শাখামৃগদের গল্প --------------- নুনিয়াছড়ির পাহড়ে জম্বুবান বালিকে নিয়ে কদলি খাইতেছিলেন, তখন দ্্বিপ্রহর। আকাশ দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল পুষ্পক রথ, রথে সীতা দেবি হিন্দি ফিল্মের নায়িকার মতো হাত পা ছুড়ছেন, অনেক উচু দিয়ে উড়ে যাওয়া রথে তিনি কি বলছিলেন তা জম্বুবান শোনেন নি। তিনি শুধু অঙ্গভঙ্গি দেখে বুঝলেন সর্ষেতে ভুত আছে, বালিকে বলিলেন, বৎসে তুমি যাও , গিয়ে সুগ্রিবকে খবর দাও, মেলা গেঞ্জাম আসতেছে সামনে, বৈচি পুরানে পড়েছিলাম ,
তখন আকাশ দিয়ে উড়ে যাবে রথ,
কোমল কোকিলার পাখা ঝটপট
দেখিবে, এর 3 চাদের পর কন্তককান্তি যুবা আসিবে তোমাদিগের কাছে, তাকে সাহায্য করিও।
যাও বৎস পিতৃব্যকে খবর দাও সে সময় উপস্থিত।
বেমওকা বিবি হারিয়ে লজ্জাকাতর রাম, লক্ষনের মাতৃকুলের চৌদ্দ পুরুষ ুদ্ধার করিতেছিলেন তখন, বেটা ছেলে বদের বদ, রাবনের কাছে ভাংয়ের সরবতের টাকা নিয়ে দিব্যি বেটাছেলে ইয়ার বন্ধু নিয়ে কাশ্মির কলি ফিল্ম দেখছইলো, আর সীতার পরকিয়া চেপে গেলো বেমালুম, আমি গেলাম সুন্দরবন, সোনার হরিণ পেলাম না, হারালাম আমার প্রানপ্রিয় বউ, আর তুমি ভগবান দাত কেলিয়ে হাসো।
রাম লক্ষনকে নিয়ে চললেন, লক্ষন খুশি, লংকায় যাবেন, রাবন দাদার ছোটোবোনটি দিব্যি ডাগর হয়েছে, আহা আহা মরি মরি, কি রূপ, কি ফিগার, আহা আহা...........
তারপরে কেটে গেছে অনেক অনেক দিন........ এসব গালগল্প পুরোনো হয়েছে, ছাপখানার দৌলতে এখন বিয়ানি বাজার থেকে রামকান্তপুর সবখানেই পুষ্পক রথের পরের উপখ্যান পাওয়া যায়। শাখামৃগকুলপতি ঘোষনা দিয়েছেন, তার রাজত্বে এখন শধুুমাত্র পুষ্পকরথের পরের উপখ্যান একমাত্র প্রামন্য উপাসনা মাধ্যম হবে,
এত দ্্বারা ঘোষনা করা হলো, অদ্য লংকা জয়ের 134তম বার্ষিকি থেকে শুধুমাত্র শাখামৃগকূল পুষ্পকরথের পরের উপখ্যানকে শাখামৃগ সমাজের একমাত্র কিতাব মনে করিবেন। এখানেই লিপিবদ্ধ আছে শাখামৃগকুলের অতিত ভবিষ্যত ।জীবনধারনের সবকিছুই পাইবে তারা এ কিতাব হতে, এবং এর পুর্বের বৈচি পুরান ও কদলি পুরান এ ঘোষনা দ্্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হলো। যেখানে পাওয়া যাবে বৈচি পুরানের কপি সেখানেই পুড়িয়ে ফেলা হবে, সাধারন শাখামৃগদের অনুরোধ করা যাইতেছে, তাদের যার যার জিম্মায় এ দুইটি বইয়ের কপি রহিয়াছে তারা যেনো অতিসত্তর জমা দিয়া পুষ্পক রথের পরের উপখ্যান সংগ্রহ করে।
তার 10 বছর পরে আসলো এ ঘোষনা এখন থেকে স্কুলে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসচর্চা নিষিদ্ধ, ইতিহাস চর্চার নাম করে জাতীয় সংগ্রহশালা থেকে বৈচি পুরান সংগ্রহ করে কিছু পুরাতনপন্থি শিক্ষক ছেলেদের বিভ্রান্ত করছেন, তাদের মৃতু্যদন্ড দেওয়া হইলো, এবং ইতিহাসচর্চা নিষিদ্ধ ঘোষিত হলো।
এর পরে আরও 100 বছর কেটেছে, বৈচি পুরানের অনুসারিরা নুনিয়াছড়ির পাহার ছেড়ে আবাস গড়েছে বান্দারবানে আর সেখানে টিকতে না পেরে কদলিপুরানের অনুসারিরা বসত গড়েছে কামাখ্যায়।
