somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক নতুন জীবনের শুরু

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জ্যামের মধ্যে বাসে থাকাটা যে কী বিরক্তকর ! অসহ্য গরম । আষাঢ়ের মাঝামাঝি সময় চলছে অথচ বৃষ্টির নাম নিশানাও নেই ।জামাটা ঘামে ভিজে জবজবে হয়ে গেছে । বাস ভর্তি মানুষগুলো এক হয়ে যেন অক্সিজেনগুলো সব খেয়ে ফেলছে ।
গাদাগাদি করে ভর্তি বাসটির সামনের সিটে বসে আছে তমাল ।সিটে বসেও শান্তি নেই । সামনের লোকগুলো বারবার এসে তার গায়ের উপর পড়ছে । একদম গা ঘেষে আছে একজন বৃদ্ধ , বোঝাই যাচ্ছে গরমে কাহিল হয়ে পড়েছে । যখনই বাস একটু থামছে , বৃদ্ধ প্রতিবারই তমালের গায়ের উপর পড়ছে । তমালতো মহাবিরক্ত ।
এই যে চাচা মিয়া ! সোজা হয়ে দাড়াতে পারেন না ? বারবার গায়ে এসে পড়ছেন যে । কর্কশ স্বরেই বলল তমাল । বুড়ো হেসে বললো , বাপ, দেখোনা কত ভিড় ? আমি কি আর ইচ্ছা করে গায়ে পড়ি ?
অতসত বুঝি না । আপনি সোজা হয়ে দাড়ান । সোজা কথা শুনিয়ে দিল তমাল ।
মেজাজটা এমনিতেই গরম তার আজ । বেশ কদিন থেকেই মনটা খারপ । আজ বাসা থেকে চুড়ান্ত ঝগড়া করে এসেছে । কবে থেকে বাবাকে বলে আসছে একটা কম্পিউটার কিনে দেয়ার জন্য । কিন্তু ওকে কোন পাত্তাই দিচ্ছে না । ওর বন্ধুদের সবার পিসি , ল্যাপটপ ,স্মার্টফোন আছে । আর ওর কিছু নেই । সেদিনওতো ওর বন্ধু জুয়েল এসে ওকে দেখাল দেখ দেখ বাবা বিদেশ থেকে আমার জন্য একটা GALAXY S4 পাঠাইছে । কি সুন্দর দেখতে ! উফ আর ভাবতে পারছে না ও । এসব ভাবলেই ওর চোখ দিয়ে পানি চলে আসে । এই ভরদুপুরে তাই রাগ করে বাড়ি থেকে চলে এসেছে ।
পাশের সিটে বসা লোকটা উঠে যেতেই আরেকজন বসলো । বেশ সুন্দর দেখতে । তার থেকে পাচ ছয় বছরের বড় হবে । সুন্দর করে মোবাইলে নিচু স্বরে কথা বলছে । বেশ ভালো লাগলো তমালের ।
আবার কেউ একজন গায়ে পড়ল ওর । তাকিয়ে দেখলো সেই বুড়োটাই । কি হলো চাচা ? বারবার বলছি , তারপরও আপনি গায়ে এসে পড়ছেন ?
বাবা ! এটা পাবলিক বাস, এমন হতেই পারে । তোমার সমস্যা হলে প্রাইভেট কিনা নাও ।
কথাগুলো শুনে কান গরম হয়ে গেল তমালের । কড়া করে কিছু বলতে যাবে এমন সময় খেয়াল করল পাশে বসা ছেলেটা উঠে দাড়ালো । সে বৃদ্ধকে বললো, বাবা! আপনি এখানে বসুন ।
না না আমি সামনেই নামবো । বৃদ্ধ আপত্তি জানায় ।
তবুও বসেন, আপনি নামলে পরে আমি বসবো । আমিতো ছোট দাড়িয়ে যেতে কস্টো হবে না । উঠে বসতে দিল বৃদ্ধকে ।
ঘটনায় আস্চর্য হয়ে গেলো তমাল । এতো বোকাও কেউ হয় নাকি আবার । এখনতো ওকে সারা রাস্তা দাড়িয়ে যেতে হবে ।
বাসের গতি বেড়েছে । জানালাটা দিয়ে বাতাস আসছে । একটু ভালো লাগছে তমালের ।
খুব গরম তাই না ? কোথায় থাকো বাবা ?
হঠাত্‍ জিজ্ঞেস করল বৃদ্ধটি । তার দিকে তাকাতে সংকোচ হলো তমালের ।
- বললো, মণিপুর ।
- পড়াশোনা ?
- ক্লাস নাইন ।
- তা একা একা কোথায় যাচ্ছ ?
চিন্তায় পড়ে গেলো । কি বলবে এখন ?
