somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি আবার আরেকটাবার তোমার প্রেমে পড়তে চাই

২৫ শে মে, ২০১৫ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন দুপুরের ভোজনটা একটু অন্য রকম ছিল কারন সেদিন সবাই বাসায় ছিল, এই ব্যাস্ততার জীবনে কখনই আমাদের একসাথে খাওয়া হয়না। আজ অনেকদিন পরে সবাই একসাথে খাচ্ছি আর মা আজকে সবার পছন্দের খাবার বানিয়েছে।তেমনি এক অস্থির ভোজন করছিলাম সেদিন দুপুরে , তখনই ফোন আসল আব্বুর ফোনে । ফোনে কথা বলে তো আব্বুর চেহারার রঙই পাল্টে গেলো । নানুর শরীরের অবস্থা নাকি খুব সিরিয়াস , যেকোন সময় দম যায় যায় আর কি । আম্মু তো তখনই কান্নাকাটি শুরু করে দিলো ।সব কাজকর্ম বাদ দিয়ে পুরো পরিবার সমেত চললাম আমার নানুবাড়ি ।
নানুবাড়ি বলছি কারণ আমার নানা - নানী এখনও জীবিত আছে । তারা না থাকলে তখন মামা বাড়ি বলতাম । যাইহোক , নানুবাড়ি একটু গ্রামের দিকেতো । যেতে যেতে প্রায় রাত হয়ে গেলো । বাড়ি গিয়ে দেখলাম , কিসের কি ? সবাই সম্পূর্ণ সুস্থ সাবলীল । আসলে আমাদের সবাইকে বেড়াতে আনার জন্যই সব বড়মামার পরিকল্পনা ।কিছুটা বিরক্ত হলেও একটু খুশি খুশিও লাগছিলো । কতোদিন পর বেড়াতে আসলাম , অনেক মজা হবে কাজিনদের সাথে বিশেষ করে মামাত বোনগুলাতো আছেই ।
যাইহোক , বেশ একচোট খাওয়া দাওয়া সেরে নিয়ে মামাতো ভাইয়ের সাথে ফিফা খেলতেছিলাম ল্যাপুতে । ঠিক তখনই ওর দিকে নজর পড়লো । আমার কাজিন । নাম রিমি , এবার জেএসসি পরিক্ষা দিছে । আগেতো অনেক পিচ্চিই ছিলো । এখন আবার হঠাত্ করে কেমন জানি বড়ো হয়ে গেল । অনেকদিন পর দেখলামতো তাই বুঝি এমন লাগতেছে । কমবয়সী মেয়ে দেখলে আমি সাধারণত তেমন কোন অনুভূতি পাই না , এদের অতটা ভালো লাগে না আমার তবে রিমি কে প্রথম দেখার পরই , কেমন জেনো একটা শিহরণ জেগে গেলো মনে। জীবনে কখন কাউকে ভাল লাগেনি বা কারো সাথে প্রেমও করি নি তবে ওকে দেখার পর কেন জানি মনে হল আমিও ভালবাসতে জানি।
মনে পরে অনেক ছোটোবেলায় ওর সাথে কত খেলেছি আর আজ কত বড় হয়ে গেছে............
আমি এইভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছি দেখে ও আমাকে বলে উঠল ,
-- ভাইয়া কি দেখো??????
আমি ভেবাচেগা খেয়ে বললাম, না তোকে দেখি যে পুচকি মেয়ে কত বড় হয়ে গেছে।
ওহ একটু মিষ্টি করে হাসল তারপর চলে গেল, আমি ভাবছিলাম আমার কাছে আরো কিছুক্ষন থাকবে কিন্তু না চলে গেল। আগে যখন আসতাম তখন সারাদিন আমাদের সাথেই থাকত কিন্ত এখন। আসলে মেয়ে বড় হয়ে গেছে তো তাই।
১৫,১৬ বছরের মেয়ের আলাদা একটা জগৎ থাকে, হঠাৎ করে সেখানে ঢোকা যায় না তবে তার আসে পাসে থাকা যায়।
রাত অনেক হয়েছে তাছাড়া গ্রামে তো ৮ টার পরই অনেক রাত আর এখন ১১ টা বাজে। সবাই শুয়ে পরল কিন্তু আমার ঘুম আসছে না, মানে আমি এতো তারাতারি কখনও ঘুমাই না। ঢাকাতে তো এই সময় আমরা ডিনারও করি না।
তবে যাই হোক গ্রামের শীতল হাওয়া সুন্দর এক শীতলতা দিয়ে যাচ্ছে আমার শরীরে। শহরে এই প্রাকৃতিক আবহাওয়াটাই আমরা সবাই মিস করি কারন ওইখানে এটা পাওয়া যায়না। তার উপর আবার রিমির কথা মনে পরছে, আমি বুঝতে পারছিনা আমি ওর কথাই কেন ভাবছি, আমি কি ওর প্রেমে পরে গেলাম নাকি????

.................................................................

