বোধ হয় কবি সমাজের ত্রাস হয়ে গেছি, কেউ কবিতা লিখছে না, আজ সমাজের বড় দুর্দিন, কে দেবে আলো, কে দেবে আশা? আমার পসার নেই। মনের দুঃখে তাই গদ্য লিখি। আজকের গল্প ::::::::::::::::::::
ঢাকা শহরের এক বনেদি পরিবার, 4 প্রজন্ম ধরে ঢাকায় বসবাস, পরিচিত মানুষজনের সংখ্যাও কম নয়, বন্ধু শুভাকাংক্ষি নিয়ে 4র্থ প্রজন্মের দিন কেটে যাচ্ছিল ভালোই।
পরদাদা ফৈতা বেপারি এসেছিলো মাছের ব্যাপারি হয়ে, কাপ্তান বাজারের বটতলায় ঝাকায় মাছ বেচতো বুড়িগঙ্গা থেকে এনে, বড় ছেলেকে পাঠিয়েছিলো মিশনারি স্কুলে,সে প্রবেশিকা পাশ দিয়ে, কিছুদিন কালেকটর অফিসে কাজ করলো, জমির হিসেব নয় ছয় করে কদিনেই বেশ কাচা পয়সা হলো তার, পিতৃপ্রদত্ত নাম রমজান মিয়া বদলে রাখলো রমিজ আলি খান, আর ছোটো ভাইকে লাগালো কন্টাকটরিতে , আয়ুব খানের আমল, ইসলামাবাদে হু হু উন্নয়ন চলছে, তার জিনিষপত্রের সাপ্লাই দেওয়া, ঢাকায় সরকারি কোয়াটার উঠলো তার ঠিকাদারি, কাচা পয়সার উপরে গড়াগড়ি দেওয়া অবস্থা, ফৈতা বেপারির 2 ছেলেই বেশ পেতিষ্ঠা পেয়েছে, ফৈতা বেপারির নিজেরও অবস্থা ফিরেছে, একটা ঝাকা নিয়ে ,'35 শুরু করা মাছের ব্যাবসা থেকে এখন তার আড়ত হয়েছে শ্যামবাজারে,
সফেদ দাড়ি সফেদ লুঙ্গি পড়ে তিনি মাছের আড়তে বসে বসে বুড়িগঙ্গার বাতাস লাগান গায়ে, বয়েসও কম হলো না, প্রায় 3 কুড়ি। বড় ছেলে থাকে মতিলাল লেনে, এক হিন্দু বুড়ির বাসা দখল করে, আর ছোটো ছেলে নিজের বাসা করেছে বাড্ডায়, ওদিকটাতে যান না তিনি, রামপুরার আশে পাশে ধানিজমিগুলো কেনার শখ ছিলো তার, ছোটোবেলার তমিজ মহাজনের কাছে বাবা ভিটা বন্ধক রাখার পর থেকে আর তার নিজের জমি জিরাত হয় নি, তার শখ পুরন হয়েছে, মতলবের শাখাপুরা গ্রামে তার নিজের ধানি জমি 15 বিঘা, একটা বসতভিটা বানিয়েছেন, পুকুর কেটেছেন, পাশের কুতুব মিয়ার বাগান ডাক দিয়ে আমের ব্যাবসাও করছেন কিছুদিন হলো।
ছেলেরা যাওয়ার সময় পায় না, তবে ছেলের বৌ আর নাতি নাতনি গরমের ছুটিতে যায়, কয়েকদিন দাপিয়ে রং ময়লা করে ফিরে আসে,
বড় ছেলের 5 সন্তান, 3টা ছেলে 2 টা মেয়ে, ছোটো ছেলের ঘরে 4 জন, 2টা ছেলে 2টা মেয়ে, বড় ছেলের বৌ এনেছিলেন বরিশাল থেকে, সুন্দর করে কথা বলে, ছোটো ছেলে ঠিকাদারি কাজে পাকিস্তান গিয়ে পেশওয়ারের মেয়ে নিয়া ফিরেছে, উর্দুতে কথা বলে না তার সাথে কিন্তু মাঝে মাঝেই উর্দু জবান চলে আসে,
আসলো '66 , আয়ুব শাহী নিপাত যাক, মিছিল মিটিং, জেল, সবই দেখেছেন তিনি, এর মধ্যে ইন্ডিয়ার সাথে যুদ্ধের বদৌলতে শাখারি বাজারের আশে পাশে টুপিধারি লোকজনের আনাগোনা বাড়লো, লক্ষী, পারুল, জয়া, সব হিন্দু বাড়ির মেয়েদের দিকে চোখা নজর, তিনি খবর পান, তার বড় ছেলেও এর পেছনে জড়িত , বিগত যৌবন ধার্মিক ফৈতা মিয়া কি কৈফিয়ত দিবেন বড় মিয়ার কাছে এ নিয়ে ভীষন চিন্তিত, নবী বলেছেন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে, কিন্তু তার 2 ছেলেই তো জাহেল, পরের সম্পদ হরণ করে, আল্লা মিয়া আমারে মাফ করে দিও, প্রতই দইন তাহাজ্জুদের নামাজে এই প্রার্থনা করেন, লতু বিবি মাঝে মাঝে ঘুম থেকে উঠে দেখেন ফৈতা মিয়ার সফেদ দাড়ির কিছু অংশ ভেজা, তিনি বুঝে পান না কেনো এই পাগল লোকটা ছেলেদের দেখতেই পারেন না, বড় ছেলে রমিজ, একটু নেশা ভাং করে, মাঝে মাঝে টংগির ওদিকে গিয়ে মেয়ে নিয়ে ফুর্তি করে আসে, কিন্তু এ যুগে এসব নিয়ে কেউ কি মাথা ঘামায়, আর রমিজ বা করবেই কি, তার বরিশালের বিবিতো কয়েকবছর বিছানায়, মাঝ বয়েসের পুরুষ শরিরে দাবি তো থাকবেই, মাঝে মাঝে একটু আধটু এসব করলে দওষের কিছুই নেই।
ছোটো ছেলে বাবার আশে পাশে আসে না , বাড্ডার ওদিকে থাকে , ক্যান্টনমেন্টের লোকজনের সাথে খাতির, ওর বৌয়ের উর্দু জবানের প্রভাবে তার কথায়ও কিছু উর্দু প্রভাব পড়েছে,
মেজর শওকত, কর্নেল জামশেদ, প্রায় প্রতি রাতেই সস্ত্রিক খানা খেয়ে যান,
25শে ভাদ্্র 1373 দেশব্যাপি ভীষন গোলোযোগের মধ্যে ফৈতা বেপারির আড়তে ঘুমিয়ে পরলেনতিনি।
ঘুমের মধ্যেই ঘামলেন, গগন যখন টের পেলো, মিটফোর্ডে আনতে আনতে সব শেষ, বাসায় খবর দিলো বিকাল 5টায়, তার পর কাগজিটুলি লেনে 25/4 নাম্বার বাসায় একে একে জমা হলো সবাই।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




