আশেকুল ঈমান, অ আ ক খ শিখেছে মক্তবে, সে বিশাল মক্তব, বায়তুল মামুরের পাশের মসজিদে নিয়মিত সকালে শিশুশিক্ষার আসর বসে, সেখানেই পড়ালেখা শিখে, অস্ত্র চালনা, ঘোড়া চালনা, নানবিধ শাররিক কসরত শিখে অবশেষে যখন দাখিল পরীক্ষায় উত্তির্ন হলো সাফল্যের সাথে তাকে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাঠানো হলো জান্নাতুল বুরবকে, সেখানে তার কিছুই করার ছিলো না.
হয়তো কোনো দিন সকালে কয়েক পাক দৌড়ে আসা মসজিদুল আকসার চারপাশে, কোনো দিন একটু বর্শা নিক্ষেপ, না তো শরীর চর্চা, পাঠ্য বইবিহীন দিন গুলো অলস কেটে যেতো তার। অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা, তবে জান্নাতুল বুরবকে সে সুযোগ নেই, শয়তান এখানে প্রবেশ করতে পারে না।
গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে সে শুনতে পেতো কিছু আবছা আবছা কথা, আজ কিরকম মজমা বসেছিলো বৈকুণ্ঠের মাঠে, উর্বশী আজ ফাটিয়ে দিয়েছে, আর কারণবারী তে আজ তেমন ধ্বক ছিলো না, এসব শিক্ষাবহির্ভুত শব্দাবলীর কোনো অর্থ খুঁজে পেতো না আশিকুল ঈমান। অবশেষে কৌতুহলের জয় হলো, সে মসজিদুল আকসার লাইব্রেরিতে বিদেশী ভাষা শিক্ষার কতিপয় পুস্তিকা খুঁজে পেলো।
সেখানে কারণ বারি অর্থ লেখা আছে দ্্রাক্ষারস, মজমা অর্থ লেখা উৎসব, যদিও এখানেও উৎসব হয়, সবাই একদিন জড়ো হয়ে মাঠে সবাইকে জড়িয়ে ধরে, তার পর বিভিন্ন প্রতিযোগীতা হয়, ছোটো ছেলেরা আরবি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে, কেউ কেউ বর্শা নিক্ষেপে নাম দেয়, অবশ্য আরবি দৌড় প্রতিযোগিতায় সবাই অংশগ্রহন করতে পারে না, এখানে ঐ ভাষার প্রচলন নেই, দাপ্তরিক ভাষা হলেও এখন কেউ শিখতে চায় না, সবাই আর্মেনী ভাষায় কথা বলে, তাই দপ্তরের কাজের জন্য বাইরে থেকে লোক আনতে হয়, কিংবা আউট সোর্সিং করে সব দপ্তরের কাজ বাইরের ক্লায়েন্টদের দিয়ে সম্পাদন করা হয়। এই নিয়ে অবশ্য এখানের অধিবাসীদের কোনো সমস্যা নেই, তারা দিব্যি মগ্ন আছে নিজেদের নিয়ে।
খাবো বললেই হাজার পদের বুফের দরজা খুলে যায়, সেখানে থরে থরে খাবার সাজানো আছে, শুধু মুখ ফুটে বললেই হলো, খাবার নিজেই মুখের কাছে চলে আসে। বড়ই আশ্চর্য বিষয়, রি সাইক্লিংয়ের ব্যাবস্থাও আছে, খাবার টেবিলের পাশে একটা নালা আছে, যদি কেউ মাছ খায়, সেই মাছের কাঁটা সেখানে রেখে দিলেই আবার ওটা জ্যান্ত মাছ হয়ে ল্যাজ নাড়িয়ে সাঁতরাতে সাঁতরাতে চলে যায়। আঙ্গুর খেয়ে বিচি ফেলা মাত্র বড় সড় একটা আঙ্গুর গাছ হয়ে যায় সেখানে থোকা থোকা আঙ্গুর ঝুলে থাকে, রমনের জন্য নারী, বালক, এবং হুরের কমতি নেই। যার যেটা ইচ্ছা সেটাতে গমন করতে পারে।
তবে এখন নিয়ম করা হয়েছে কেউ খাবার পর বিচী ফেলবেন না, সেটা তশতরিতে সাজিয়ে রাখবেন।
খাবার দোকানের শুভ্র দেয়ালে এই একটা মাত্র নির্দেশ লেখা, কাউকে খাবার জন্য দাম পরিশোধ করতে হয় না, প্রতিটা নারীই কাম্য কোমল,কমনীয় এবং রমনীয়, এবং কারো কোনো নির্দিষ্ট পুরুষ নেই, সব পুরুষ সব নারীকে ভোগ করতে পারে তবে একটাই নিষেধ এক সাথে কতিপয় জনা একজনাতে গমন করিতে পারিবে না। এক কক্ষে অনেকজন একসাথে যৌনবিহার করিতে পারিবেক তবে হস্তমৌথুন নিষিদ্ধ।