-এইতো রমনা পার্কে একজনের সাথে দেখা করতে ।
হঠাত্‍ উঠে দাড়াল বৃদ্ধ । এখানেই নামবে । যাক বাবা বাচা গেলো । মিথ্যে বলাও কতো কঠিন ।
বৃদ্ধ উঠে যেতেই খালি সিটে সে ছেলেটি বসলো । বাস এখনও থেমে আছে । সামনে আবার বিশাল জ্যাম লেগে গেছে ।
- কি নাম ভাইয়া তোমার ? কথা বলে উঠলো পাশের ছেলেটি ।
- তমাল ।
মণিপুর স্কুলে পড়ো তাই না ? আমি সব শুনেছি । আমি শুভ । বুয়েটে পড়ি । তো এই ভর দুপুরে রমনা যেয়ে কি করবে ?
আবার বিপদে পড়লো তমাল । বানিয়ে কথা বলা খুবি কঠিন ।
- এমনি ঘুরতে একটু ।
- আমিও ঐ দিকেই যাবো । ইন্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এ । একটি অনুষ্ঠানে ।
- আচ্ছা ভাইয়া । একটা কথা বলি । আপনি ঐ লোকটিকে সিট ছেড়ে দিলেন কেনো ? সে যদি আরো দুরে যেতো তবে আপনারতো দাড়িয়ে থাকতে হতো পুরো রাস্তা ।
- দুর ! এটা কোন ব্যাপার হলো । ঐ লোকটির স্থানে যদি তোমার বাবা কিংবা দাদা থাকতো তবে ? তুমি আরামসে সিটে বসে যাচ্ছো আর সে গরমে কস্টে যাচ্ছে । এটা দেথে তখন কি করতে ?
ভাবনার দরজায় টোকা পড়লো তমালের ।
- তাকে বসতে বলতাম । আব্বুকে দাড়িয়ে রেখে বসা যায় নাকি ? এতে বেয়াদবি হতো না ?
একদম ঠিক বলেছো । ওই লোকটাও তো কারও আব্বু বা কারো দাদু । তার অনেক বয়স আর এখনও আমার তো অনেক শক্তি আছে , একটু কস্ট করলে কিছুই হবে না । তুমি যদি কাউকে সম্মান করো তবে তুমি যখন বৃদ্ধ হবে তখন তুমি নিজেও সম্মান পাবে না , বিপদে কাউকে কাছে পাবে না ।
মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকে তমাল । ইস ! কেন লোকটির সাথে খারাপ ব্যাবহার করলো সে ?
হু ঠিক বলেছেন । আসলে আমি কখনে এভাবে ভাবি নি । কেন জানি ভালো লেগে যায় শুভকে । আরো অনেক ব্যাপারে কথা হতে থাকে ওদের ।
আর নিজের করা ভুলগুলি সব বুজতে পারে তমাল । হঠাত্‍ করে মনে পড়ে ওর মার কথা । ওকে খুজে না পেয়ে এতক্ষণেতো অনেক টেনশন করছে বাবা মা ।
হঠাত্‍ করে নিজের উপর খুব অপরাধবোধ জেখে উঠে তমালের। ছেলে বেলা থেকেতো আর ওর কোন আবদার অপূর্ণ রাখে নি বাবা মা । শুধু পারিবারিক টানাপোড়নের কারণে কম্পিউটারটা দিতে একটু দেরি হচ্ছিলো । ঐটাও সামনের মাসেই পেয়ে যাবে । আর ও বাবা মার সাথে কিরকম ব্যাবহারটাই না করলো । নিজে প্রতিজ্ঞা করলো আজ গিয়েই বাবা মার কাছে ক্ষমা চাইবে । এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে তমালের চোখে পানি এসে পড়লো টের পেলো না ।
তমালের চোখের দিকে তাকাতেই চমকে উঠে শুভ, তমাল তুমি কাদছো ?
চোখের কোণ মুছে হেসে দিল তমাল, না না, ভাইয়া । এই চোখে যেনো কি পড়লো । এ কিছুনা এখনি ঠিক হয়ে যাবে । চলুন রমনা এসে গেছে ।
চলো , আমার সাথে যাবে ? ঐখানে একটা নাটক হবে । নাম 'নতুন জীবনের গল্প' । দেখলে ভালো লাগবে ।
হু, আনমনে সাড়া দেয় তমাল । তারওতো একটা নতুন জীবন দরকার । যেখানে কোন ভুল থাকবে না ।
এভাবে নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর তমাল সম্মোহিতের মতো চলতে থাকে হঠাত্‍ দেখা হওয়া একটি সুন্দর ছেলেটির সাথে । আগের তমাল হয়ে নয় , নতুন বদলে যাওয়া দ্যুতি ছড়ানো এক নতুন তমাল হয়ে । । ।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৭ সকাল ১১:৩৭
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×