somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জলমেঘের আবছায়ায় ৩

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



জলমেঘের আবছায়ায় ১
জলমেঘের আবছায়ায় ২

সাদাকালো রংধনু

এর পরের দিনগুলো খুব অদ্ভুত গেলো। একটা বিকেল যেনো বদলে দিলো দুটো ভিন্ন ভিন্ন জীবনের কক্ষপথ। দুটো ভিন্ন ভিন্ন রেখা যেন কনভার্জ হয়ে এগিয়ে গেল অন্য আরেকটি স্থির বিন্দুর দিকে। মেঘ ভাবলো সে প্রতারনা করছে। সেতো নভোকে ভালবাসেনা। ভালবাসা কি এমন হয় নাকি? এতো সহজে ভালোবাসা হয় কারো? হলে তো টিভিতে এতো বড় বড় সিরিয়াল হতোনা, বিশাল বিশাল উপন্যাসও হতোনা। এভাবে ফোনে বছরখানেক কথা বলে ভালোবাসা কি করে সম্ভব। তারই বা কি দরকার ছিলো ফোনে সেদিন সেসব হাবি জাবি বলার। কিন্তু আর কিই বা করার ছিলো। নভো তখন চলে যাচ্ছিলো। ওকে তো তাহলে আটকে রাখা যেতনা। নভোকে তো যেতে দেয়া যায় না। ওর কন্ঠটা একবার না শুনে রাতে যে স্বস্তিতে ঘুমানো যায় না। তাই বলে তার আবেগ নিয়ে খেলাটাও তো ঠিক নয়। ছেলেটা যদি সত্যি সত্যি তাকে ভালবেসে ফেলে, কি হবে তখন? মেঘ মনে মনে নিজেকে শত সহস্র গালি দেয়।

অথচ ঘটনার প্রেক্ষাপট পাল্টে যেতে খুব বেশিদিন সময় লাগেনা। মাত্র পাচঁদিনের মাথায়ই নভো পাল্টে গেলো। তার ভালবাসাও উল্টে গেলো।

"মেঘ"

"কি ব্যপার? কিছু বলবি? গলাটা এমন শোনাচ্ছে কেন"? ( তখনও কিন্তু তুই তুই চলছিলো। আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসাটা যতোটা সহজ; তুই থেকে তুমিতে উঠা কিন্তু অত সহজ না)

"মেঘ আমি অনেক ভেবে দেখলাম। আমাদের মধ্যে আসলেও কোন সম্পর্ক সম্ভব না। তুই জানিস আমি আরেকটা মেয়েকে ভালোবাসি। আমি তাকে ভুলতে পারছিনা; মনে হয়না কখনো পারবো। আমি ওই মেয়েটাকেই ভালোবাসি। আমার প্রথম ভালোবাসা। অন্য কাউকে তার জায়গায় বসানো কখনোই সম্ভব নয়। জানি তাকে কোনদিনও পাবোনা। আমাকে আমার পথে একাই চলতে হবে। সঙ্গীহীন। এটাই আমার শাস্তি"।

"ও"

"মেঘ শুনতে পাচ্ছিস"?

"হুম"

"মেঘ আমি তোকে ভালবাসিনা। I don’t love you............."

এর পরের কাহিনী গল্পের শুরুতেই একবার বলে এসেছি। তাই সে কথার আর পুনারাবৃত্তি করলাম না।

এই ঘটনার পরের দিন যে মেঘ ঘুম থেকে উঠলো, সে ছিলো সম্পুর্ন বদলে যাওয়া অন্যরকম এক মেঘ। মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যটি তার জানা হয়ে গিয়েছে। সে নভোকে ভালোবাসে, আজ থেকে নয়, কাল থেকে নয়, এমনকি পাচঁদিন আগে থেকেও নয়। সে সেদিন থেকেই নভোকে ভালবেসেছে যেদিন থেকে তার হৃদস্পন্দন ভালবাসাকে অনুভব করতে শিখেছে। যেদিন থেকে তার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো ভালবাসাকে জানতে শিখেছে। কখন যে কমলা বানুর জন্য নভোর আবেগগুলোকে নিজের মধ্যে ঠাঁই দিয়ে ফেলেছিলো, মেঘ তা নিজেও জানেনা। যতদিন নভো পাশে ছিলো কখনো ইচ্ছে হয়নি মনের কোনায় একবার উকি দিয়ে দেখতে। আর যখন কিনা সে নেই তখন ভালোবাসাগুলো নিজে নিজেই নিজেকে প্রকাশ করে দিলো? এখন এই অভিশপ্ত আবেগগুলোর নতুন গন্তব্য কি হবে? রেডিওতে শ্রীকান্ত সাহেব গেয়ে চলেন, "বধুয়া আমার চোখে জল এনেছে হায়, বিনা কারনে"। আর অন্যদিকে মেঘের চোখে ক্রমাগত জল জমতে থাকে। শ্রীকান্ত সাহেব কেমন করে জানলেন, জলগুলো যে আসলেও বিনা কারনে ঝরে।

