আমার রহস্যগল্পের হাতেখড়ি হয়েছে কুয়াশা সিরিজ দিয়ে। আজগুবি অ্যাকশন ছাড়াও কুয়াশায় বেশ ভালো জমাটি রহস্যগল্প ছিলো। তুলনামূলকভাবে হার্ডকোর রহস্যগল্পে পা রেখেছি ক্লাস ফাইভে উঠে, তিন গোয়েন্দার "মমি" দিয়ে। ফেলুদা শুরু করেছি আরো পরে, গোরস্থানে সাবধান পড়ে প্রচন্ড উত্তেজনা নিয়ে ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেয়ে যাই কৈলাসে কেলেঙ্কারি। তারপর একে একে বাকি সব ফেলুদা। সত্যজিৎ রায়কে আবারো কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি।
মাসুদ রানাতেও ছিলো রহস্য। লেনিনগ্রাদ, অ্যামবুশ, আই লাভ ইউ ম্যান, গ্রাস ... আরো অনেকগুলো। লম্পট রানা মাঝে মাঝেই ফেলুদার মতো ঝকঝকে রহস্যভেদী হয়ে উঠেছে, ভালোই লেগেছে পড়তে।
শার্লক হোমস পড়া শুরু করেছি দেরিতে। কেন যেন ভালো লাগেনি। এর কারণও ভেবে বার করেছি। শার্লক হোমসের রহস্যের সূত্র পাঠকের সামনে উন্মোচনের আগে খুব একটা আসে না। রহস্য নিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ওখানে ঠিকই আছে, কিন্তু সেটা নিয়ে পাঠকের মাথা ঘামাবার সুযোগ থাকে খুবই কম।
এরকুল পোয়ারো পড়েছি অনেক অনেক পরে এসে, দ্য মিস্টেরিয়াস অ্যাফেয়ার অ্যাট স্টাইলস পড়ে ভালো লেগেছে বেশ। তবে আগাথা ক্রিস্টির দ্য মাউসট্র্যাপ পড়ে একেবারে অন্য রক্তের স্বাদ পেয়েছিলাম। জটিল!
মিসির আলির গল্পগুলো আমি খুবই উপভোগ করেছি। মাকড়সার জালের মতো বোনা গল্প, পাঠককে ভাবায় অনেক। হুমায়ূন আহমেদের এই গল্পগুলো বহুদিন টিকে থাকবে।
ব্যোমকেশকে হাতে পেয়েছি এই সেদিন, মানে বছর দুয়েক আগে। সত্যান্বেষী ব্যোমকেশের গল্পগুলোর ধাঁচ অন্য রকমের, সেখানে রহস্যের জটিলতার মাত্রা কিছুটা ভিন্ন। শরদিন্দুর গল্পগুলোতে যৌন ঈষর্া প্রায়ই সক্রিয় মোটিভ, যেটা অন্যান্য বাংলা রহস্যগল্পে প্রায়ই অনুপস্থিত।
অদ্রীশ বর্ধনের একটা গোয়েন্দাগল্প পড়েছিলাম, ছিপ। দারুণ লেগেছিলো, কিন্তু ভদ্রলোকের "আমার মা সব জানে" ছাড়া আর তেমন কিছু পড়া হয়নি আমার।
প্রেমেন্দ্র মিত্রের কবি গোয়েন্দা পরাশর মিত্রের দুয়েকটা গল্প পড়েছি। খারাপ লাগেনি। পরিমল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক দারুণ ছদ্মবেশপটু চরিত্র আছে, নাম ভুলে গেছি তার, দরকারের সময় যে কুকুরের ছদ্মবেশ নিতেও ছাড়ে না, আর শীর্ষেন্দুর গোয়েন্দা বরদাচরণ ... এই দারুণ হাসির রহস্যগল্পগুলোরও ভীষণ ভক্ত আমি।
কত অজস্র গোয়েন্দাগল্প পড়া বাকি রয়ে গেছে, কে জানে তার কতটুকু পড়ে শেষ করতে পারবো। মাঝে মাঝে টুকটাক লেখার চেষ্টা করি আমিও, দেখি কোন এক সময় আপলোড করবো ব্লগে। রহস্যগল্প লেখার আনন্দ পড়ার চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




