somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলমেঘের আবছায়ায় ২

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১ম পর্ব

ঝড়ো হাওয়ার বিকেল

রঙ ছিটালেই রংধনু হয়না, সাথে ঝিরি ঝিরি বৃস্টিও লাগে। আর বৃষ্টির জন্য লাগে একটুকরো শুভ্র নির্মল মেঘ। মেঘ যে কখন নভোর এমন এতো ভালো বন্ধু হয়ে গেলো, সে নিজেও তা জানেনা। মেঘের রিনরিনে কন্ঠটা শুনলেই প্রথমে যে ছবিটি চোখে ভাসে তা হলো সদ্য ডিম ফুটে বের হওয়া আলাভোলা এক বাচ্চা মুরগী। দৈবক্রমে কোন বাচ্চা মুরগী যদি কথা বলে উঠতো তাহলে যে তার কণ্ঠটা যে রকম শুনাতো, মেঘের গলাটাও ঠিক সেই রকম, কিচির মিচির কিচির মিচির। স্বভাবটাও একই খেয়ালী খেয়ালী আবার মায়াবী মায়াবী। এতো যে কানের কাছে কাছে ভ্যান ভ্যান করে, অথচ একটুও বিরক্ত হয়না। এতো মায়া কেন মেয়েটার মাঝে। নভো ভাবনার দৌড়ে এবার লাগাম টানে। মেঘকে নিয়ে এভাবে আর ভাব্বেনা সে। মেঘ কেবলমাত্র একজন ভালো বন্ধু। খুব ভালো বন্ধু। খুব সৌভাগ্যবান মানুষই মেঘের মতো একজন বন্ধু পায়। তবে কি সে সেই সৌভাগ্যবানদের একজন? নভো আবার মাথা চুলকে ভাবতে বসে। কিন্তু মেঘের যদি কোন মোছু পালোয়ানের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। সেই মোছু পালোয়ান নিশ্চয়ই মেঘের সাথে এমন ঘণ্টার পর ঘন্টা কথা বলতে দিবেনা। তাহলে কি করা? আচ্ছা সে মেঘকে নিয়ে এতো ভাবছে কেন? মেঘের সাথে এতো কথা বলারই বা দরকার কি? সে কি তবে মেঘকে ভালবাসে। কিন্তু তা কি করে সম্ভব সেতো কমলা বানুকে ভালবাসে। তবে? তবে হঠাৎ হঠাৎ তার চিন্তা ভাবনাগুলোর মাঝে মেঘ কেন চলে আসে। কেন তার ভালবাসার মানুষটির জন্য লেখা চিঠির মধ্যে মেঘের নাম চলে আসে। কেনইবা পৃথিবীর সবকিছু এক পাশে ফেলে সে মেঘের কাছে ছুটে আসে একটু স্বস্তি পাবার জন্য। নভোর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। খুব কঠিন একটা স্বিদ্ধান্ত নেবার সময় হয়েছে। সে কি পারবে সেরকম কঠিন হতে?

প্রচণ্ড বজ্রপাতের শব্দে টনক নড়ে মেঘের। জানালার কপাট লাগাতে এসেছিলো। তারপর নভোমণ্ডলের ভীষণ রাগ দেখে সেও নভোর ভাবনায় ডুবে যায়। কয়েকদিন ধরে নভোর আচরণ খুব অদ্ভুত ঠেকছে। কিছুই যেন মিলছেনা। কথা নাই বার্তা নাই হঠাৎ হঠাৎ রেগে যায়। দেবদাস টাইপের কথা বার্তাও ইদানিং বেশ বেড়ে গিয়েছে। কমলা বানু নিয়ে নতুন কোন সমস্যা নাতো? মেঘ বিভ্রান্ত হয়, আবার বিরক্তও হয়। এই এক কমলা বানু ছাড়া এই ধরিত্রীতে আর কি কোন আম বানু জাম বানু নাই। তাদের প্রেমে পড়তে পারেনা গাধা ছেলেটা।

ঠ্যা ঠ্যা করে ফোন বেজে উঠলো। ফোন কখনো ঠ্যা ঠ্যা করে বাজেনা, কিন্তু তাদের এই ফোন সেটটা বেশ কয়দিন ধরেই নষ্ট। এটা যে এখনো ঠ্যা ঠ্যা করে বাজে, সেই অনেক। আচ্ছা এই ঝড়ের মধ্যে কে ফোন করলো, নভো নয়তো? হ্যাঁ নভোরই ফোন। হঠাৎ এক আদিগন্ত বিস্তৃত ভয় গ্রাস করে তাকে। যেন আজ কিছু একটা হবে। এমন কিছু একটা যার জন্য সে কখনো প্রস্তুত ছিলোনা, আর কখনো প্রস্তুত হওয়াও হবেওনা।

"মেঘ"?

