লিচু চোরের এই দুটি পঙক্তি বোধ করি বাঙালি জাতির ইতিহাসের নির্যাস। উঠতে বসতে আমাদের সামনে দেয়াল, আমরা কেউ সে দেয়াল ভাঙতে চাই, কেউ সিঁদ খুঁড়ে দেয়ালের নিচ দিয়ে পার হতে চাই, আবার কেউ লাফিয়ে সে দেয়াল পার হয়ে যাই। কিন্তু ভেতরের শেয়ালেরা পিছু ছাড়ে না।
ভাইস চ্যান্সেলরের বাংলা করলে নাকি হয় পাপাচার্য, হুমায়ুন আজাদ বলেছিলেন। কিছুদিন আগে পত্রিকায় একের পর এক দেয়াল জুড়ে ছাপা হয়েছে বেশ কিছু পাপাচার্যের অপকর্মের ফিরিস্তি। তারা আবার নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসার জন্য দরখাস্ত ঝাড়ছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কত পরিশ্রম আর উৎকণ্ঠার দেয়াল লাফিয়ে পেরিয়ে ভেতরে ঢুকে ছেলেমেয়েগুলি পড়ে এই শেয়ালের মুখে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা বাবাগো মাগো বলে পাঁচিলের ফোকর গলে চলে যায় দেশ ছেড়ে।
সরকারী কর্ম কমিশন নিয়ে একের পর এক অভিযোগ আসছে, দেয়াল টপকাতে গিয়ে সবাই গিয়ে পড়ছে সারি সারি শেয়ালের দাঁতের ফাঁকে, এক শেয়ালের গন্ডি পর হয়ে নিজেকে সঁপে দিতে হচ্ছে অন্য শেয়ালের কাছে।
শেয়ালের কাছেই বর্গার মুরগি হয়ে বার বার ফিরে যাই আমরা। পরীক্ষায় ফেল করা ফেলটু আর দূতাবাসের দেয়ালে প্রস্রাববীরের কাছে গিয়ে নতমস্তকে দাঁড়াই বিচারের প্রার্থনায়, খুনের মামলার আসামী পুলিশের কাছে যাই খুনের বিচার চাইতে। পয়সা দিয়ে শেয়ালদের কাছে না পড়লে পরীক্ষায় ভালো ফল করতে পারি না, যৌতুক না দিলে শেয়ালদের লালায় পুড়ে যায় আমাদের শরীর, চলার পথে ধর্মের মুদি শেয়ালরা ছুঁড়ে মারে বোমা।
আমরা তো লাফাচ্ছি তবুও। দাঁতে দাঁত চেপে ঠিকই লাফাচ্ছি সার্কাসের সঙের মতো।
এখন এক অদ্ভূত সময় আমাদের ঘিরে ধরেছে। আরে যা শেয়াল কোথা, ভোলাটা দাঁড়িয়ে হোথা।
আমরা কি আঁতকে উঠবো? নাকি আশা করবো, ভোলাটা আমাদের নয়, শেয়ালেরই কম্ম কাবার করে ছাড়বে?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০০৭ দুপুর ২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