সকালে ঘুম ভাঙল এক সুন্দর কন্ঠের ছোঁয়া পেয়ে, প্রথমে একটু রাগ হয়েছিল কারন কেউ এতো সকালে আমার ঘুম ভাঙালে অনেক রাগ লাগে, তবে রিমিকে দেখার পর আর রাগ করতে পারলাম না।
-- কি ভাইয়া এতো বেলা করে কেউ ঘুমায়, বাইরে আসো আর দেখো কত সুন্দর প্রকৃতি। ঢাকাতে কিন্তু এইগুলো পাবে না, তারাতারি বাইরে এসো।
-- ওর সাথে যাওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না তাই তারাতারি করে রেডি হয়ে বাইরে গেলাম, আহ কি সুন্দর বাতাস, কি সুন্দর প্রকৃতি। ঢাকা শহরে আসলেই এগুলো দুর্লভ।
রিমি হঠাৎ আমার পাসে এসে দাড়াল, ভেজা শীতল চুলে কি সুন্দর দেখাচ্ছে ওকে। এখন ইচ্ছে হচ্ছে আমার হিমু হয়ে গিয়ে ২-৪০০ কবিতা লিখে ফেলি ওকে নিয়ে।
আমি যে হা করে ওর দিকে তাকিয়ে আছি সেটা ও আবার দেখে ফেলল, আমি তারাতারি চোখ সরিয়ে ফেললাম। মেয়েরা নাকি চোখের ভাষা তারাতারি বুঝে কিন্তু স্বীকার করে না। টেরা চোখে আবার তাকিয়ে দেখলাম ও মিটি মিটি হাসছে, তবে কাহিনী কিছুই বুঝতে পারলাম না। হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম মাত্র ৭ টা বাজে ওর সাথে হাটতে হাটতে সামনের বাগানের দিকে গেলাম সাথে আমাদের সাথে ইভানও আছে মানে বড় মামার ছেলে।
কথা বলতে ইচ্ছে করছে ওর সাথে কিন্তু কি দিয়ে শুরু করব বুঝতে পারছি না, ছোটবেলায় কত মিসুক ছিলাম আমরা কিন্তু আজ কত দুরত্ত দুইজনের মাঝে। বড় হওয়ার এটাই সবচেয়ে বড় প্রবলেম।
-- তুই কিসে পরিস রে
-- হেহেহে, জানো না মনে হয় যে আমি এইবার নিউ নাইন।
-- ওহ সরি, ভুলে গেছিলাম।
(নিজেকে অনেক বড় গাধা মনে হচ্ছে, মেয়েদের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তাও ঠিক মত জানি না, জানবোই বা কিভাবে আমি সারাটা জীবনই থেকে গেছি মেয়ে শূন্য হয়ে, বয়েজ স্কুল/ বয়েজ কলেজে পরা লেখা করেছি তাই জীবনে কখনও মেয়ে বন্ধু পাই নি আবার আমার কোন ছোট বোনও নেই যে তার সাথে কথা বলব)
-- ভাইয়া দেখো এই জায়গাটার কথা মনে আছে তোমার ???
রিমির কথায় তাকালাম বাগানের ডান দিকটাতে। বললাম,
-- না তো মনে নাই
-- আরে এইখানে আমরা ছোটবেলায় বিয়ে বিয়ে খেলাটা খেলতাম, তুমি হতে বর হতে আর আমি বৌ। হিহিহি
কথাটা বলেই হিহিহি করে হেসে উঠল, কি অদ্ভুত সেই হাসি, আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম ওর মুখের দিকে, মনে হয় এই হাসির দিকেই হাজার হাজার বছর তাকিয়ে থাকি। মেয়েরা আসলেই মায়াবতীর জাত এরা সবই পারে।
গ্রামটা এই প্রথম অদ্ভুত লাগছে আমার কাছে আমি ছোট বেলায় অনেকবার এসেছিলাম এইখানে তবে চার বছরে এই প্রথম আসলাম। কালকে থেকে এই পর্যন্ত মনে হয় ৩, ৪ বার প্রেমে পরেছি।
বাগানের ওই দিকটাতে আবার তাকালাম, মনে মনে হাসলাম। ছোটবেলার সেই বর-বৌ খেলার কথা মনে পরে গেল। সেদিন বুঝতে পারি নি যে এই মিথ্যে খেলা যার সাথে খেলেছি তাকেই একদিন সত্যিকারের বৌ বানাতে ইচ্ছে করবে, সত্যি আমি ওকে ভালবেসে ফেলেছি এখন।

রিমি বলে উঠল,
চল ভাইয়া বাসায় চল, খেতে ডাকবে আবার। তারপর দুইজনে চলে গেলাম বাসার দিকে।
গ্রামে ৪ দিন ছিলাম আমরা কিন্তু তবুও ওকে বলতে পারি নি, আসলে আমি এইসব বেপারে অনেক ভীতু তাই।
আজ আমরা ঢাকা ফিরছি আর রিমিও আমাদের সঙ্গে যাচ্ছে , ওর পরিক্ষা শেষ তাই কয়দিনের জন্য আমাদের সাথে ঢাকা যাচ্ছে । আমি মনে মনে যে কি পরিমাণ খুশি হয়েছিলাম টা তোমাদের বলে বোঝাতে পারবো না।
আমিতো আবার আরেকটাবার তার প্রেমে পরতে চাই....।

কাহিনী কিন্তু এইখানেই শেষ না, তবে ঢাকার কাহিনী না হয় আরেকদিন বলবো। কারণ গল্পের মধ্যে ইন্টারয়েল থাকা ভাল
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×