"নভো, এমন টাইমে ফোন দিলি যে"।

"মেঘ আজ তোকে কিছু কথা বলবো"।

মেঘের বুকটা ধড়াস করে উঠে; হৃদপিণ্ড গলার কাছাকছি এসে ঠেকে; নভোর গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেনো?

"আমি জানি আমি এখন যে কথাটা বলবো, সেটা শোনার পর আমার প্রতি তোর এতদিন যে শ্রদ্ধা, বিশ্বাস আর আস্থা ছিলো সব এক ঝটকায় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরেও আমি বলবো। নিজের ভেতর আর চেপে রাখতে পারছিনা। মেঘ, (একটু নিরবতা) আমি তোর প্রতি অনেক উইক হয়ে গিয়েছি............may be I am in love with you"

জানালার কপাটগুলো ঠাস ঠাস করে বাড়ি খেতে থাকে। কিন্তু সেই মুহুর্মুহু শব্দ কি করে যেন শুনতে হয় মেঘ ভুলে গিয়েছে। কি করে যেন কথা বলতে হয় তাও মনে পড়ছেনা। আচ্ছা শ্বাস কি ঠিক আছে নাকি তাও বন্ধ।

"আমি তোর কাছ থেকে কোন উত্তর চাইনা মেঘ। আমি জানিওনা তোকে এসব কেনো বলছি। শুধু জানি আমি ভেতরে ভেতরে শেষ হয়ে যাচ্ছিলাম। আর এখন পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলাম। জানি আজকের পর থেকে তুই আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে চাইবিনা। তোর কাজটা আমি সহজ করে দিতে চাই। আমি নিজেই চলে যাচ্ছি মেঘ। আর কখনো জ্বালাবোনা তোকে। আর কখনোই আমার গলা শুনে তোর কপাল কুচঁকাবেনা। আমাকে বিদায় দেয়ার আগেই আমি বিদায় নিয়ে নিচ্ছি মেঘ। পারলে একটু চেষ্টা করিস ক্ষমা করার। তোর বন্ধুত্বের মর্যাদা আমি রাখতে পারিনি"।

"নভো কথা শোন"

"প্লিজ, আমি জানি কি বলবি তুই। আমি নিজেও জানি সবকিছু জানার পর এই সম্পর্ক তুই কেন, পৃথিবীর কোন নরমাল মেয়েই মেনে নেবেনা। সো বাদ দে......"।

"নভো আমাকে একটু বলতে দিবি তো"

"না দিবোনা। আমি জানি আমি ঠিক করিনি। তোকে এভাবে বলে আমি তোকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছি। আর দিতে চাইনা"।

"নভো প্লিজ"

"আমি রাখি মেঘ, আমি অনেক নিচে নেমে গিয়েছি। এতোটা নিচুস্তরের কারো সাথে কথা বলা ঠিক না"।

"নভো.................I LOVE YOU TOO.................."

ফোনের দুইপাশেই এখন নিরবতা। মাঝে মাঝে রাগান্বিত ঝড়ের শোঁ শোঁ শব্দ। ঝড় কি এখন কেবলমাত্র বাহিরে? নাহ! ফোনের দুপাশে দুটি হৃদয়েও চলছে অন্যরকম ঝড়। সেই ঝড় আরো জটিল; আরো ভয়ানক।

"মেঘ কি বললি"

"কিছু না"

"না তুই বলেছিস, কি বললি আবার বল"

"আ আ আমি বললাম যে আ আ আই লা লা লাভ........."। মেঘ শেষ করতে পারলোনা। সে দেখলো তার হাত কাঁপছে, গলা কাঁপছে, পায়ের নিচের মাটিটাও কি কাঁপছিলো? ভুমিকম্প হচ্ছে নাকি আবার?

(চলবে)

জলমেঘের আবছায়ায় ৩
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:১১
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×