ হিজড়ারা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকারই এদের পিছিয়ে রেখেছে। হিজড়ারা সমাজে বঞ্চিত ও নিগৃহীত জনগোষ্ঠী। অশিক্ষা ও কুশিক্ষার কারণে ওরা পিছিয়ে আছে। কিন্তু বাঁচার তাগিদে কিছু পেশা ওরা বেছে নিয়েছে, যা কখনো সম্মানজনক নয়, বরং বিড়ম্বনার। তাঁরা আজ রাস্তায়, গাড়িতে, দোকানপাট, অফিসে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অসম্মানজনক ও অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। সমাজ ও সরকার তা গৌণভাবে দেখছে। অপরাধমূলক হলেও তা আইনের আওতায় আনছেন না। (এ সুযোগটা আবার কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেণির কুচক্রী কিছু লোক, নকল হিজড়া সেজে রাস্তায় নেমে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হচ্ছে এরাও।) সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময় বিব্রত ও বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছে অহরহ। কেউই এসব কাজ ভাল চোখে দেখছি না। সময়ের পরিবর্তনে তাঁদেরকেও ওসব পেশা থেকে ফিরিয়ে এনে সম্মানজনক ভাল পেশায় যুক্ত করা প্রয়োজন।


অন্যান্য প্রতিবন্ধীর মতো হিজড়াদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা উচিৎ। এ জন্য প্রথম চাহিদা শিক্ষা। সঠিক শিক্ষা শুধু হিজড়াদের জন্যই নয়, সমাজের সকলের জন্যই প্রয়োজন। মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেবার শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমরা ধর্ম, জাতি, বর্ণ দিয়ে অনেক সময় মানুষকে বিভাজন করে থাকি। আবার নারী ও পুরুষ হিসেবে মর্যাদার ক্ষেত্রেও চলে বৈষম্য। হিজড়াদের ক্ষেত্রে তো পুরোই বঞ্চনার। নারী, পুরুষ, হিজড়া, ধর্ম, জাতি, বর্ণ, পেশা, ভাষা এসব বিবেচনায় না গিয়ে সকলকে মানুষ হিসেবে বিবেচনায় আনতে হবে সর্বাগ্রে। প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকেই এ শিক্ষাটা অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ।


ইচ্ছে করে কেউ হিজড়া হয় না, বিকৃত ও ব্যাতিক্রম বাদে। লিঙ্গ প্রতিবন্ধকতা ছাড়া তাঁদের আর কিছুতে ঘাটতি নেই। বরং শারীরিক প্রতিবন্ধীর চেয়ে অনেক বেশি কর্মক্ষম তাঁরা। মেধায়ও কোন ঘাটতি নেই, তার অনেক উদাহরণ রয়েছে দেশে-বিদেশে। সুযোগ পেলে প্রতিভার বিকাশ ও প্রকাশ ঘটাতে পারে ওরাও। আমাদের উচিৎ তাঁদের দূরে ঠেলে না দিয়ে নিজের পরিবারে আপন করে ধরে রাখা, সঠিক শিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া। তাঁর প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান দেওয়া। অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতো সবটুকু সহানুভূতি দিয়ে সহযোগিতা করা। সকল পেশায় যথাযোগ্য সুযোগ দিয়ে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করে দেওয়া। যদিও পরিবারের জন্য প্রথম দিকে এটা কিছুটা দুরূহ হবে। পরে একটা সময় সমাজ মেনে নেবে। উদ্যোগটা শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই।
ওদের প্রতি কোন রকম গালাগাল, টিটকারী-টিপ্পনী, বাজে মন্তব্য করে আমাদের মনের দৈন্যতা প্রকাশ না করাই শ্রেয়। কেউ কখনো বলতে পারবে না কার পরিবারে কখন এমন সন্তান জন্ম নেবে। সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে আসুন, মানুষ হিসেবে সকল মানুষকে মর্যাদা দেই। ওদেরকে দূরে ঠেলে বা বাদ দিয়ে নয়, বরং ওদের সাথে নিয়েই সুন্দর একটা পরিবেশ গড়ে তুলতে এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে পারি আমরা, হতে পারি সত্যিকারের সুন্দর মনের মানুষ।
(নেট থেকে ছবিগুলো সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:৫৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিঃশব্দ প্রহর

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



খাস খাতার পাতায় কলম চালাচ্ছিলেন ফরিদা বেগম (৪৫)। রাত তখন সাড়ে সাতটা। চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে পাশে বসা ছোট ছেলে সিয়ামকে (৯) বললেন, "হাতের লেখা এত দ্রুত শেষ করলে হবে?... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশিরা কেন বিজেপির পতন চায়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকলে মনে হয় ভারতের ভাগ্য নির্ধারণের গুরুদায়িত্ব বুঝি এদেশের মানুষের ওপর এসে পড়েছে। ভারতে কোথাও একটু আন্দোলন বা উত্তাপ ছড়ালেই এপারে যেন উৎসবের ধুম পড়ে যায়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×