আধুনিক কবিতা লেখার জন্য শব্দ ভান্ডাড়ে 1000 শব্দ হলেই চলে। মানুষের যাবতীয় বোধ ও বোধাতীত সব কথাই এই 1000 শব্দে প্রকাশ করা সম্ভব। নিদেন পক্ষে 300 বিশেষ্য, 500 বিশেষণ আর 100 ক্রিয়াপদ হলেই তো চলে যায়। বাকী 100 থাকলো সেই সব সর্বনাম আর অন্যান্য সব শব্দের জন্য।
অবশ্য পূরাকালে কবিগন অবোধ্য দুর্বোধ্য শব্দের সাথে রতিক্রিয়ায় বিশেষ কিছু উৎপাদন করতে পারেন নাই। সব্দভান্ডাড়ে অরূপ রতন কিছু যোগ হয় নাই, তবে অতিব্যাবহারে যা হয় আর কি সেই সমস্যা প্রবল হয়েছে।
গন্ডায় গন্ডায় কবি জন্মাচ্ছে, নানাবিধ রূপের বাহারে কবিতা বানচ্ছে, এবং এদের উত্তরাধুনিক অখাদ্যের জন্য শব্দ ভান্ডারে 300 শব্দ হলেই চলে। আমাদের গুরুতর কবিসাহিবার কবিতা পড়ে ভ্রম হয় আসলেই কি 300 শব্দের এমন বিশাল ভান্ডার লাগবে কবিতাদেবির উপাসনার জন্য।
ছন্দালংকার সাহেব আশ্বস দিয়েছেন, মাত্র 10টা শব্দেও কবিতার ভিত খুঁড়ে জলসিঞ্চন সম্ভব। ইনিয়ে বিনিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে 10টা শব্দ লাড়চাড়া দিলে বিন্যাস সমাবেশের সূত্রে অন্তত লাখখানেক লাইন লিখে ফেলা সম্ভব, তবে শব্দ হতে হবে সে রকম, 10টা বিচ্ছিন্ন শব্দকে সুতোয় গেঁথে ফেলতে পারলে এমন 1000 চতুর্দশপদি লিখে দেখিয়ে দিতুম দাদারা মেলা কেলো কড়ো না বলচি। তোমরা পারোও, অবলা নারীর কবিত্ব শরীরময়, তর দেহবল্লরি কেঁপে উঠলেই কাব্যদেব মদনাহত হয়ে যান।
মদনবিক্ষেপ জাগে কবিতার শরীরে তাই আমাদের পথিক বাবাজি পথভুল করে গোয়াল ঘরে গিয়ে হাম্বা হাম্বা করছেন।
অবশ্য হাম্বা হাম্বা করাটা দোষের নয়,কিন্তু গোয়ালের বাকিগরুগুলো ভয়ে সিঁটিয়ে আছে এটাই তাকে গোয়াল থেকে বের করে দেওয়ার আাসল কারন।
তন্মধ্যে লালী নামক এক যুবতী গরূরল্যাজ এমন ভাবে চেপে বসেছে হাজার মশা কামড়ালেও সে লয়াজ নাড়ছে না- ইহা দেখিয়াই সন্দেহ হয় পথিকের হাম্বা রবের ভেতরে গুরুতর কোনো গুঢ় সমাচার ছিলো যা আমরা মনুষ্যজাতিরা বুঝিতে পারি নাই। অবলা গাভী বুঝিয়া ভয়ে কেঁপে উঠেছে।
কবিতা বিষয়ে আমার কোনো রকম এলার্জি নাই। রাম শ্যাম যদু মধু সকলেই কবিতা লিখতে পারে, কাউকে বাধা দেওয়ার কিছু নাই। তবে অখাদ্য কবিতার ভীড়ে কিংবা অসহ্য প্রটিভার গর্ভ যন্ত্রনায় কাতর মানুষ জনকে দেখে মনে হয় আমি ভুল করে লেবার রুমে দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশে অসংখ্য জন্ম রহস্য উন্মোচিত হইতেছে। মাঝে মাঝে জনগনের স্বার্থে জন্মশাসনের প্রয়োজন আছে।কবিতা মাছের পোনা নয় যে হাজারা অযুতে জন্মাতে হবে কবিতা হবে হাতীর মতো 27 মাসের গর্ভ যন্ত্রনার পর একটা বাহিরিবে দেখিয়া সবাই তাজ্জব লাগিয়া যাইবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