কারন অনুসন্ধান করিয়া জানা যায় পূর্বে এখানে তেমন কোনো বাধানিষেধ ছিলো না, তখন এখানে এত জনবসতি পড়ে উঠে নি, তাই মসজিদুল আকসার আশে পাশে ঝোপ ঝাড়ে কেলী করতো জনগন, এমনই এক পামর নাগরিক ভুলে মার্বেলখচিত আকসার পথে বীর্যস্খলন করেছিলো, সেবার সে সময়ে ইশ্বর এসেছিলেন শুভেচ্ছা সফরে, স্খলিতবীর্যে ইশ্বরের পদস্খলন হলো এবং তিনি তার কোমড়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়ে সফর অসম্পুর্ন রেখে ফিরে গেলেন, সেবার জান্নাতুল বুরবকে পড়তে আসা ছাত্রগনের সমাবর্তন অসম্পুর্ন থাকলো। এর পর কতৃপক্ষ নোটিশ ঝুলিয়েছেন- এ কথা জান্নাতুল বুরবকের ইতিহাসে লিখিত আছে।
সে পামর নাগরিককে কোনো শাস্তি প্রদান করা যায় নি, কারন আদতে সে কোনো নিয়ম ভঙ্গ করে নাই, এর পর বিধান আসলো, হস্তমৌথুন নিষিদ্ধ এবং সঙ্গমের পর শুধুমাত্র যোনীতে বীর্যস্খলন করিতে হইবেক। পায়ুকামী কতিপয় দুরাত্মা এতে বেঁকে বসেছিলো তবে তাদের দিকে চোখ মটকে দারোয়ান বলেছে আরে বাবা ঘরের ভেতর আপনার গোলাম রসুলের পথ অনুসরন করেন না আল্লাহর রসুলের পথ অনুসরন করেন এটা আমাদের বিবেচ্য না। আমরা কারো ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন্য ঘরের ভেতর গোয়েন্দা ক্যামেরা বসাবো না। তবে নিয়মে থাকতে হয় তাই রাখা, আর পায়ুকাম নিষিদ্ধ বিবেচিত হইতেছিলো তবে এখন পায়ুকামীরাও দাবিদাওয়া নিয়ে মিছিল মিটিং করছে, ইশ্বর তাদের সাথে আলোচনা করছেন,যদি সেটা পাশ হয় তাহলে সংশোধনের মাধ্যম্যে আইন বদলানো হবে, এর আগে পর্যন্ত আপনারা আপনাদের নিজস্ব জীবনযাপন করেন।
দাবিদাওয়ার প্রকম্পিত বায়তুল মামুরের মিনার তবে এ বিষয়ে খবর আসে না তেমন, লোক মারফত খবর আসে মাঝে মাঝে তবে কেউ মুখ খুলতে চায় না, জান্নাতুল ফেরদৌসের ঘটনা জান্নাতুল ফেরদৌসেই আটকা পড়ে থাকে।
মানুষের জ্ঞানের আকাংক্ষা কত বিচিত্র রূপেই না প্রকাশিত হয়। মজমা বৈকুণ্ঠ শব্দাবলী আধোঘুমে না শুনিলে হয়তো আশেকুল ঈমানের ভেতরে প্রশ্নের জন্ম হতো না, সে প্রশ্নের জন্ম না হলে এভাবে এখন মসজিদুল আকসায় বসে পুঁথি পড়তো না সে, ইশ্বর তার রূপকে কত বিচিত্র ভাবেই না প্রকাশিত করেন। তার করূনার রীতি বোঝা ভার।
এমনই একদিন ফজরের ওয়াক্তে ইমাম সাহেব খুতবা দিলেন, অভিযোগ নিসন্দেহে গুরুতর, সাধারনত খুতবা দেওয়া হয় শুক্রবার দুপুরে, সে রীতি ভঙ্গ করে যখন ফজরের ওয়াক্তে তাও মঙ্গল বারে খুতবা দেওয়া হলো অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর-
ইমাম সাহেব খুতবা শুরু করলেন- আমাদের কাছে খবর এসেছে এখানের কতিপয় দুরাচারী বান্দা রাতের অন্ধকারে পশ্চিমের বেড়া অতিক্রম করে ইন্দ্রপুরিতে গিয়ে পাপকার্য সম্পাদন করছে।তাদের পাপের স্পর্শ লেগেছে এখানেও, তাই এখানের কতিপয় বান্দার লিঙ্গাগ্রে সংক্রামন হয়েছে, প্রতিষোধক না পাওয়া পর্যন্ত-ইমাম সাহেব বলেন, এই দেয়ালে রক্ষিত তালিকার নারী ও বালক সকলে কেউ গমন করিবে না। আর দোষিদের তালিকা আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে, আমরা তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সহ শাস্তির সুপারিশ করিবো।
এখানে কেউ এমন অবস্থার কথা চিন্তাও করে নাই, তাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধক্ষমতা ক্ষীন, তাই এই মরকে খুব দ্্রুতই কিছু নারী ও বালক মৃতু্য বরন করিলো। এবং তারও কিছু দিন পর কতিপয় পুরুষ মৃতু্যবরন করিলো। আশেকুল ঈমানের জীবনে কখনই জানাযায় অংশগ্রহনের সুযোগ হয় নাই, এবার সে আশা পূর্ন হলো তার।
