somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভিনদেশীয় সংস্কৃতি আমাদের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দিচ্ছে

০৭ ই মে, ২০১৭ সকাল ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত কৃষ্টি, কালচার ও চিৎপ্রকর্ষ ইত্যাদি বুঝে থাকি।
আমরা বাংলাদেশী। আমাদের বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। আছে কৃষ্টি ও কালচার।
আমাদের সংস্কৃতিতে বাবা, মা, ভাই, বোন সহ পরিবারের সকলের একত্রে বসবাস করার রীতি ছিল। এখনও কিছুটা আছে।
আমাদের সংস্কৃতিতে বাবা-মা বৃদ্ধ হলে সন্তানরা তাদের কাছে রেখে যত্ন করবে, সম্মান করবে তাদের সব বিষয় খেয়াল রাখবে এটাই ছিল।
আমাদের সংস্কৃতিতে মহিলারা শাড়ি পরবে এবং মেয়েরা ওড়না সহ সেলোয়ার-কামিছ পরবে এ রীতিই ছিল।
সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করবে। সবাই সবাইকে ভালোবাসবে। দেশে শান্তি ও শৃংখলা বজায় রাখবে এটাই আমাদের সংস্কৃতি।
জারি সারি গান দিয়ে গায়ক গায়িকারা মানুষের মন মাতিয়ে রাখবেন, এটাই তো ছিল আমাদের সংস্কৃতি।
কিন্তু আফসোস! আজ আমাদের তরুণ সমাজ এমনকি কিছু কিছু বৃদ্ধও আমাদের সংস্কৃতিকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করছে।
ডিস, ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিকে মিস ইউস করে আমাদের তরুণ সমাজ আজ ইউরোপিয়ান কালচারে অভ্যস্ত হয়ে পরেছে। ইউরোপিয়ানদের অনুসরণ করে মেয়েরা গেঞ্জি প্যান্ট পরা শুরু করেছে। কে কত শর্ট ও আঁটসাঁট পোশাক পরতে পারে, সে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। ছেলেরা ছেড়া প্যান্ট ও তালি লাগানো প্যান্ট ও গেঞ্জি পরতে শুরু করেছে।
চুলের কাটিং দেখলে মনে হয় তার চুলের প্রবলেম রয়েছে অথবা কোন অপরাধের শাস্তির কারণে তার চুল ওভাবে কেটে দেওয়া হয়েছে।
মাঝে মাঝে তো ছেলে মেয়ে চেনাও মুশকিল হয়ে যায়। কাকে যে আপু বলব, কাকে যে ভাইয়া বলব, তা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যাই।
লেকে, পার্কে, রিকশায় সহ সব পাবলিক প্লেসে বয়স্কদের সামনেই তরুণ তরুণীরা নির্লজ্জভাবে একে অপরকে চুমু খাচ্ছে, জড়িয়ে ধরছে ও নানান অনৈতিক কাজ করছে। তাদের বাঁধা দেওয়ার সাহস কারও নেই। এটাতো আমাদের সংস্কৃতি নয়। এটা নির্লজ্জ ইউরোপিয়ানদের অসভ্য সংস্কৃতি।
হিন্দি সিরিয়াল দেখে দেখে সন্তানরা উগ্র হয়ে যাচ্ছে। সামান্য ঘটনায় বাবা- মায়ের সাথে তুলকালাম ঘটিয়ে দিচ্ছে। তুচ্ছ কারণে আত্মহত্যার মত ঘটনাও ঘটছে। কি অবাক!
স্টার জলসা সহ বিভিন্ন হিন্দি সিরিয়ালের কারণে বাড়ছে পরকীয়া। ভাঙছে সুখের সংসার। সন্তান কখনো হারাচ্ছে তার মাকে, কখনো হারাচ্ছে তার বাবাকে। কখনো নিজেই খুন হয়ে পরকীয়ার বলি হচ্ছে।
দেশে এখন বৃদ্ধাশ্রম হয়েছে। বাবা-মাকে বৃদ্ধ বয়সে কাছে রাখা সন্তানরা যন্ত্রণা মনে করছে। তাই তাঁদের ঠাই হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। আহ কি নির্মম!
বাংলার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিয়েছেন। অথচ আজ এফ এম রেডিও সহ আধুনিক তরুণ তরুণীদের বাংলিশে মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠি। ভাবি- তাঁরা কি বুঝাচ্ছে, কি বলতে চাচ্ছে, কিছুই তো বোধগম্য হচ্ছে না।
দেশকে নিয়ে তরুণ সমাজের কোন পড়াশুনা নেই। পড়াশুনা নেই এ দেশকে যারা জন্ম দিয়েছে তাঁদেরকে নিয়ে। তাঁরা ব্যস্ত কখন কোন মুভি দেখবে সেসব নিয়ে।
কিছু তরুণ তরুণী বেশী ধার্মিক সাজতে গিয়ে মাথায় দেয় হিজাব। আবার অন্যদিকে যখন চেয়ারে বসে তখন তার নিতম্ব সহ সব কিছুই জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে যায়। এরকম ভিনদেশী মুসলিম কালচার তাঁদের কে গ্রহণ করতে শিখিয়েছে? বড়ই আশ্চর্য!
এ দেশের সব মানুষ ধর্ম বর্ণ উপেক্ষা করে সবাই সবাইকে ভালোবাসতে শিখেছে। অথচ একদল বিপথগামী তরুণ ভিনদেশীয়দের অনুসরণ করে দেশে মুসলিম-অমুসলিমদের অন্যায়ভাবে হত্যা করছে। জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছে। মুক্তমনাদের মুক্তমনকে কেড়ে নিচ্ছে।
জারি সারি গান এখন তাঁদের কাছে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। পরিবারে ভাঙন ধরিয়ে পরস্পরকে দূরে ঠেলে দেওয়া তাঁদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
হায় সেলুকাস!
আজ আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি। যেখানে নিজের সংস্কৃতি নিয়ে চলা আজ আমাদের জন্য বড় কঠিন হয়ে গেছে!
এখনই সময় বুঝমান তরুণদের জেগে ওঠার। অবুঝদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার।
সবার জন্য থাকল শুভ কামনা।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৭ ভোর ৫:৪১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×