নুনিয়াছড়ি থেকে আসলো এক যুবা, তার ধ্যানে পুষ্পক রথের জম্বুবান, সে তার আদর্শ , তার জীবনি পাঠ করে সে হিমছড়ির পাহাড়ে বসে বসে আকাশ দেখছিলো। হিমছড়ির শাখামৃগকূলের অধিপতি গন কখনই কারো সাথে যুদ্ধ করেন নি, নিরিহ শান্তিপ্রিয় হিসেবে তাদের আতিথেয়তার সুনাম সবাই করে, সেখানে শিক্ষাঙ্গনে সৃষ্টিশীল শাখামৃগদিগের পদচারনা, সবাই সেখানে আসেন , জ্ঞানের ভান্ডার ভরে নিয়ে যান নিজের দেশে।
কিন্তু নুনিয়াছড়ির যুবা শাখামৃগ আসিয়া দেখিলো হিমছড়ির কেউ পুরান নিয়া বিশেষ মাথা ঘামায় না, এসব তাদের কাছে উপকথা, রুপকথা, এই অনুভব সে লিখলো হিমছড়ির দৈনিক অরুনিমাতে, তার উত্তরে এক পাঠক জানালো, উপকথা কিংবা রুপকথা নিয়ে বৃথা মাথা না ঘামিয়ে সে যেনো পালসবীটের 64ঘাত সমিকরণ নিয়ে মাথা ঘামায়, বর্তমান সময়ে এ সমিকরণের কদর বেশি।
ক্ষিপ্ত যুবা শাখামৃগ জন্মুমান পরবর্তি লেখায় পাঠকের মুন্ডুপাত করলো। এভাবে চললো বেশ অনেক দিন, এ পত্রাঘাতের খবর চলে গেলো আকাশ চ্যানেলে, সেখানে প্রতিদিন ভোরে প্রভাতি কাগজের তাজা খবর হিসেবে জম্মুমান এবং নামহীন সে পাঠকের কলম যুদ্ধের খবর বলা হলো অনেক বার।
নুনিয়াছড়িতে বিশাল আনন্দ মিছিল হলো। গ্রামের কৃতি সন্তানের সংবর্ধনা দেবার জন্য ক্রমাগত পত্র আসিতে লাগিল, এবং বেশ কিছু মেয়ে ভক্ত জুটিয়া গেলো জম্মুমানের। তারা রাতে মুঠোফোনে প্রেমপ্রস্তাবও পাঠালো কয়েকটা, নাইটশোতে কিছু ভাড় এনিয়ে কৌতুক করলো।
এর পর কতৃপক্ষ জাগিয়া উঠিলেন। বলিলেন এরূপ কলহ ভালো নয়, এতে শাখামৃগসমপ্রিতি নষ্ট হয়, আড়ালে জম্মুমানকে বলিলেন, তোমার এসব ছাইপাশ লিখা বন্ধ করো। জম্মুমান মনের দুঃখে "হিমছিড়ির বুকে" কলাম লিখা ধরিল। হিমছড়ির যুব সমাজ কিভাবে অধঃপাতে যাইতেছে এ বিষয়ে তার তুমুল আগুনঝড়া লেখা প্রতি দিন ছাপা হতে থাকলো। জম্মুমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, সেখান থেকে ফিরে আসে, সহপাঠিদের পোশকের খুত ধরে লেখায়। এ ছাটের পোশাক পরেন নি জম্বুবান, সে ক্যাফেটেরিয়ার খায় লুচি ডিম, ফিরে এসে লিখে, হিমছড়ির খাদ্যাভ্যাস জঘন্য, কদলি খেতে বলেছেন ছিলকা সহ জম্বু বান তারা ছিলকা ফেলে কদলি বিক্রয় করে , আমি ওদিন পাশের করিডোরে কদলি ছিলকার কোপে ধরাশায়ি হয়েছি, কোমরে বিষম ব্যাথা।
এরপর ক্রমাগত ক্রনিক চিন্তায় তার নিদ্্রাব্যাঘাত ঘটিল। না ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে তার চিন্তা ভাবনা হলো এলোমেলো, নুনিয়াছড়িতে তার ভক্তকুলের কোপ পড়িলো হিমছড়ির সাধারন জনতার উপরে, তারা নারিলিপ্সু, তারা মাদকাসক্ত, তারা মানির সম্মান দিতে জানে না, ইত্যকার সংবাদে ভরে উঠলো নুনিয়াছড়ির দৈনিকগুলো।
তদন্ত করে জানা গেলো জম্মুমান হিমছড়িতে সে কিছু যৌবনবতি শাখামৃগাদের পিছু ধাওয়া করেছিলো কিন্তু সেখানে হালে পানি না পেয়ে বিষম খেয়ে সে যাবতিয় মহিলাদের প্রতি ক্ষুব্ধ, তার সেই হতাশা ব্যাক্ত হয় তার লেখনি তে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সকাল ৮:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