অবশেষে একদিন মিছিল নামলো পথে, অধিকার চাই ব্যানার নিয়ে- সেখানের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ জানালো, আমাদের বলা হয়েছিলো আমরা এখানে পৃথিবীর যাবতীয় সুখর উপকরন পাইবো, কিন্তু আমাদের সহিত বিশ্বাস ঘাতকতা করা হইয়াছে, এখানের শ্বেতকায়া নারী ব্যাতীত অন্য কোনো নারী নেই, রৌদ্্রে পোড়া তামাটে চামড়ার নারী নেই এখানে, নেই কৃষ্ণকায়া, উজ্জলশ্যামা হরিনী নয়নী রমনিরা।
তাদের ছবি মাঝে মাঝে দেখা যায় তবে আমরা জান্নাতবিহারে গিয়ে কোথাও তাদের দেখা পাই নাই, আমাদের এসব নারীসঙ্গ বর্জিত রেখে আমাদের সহিত করা চুক্তির বরখেলাপ করা হইয়াছে। আমরাও সঙ্গমনিমিত্তে এইসব রক্তশুন্যতায় ভোগা শ্বেতকায়া ব্যাতীত অন্য সব নারী চাই।
আমাদের এখানের নারীরা নৃত্যপটিয়সী নয়, তাহাদের 64 পদের কামকলা শেখানো হয় নাই, আমাদের খাদ্যসমস্যা নেই তবে খাদ্য এবং পানীয় সব নয় জীবনে, আমাদের বিনোদন প্রয়োজন, আর এমন বিনোদন উপকরনের সবটুকু আমরা পাইতেছি না এখানে, আমাদের দাবি মেনে নাও অথবা গদী ছেড়ে দাও বলে প্রকম্পিত হলো জান্নাতুল বুরবক চত্ত্বর।
জনসাধারনের ভেতরে বিক্ষোভ চরমে উঠলো, আসলে মৃতু্যর পর স্মৃতির বিনাশ ঘটে তাই পুনরুত্থিত হওয়ার পরে আশে পাশে শ্বেতকায়া দেখিয়া তাহাদের ধারনা হইয়াছিলো বোধ হয় বিশ্বে শুধুমাত্র শ্বেতকায়ারাই রহিয়াছে। এ ছাড়াও অন্যবর্ণের ও গঠনের নারী ও বালক বিশ্বে রহিয়াছে এ বিষয়ে তাহাদের ধারনা ছিলো না। এবং ইমাম পরবর্তি এক জুম্মার খোতবায় অভিযুক্তদের নামের তালিকা প্রকাশ করিলেন,
সালেকিন হাসনাইন, মাই দুল ইসলাম, এরা হইলো পালের গোদা, এছাড়া ইহাদের ইয়ার দোস্তরা মিলে একটা মধুচক্র গঠিন রকিয়াছিলো, উহাদের পাঠ্যক্রম শেষ হইয়া গিয়াছিলো অনেক আগেই এরপরও তাহারা তাহাদের পাঠ শেষ করে নাই, এত দিন জনগন ভাবিত তাহদের জ্ঞানের তৃষা অসীম তাই উচ্চশিক্ষার্থে তাহারা েই জান্নাতুল বুরবক ত্যাগ করিতে চাহে না, এখন সব জানিবার পর তাহাদের ভেতরে সন্দেহ দানা বাধিল আসলে মধুলোভী পতঙ্গ যেমন ফুলবনের আশে পাশে ঘোরা ফেরা করে এই মধুচক্রের সকল সদস্য সেই যৌবনলোভী মধুমক্ষিকার ন্যায় এখানেই ঘুরঘুর করিতেছিলো কামনাচরিতার্থ করিবার নিমিত্তে। তাহারা কিঞ্চিৎ মনঃক্ষুন্ন হইলেও তাহাদের চোখের সামনে এমন একটা জগত খুলিয়া দেওয়ার জন্য তাহাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাইতে ভুল করিলো না।
সালেকিন ও মাইদুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা- ইশ্বর উহাদের মঙ্গল করুন এমন চিকা পড়িলো মসজিদুল আকসার দেয়ালে।
তাহাদের শাস্তির দাবি উত্থিত হইলেও ব্যাপক গনরোষের কারনে ইশ্বর তাহাদের উন্মুক্ত বিচারে আহববানে সম্মতি জানাইলেন। অতঃপর শনিবার দ্্বিপ্রহরে তাহাদের উন্মুক্ত বিচার অনুষ্ঠিত হইলো। সেখানে সালেকিন হাসনাইন এবং মাই দুল ইসলাম তাহাদের লিখিত জবানবন্দি পাঠ করিলো।
( আগামি খন্ডে সমাপ্য)
উৎসর্গমুখফোড় এবং সাধক শঙ্কুকে, মুখফোড় ভাইটু তোমার স্বর্গের পাঠানো রিপোর্টের অভাবে আমার পত্রিকার বাজার কমিয়া যাইতেছে, জলদি জলদি রিপোর্ট পাঠাও
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




