somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার স্পর্শ

১১ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারাদিন ভার্সিটি শেষ করে সন্ধ্যার পর আমি একটা টিউশনি করি । মেয়েটির নাম আনিশা । একটু বেশি চঞ্চল । কখন কি বলে বসে তার ইয়াত্তা নেই । ওর বড় বোন ফারিয়া ।অবশ্য আমি তাকে এখনো দেখিনি । শুনেছি ভার্সিটিতে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে । আমি এবার থার্ড ইয়ারে উঠলাম । মানে ২ ইয়ার জুনিয়র ।
আনিশার মা খুব জেদী ও বদরাগী । কন্ঠ শুনেই এটা বুজা যায় ।

প্রথম দেখায় ভালোবাসা জিনিসটা আমার অসহ্য লাগে । কাউকে দেখলাম আর ভালোবেসে ফেললাম এতই সস্তা ? তারপরও এই সস্তা ব্যাপারটাই আমার সাথে ঘটল ।

আনিশাকে পড়ানোর ৫ম দিন আমি ফারিয়াকে প্রথম দেখলাম । যেন একটা উজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরণ । কি এক ঘোরে আমি কিছুক্ষণ আবিষ্ট রইলাম । দেখব না দেখব করেও অনেকখানি দেখলাম । সবচেয়ে তীব্র চোখের দৃষ্টি ।
হূশ ফিরে পেয়ে ভাবলাম ছিঃ ! কী কুত্‍সিত আমি । জ্ঞান হবার পর যে শুধু কষ্ট আর দারিদ্রতার যাতাকলে পিস্ট হওয়া ছাড়া আর কিছু ভাবিনি সে আজ কি ভাবছে এসব ভালোবাসার কথা । তাহলে কি আমি প্রেমে পড়েছি ?? নাহ কি ভাবছি এসব আমি ।
রাতে আমি যা চিন্তা করি তাতে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে চলে আসে ফারিয়া । আমার জীবনের গহীন অন্ধকারকেও আজ হার মানাচ্ছে ফারিয়া ।বহুকস্টে ফারিয়াকে ভুলে থাকতে চেস্টা করলাম । ফিরে পেলাম জীবনের কষ্টকর চেতনা । আমাকে কি ভালোবাসলে চলবে ? আমার কি আভিজাত্য আছে ? টাকা আছে ? এতো বিসর্জন দিয়েছি সারাজীবন তাই ভালোবাসাকেও বিসর্জন দেয়াও খুব কষ্টকর হবেনা আমার জন্য ।
চার পাচ মাস কেটে গেল এভাবে । সহজেই চোখকে আটকে রাখি যখন ফারিয়া আসে সামনে । আমার কেনো যেন মনে হয় খুব কষ্টে আছে মেয়েটি । সেদিন আনিশাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম ওদের বাবা বিদেশ থাকেন । ওর মা বড়লোকেল এক ছেলের সঙে ফারিয়ার বিয়ে ঠিক করেছে । কিন্তু ফারিয়ার এতে মত নেই কোনো । বিয়ের কথা শুনে বুকের ভেতর ধক করে উঠলো । বুজলাম আমার ধারনাটাই অনেকাংশে ঠিক , সুখে নেই আমার প্রিয়া ।
গ্রাম থেকে ইতিমধ্যে খবর এলো ছোটবোনটা এসেছে যৌতুকের টাকা নিতে । শশ্বুরবাড়ি থেকে পাঠিয়েছে । বিশ হাজার টাকা নিয়ে ফিরতে হবে । আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম এ খবর শুনে । তারা কি রকম করে এ রকম করতে পারে আমাদের সাথে ।
এখন এ মুহূর্তে আমি টাকা কোথায় পাই । খেয়ে না খেয়ে যেখানে আমার মাস পার করতে হয় সেখানে বিশ হাজার টাকা ! চোখে অন্ধকার দেখা শুরু করলাম । পৃথিবীটা অনেক ছোট ছোট লাগছিলো ।আমার পরিচিতজনদের কাছে চাইলাম । কিন্তু তারা হতাশ করলো । আমি চিন্তায় পড়লাম টাকা কোথায় পাবো ?