মেঘ আগে তিন ঘন্টা পড়তো আর এখন ১০ ঘন্টা পড়ে। এর জন্য না যে আর দশ দিন পর তার এইচ এস সি পরীক্ষা, বরং এর জন্য যে নভোকে ভুলে থাকার একটা উপলক্ষ্য খুব জরুরী। ফোনটা এখনো মাঝে মাঝেই ঠ্যা ঠ্যা করে বেজে উঠে। কিন্তু সেখানে নভোর গলা শোনা যায়না। তারপরও মেঘ দৌড়ে ফোন ধরতে যায়। ভুল করে হলেও কখনো যদি নভো ফোন দিয়ে ফেলে। কিন্তু প্রতিবারই ক্লান্ত হয়ে ফিরতে হয়। নভো কথা রেখেছে। সে মেঘকে আর কখনো ফোন দেয়নি। হয়তো কখনোই আর দিবেনা। মেঘ কি তবে ফিরিয়ে আনতে যাবে নভোকে? না কখনোই না। যে যেতে চায় তাকে আটকে রাখা যায়না। তাকে ফেরানো যায় না। ভুল তো বলেনি নভো, প্রথম ভালবাসার জ্বালা এতো সহজে ভোলার নয়। সে কি পারছে ভুলতে? না! তবে কেন? কেন এই ছেলেটা এইভাবে ভালবাসার কথা বলতে এলো? না বললে হয়তো কখনো জানাই হতোনা ভালোবাসা কত কষ্টের জিনিস।

এমন একটা মেয়ে যে কিনা তার খোঁজটাও কোনকালে ঠিক মতো নেয়নি, তার জন্য মেঘকে ভুলে যেতে পারলো নভো। কি করেনি এই মেঘ মেয়েটা তার জন্য। ঘন্টার পর ঘন্টা পড়া বাদ দিয়ে কথা বলেছে। হাজার টাকার বিল উঠিয়েছে। তারপর আগামীর চিন্তায় চিন্তিত বাবার বিস্মিত দৃষ্টির সামনে কুঁকড়ে থেকেছে। নাহ; বাবা মেঘকে তেমন কিছুই বলেন নি, কখনোই বলেন না। পৃথিবীর সব ভালাবাসা কি আর নিষ্ঠুর হয়? বাবা মেয়ের ভালবাসাও তেমন একটা ভালোবাসা। কিন্তু বলা উচিত ছিলো। তাহলে হয়তো এমন আগুনে পড়ে জলসে যেতে হতোনা। কিন্তু বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছে যে। নভোকে ভালোবেসে ফেলেছে মেঘ। নিজের মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে সে ভালবাসার জানান দিয়ে ফেলেছে। এর পরেও কি ছেলেতার বুঝতে কষ্ট হয় যে মেঘ তাকে পাগলের মতো চায়? তার কাঁধে মাথা রেখে একটু কাঁদতে চায়। তার হাতটা ধরে একটু স্বপ্ন দেখতে চায়। খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে এখন, “" কেমন আছিস নভো? আমাকে ধবংস করে খুব ভালো আছিস তাইনা? এই যে দেখ আমি জ্বলছি, তুই ও জ্বলছিস। দুই জনেই যে জীবনের প্রথম ম্যাচে গো হারা হারলাম। আমাকে হারতে দেখে তোর কি একটুও আমাকে শ্বান্তনা দিতে ইচ্ছে হয়না? এতো নিষ্ঠুর কেন তুই"?

কিন্তু মেঘ কখনোই নভোকে এসব বলবেনা। কখনো ভালবাসার আকুলতা নিয়ে নভোকে ফিরিয়ে আনবেনা। ফিরতে যদি হয়, তবে নভোকে একাই ফিরতে হবে। সে তো তাকে চলে যেতে বলেনি। সে তো বলেনি, "আমাকে I love you বলো"। সে তো বলেনি, "মনের দুটো ভাগ করে এক ভাগ কমলা বানুকে, আরেকভাগ আমাকে দাও"। জ্বলতে যখন হবেই একা জ্বলাই ভালো; একপ্রান্তে মেঘ আর অন্যপ্রান্তে নভো। একসাথে জ্বলে কি লাভ? আগ্নেয়গিরির সেই উত্তাপ সহ্য করার ক্ষমতা কারো নেই; মেঘেরও নেই, নভোর নেই।

মেঘ ঝাপসা চোখে আরেকবার ফোনের দিকে তাকায়। না কোন ফোন আর কখনোই আসবেনা। নভো আর কখনো ফিরে আসবেনা। জল হয়ে ঝরে ঝরে মেঘকেই নিঃশেষ হয়ে যেতে হবে। আল্লাহ তা’'আলা চোখের ভাণ্ডারে না জানি কত সাগর মহাসাগর ভরে দিয়েছিলেন। এতো ঝরে এতো ঝরে তাও কখনো ফুরায় না।

(চলবে)

জলমেঘের আবছায়ায় ৪
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই অক্টোবর, ২০১১ রাত ৮:১১
১৫টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×