অবশেষে ঠিক করলাম ছাত্রীর মায়ের কাছে তিন চার মাসের অগ্রিম চাইব । মুখে লজ্জা লাগছিলো তাই একটা চিঠি ধরিয়ে দিলাম ফারিয়ার হাতে চাচীকে দিতে। পরেরদিন অবাক হলাম এই মহিলা যাকে বদমেজাজী রাগী ভাবতাম সে ১৫হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলো বাসায় । সাথে একটা চিঠিও আছে । ব্যাস্ততার জন্য চিঠিটা আর পড়া হলো না ।
সন্ধ্যায় আনিশাকে পড়াতে গিয়ে চাচীর চেচামেচী শুনলাম । বুজলাম ফারিয়াকে কিছু বলছে ।
আনিশাকে ব্যাপার কি জানতে চাইলাম ।
'কাল আপার কানের দুল ছিলো , কিন্তু আজ তা খুজে পাচ্ছেনা তাই ।'
'তাই বলে ফারিয়ার সাথে এভাবে রাগারাগি করছে কেন ?'
'স্যার, আপনাকে একটা কথা বলি । আপা কিন্তু মায়ের নিজের মেয়ে না । ছোটবেলা মা আপাকে পালক এনেছিলো । তারপর আপার যখন পাচবছর বয়স তখন আস্চর্যজনকভাবে আমার জন্ম হয় । আপার জন্য আমার কস্ট হয় । আপা যে কতো ভালো কল্পনা করতে পারবেন না । আর একটা কথা , আপা কিন্তু আপনাকে খুব পছন্দ করে ।'
একথা শোনার পর আমার পুরো পৃথিবী অন্ধকার এল । আমার জীবনটা যেনো সিনেমার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে ।
সেদিন আর আনিশাকে পড়ালাম না । আমার মন খারাপ হয়ে গেলো । চাচীর চিঠিটা খুললাম । চাচীর না ফারিয়ার চিঠি ।


ভাইয়া,
আপনার চিঠিটা পড়ে আমার মন অনেক খারাপ হয়ে গেলো ।আমি আমার মাকে ভালভাবেই চিনি ।সে টাকাটা কখনোই দিবেনা । তাই আমিই টাকাটা দিলাম । কাউকে কিছু বলার দরকার নাই । টাকটা পরে পারলে ফেরত দিয়ে দিয়েন । আপনি প্রতিদিন একটা নোংরা শার্ট পড়ে আমাদের বাসায় আসেন । এগুলা দেখে আমার খুব খারাপ লাগে । তাই এটাকা থেকে পারলে একটা ভালো শার্ট কিনে নিবেন ।
ইতি ফারিয়া

চিঠিটা আমি প্রায় একশবার পড়লাম । প্রত্যেকবার আবেগে আমার চোখ ভিজে উঠল । বুজতে পারলাম এ মেয়েকে ছাড়া আমার জীবন কাটানো সম্ভব না । জীবন যুদ্ধের মতো ভালোবাসার যুদ্ধেও আমার জয়ী হতে হবে ।
ফারিয়াকে আমার প্রস্তাব দিলাম ও রাজি । আমাদের মাঝে আনিশা মেয়েটা অনেক হেল্প করলো ।
ফারিয়াকে অনেক ভালোবাসি । অনেক । আমি যে এতো ভালোবসতে পারি তা জানতাম না ।
অবশেষে আমাদের ভালোবাসা সম্পূর্ণতা পেলো । ভালোবেসে আমার পরিবারের মতে ফারিয়ার মার অমতে আমাদের বিয়ে হল গত আগস্টে ।
আমরা একসাথেই থাকি ।এখন ১টার জায়গায় ৩টা প্রাইভেট পড়াই । ফারিয়া একটা প্রাইমারী স্কুলে জব করছে এখন । দুজনের কামাইয়ে বেশ ভালোই চলছে আমাদের টুনাটুনির সংসার ।জীবন যে এতো সুখের হয় তা আগে জানা ছিল না আমার । রাতে ফারিয়া আমার দুহাত শক্ত করে ধরে ঘুমায় । আমার জীবনটা বেশ ভালো কাটছে ।
রাতে আমার পাশে ঘুমায় ফারিয়া । আমি ওর নিশ্পাপ মুখ দেখি আর চিন্তা করি । মনে মনে ভাবি আমার হাতদুটোকে কোনদিন ছেড়োনা । তুমি কি জানো , আমি তোমাকে কত ভালোবাসি ।

I love you. I love you
উংসর্গঃ আমার ভ্যালেন্টাইন
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৫ রাত ১২:৩৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×