স্বপ্নদোষ বা ড্রিম ফল শব্দটা আমাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে সচেতন ভাবে প্রকাশ করে। আমাদের ভেতরে যৌনতাবিষয়ক জড়তা, দ্্বিধা রয়েছে প্রবল ভাবে। আমরা নিজস্ব সত্ত্বার সাথেও লুকোচুড়ি খেলি, নিজস্ব যৌনতার বোধকেও ভিন্নার্থে বিশ্বাস করতে ও করাতে চাই। আমাদের নিত্যকার ভাষা ব্যাবহার, আমাদের শব্দ চয়ন, আমাদের চিন্তার কাঠামো নির্মান এবং শব্দজনিত সংবেদন সব বিষয়েই আড়াল খুঁজছি আমরা।
স্বপ্ন দোষ এবং এর পরবর্তি বিহবলতা, কৈশোর অতর্কিতে কলুষিত ,এ ভাবনা বয়ে নিয়ে যাওয়াম বটতলার সঙ্গির কাছে জানতে পারা প্রথম, এভাবেই শুরু হয়, আপাত শিহরণ, উত্থান, সব ধরনের দেহজ,মনোজ নিঃসরণ আর পরিবর্তনের চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে বোধিসত্ত্ব লাভ।
স্বপ্ন কেনো দুষনীয় হবে আমাদের অবচেতন কামনা, আমাদের জৈবিক চাহিদা পরিস্ফুটিত হওয়ার জায়গাটাতে যেভাবে শব্দ চয়নে ঋণাত্বক ভাবধারা সৃষ্টি করা হয়েছে সেই লজ্জা কৈশোর থেকেই বহন করে আমরা যৌনতাবিরোধি অবস্থানে স্বস্তিবোধ করি।যেকোনো যৌন কল্পনা,যৌ পরিকল্পনা আমাদের উত্তেজিত করলেও আমরা সামাজিক, সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর ভেতরে নিজেকে স্থাপন করার প্রবনতায় আমাদের ভাবনার দুষণ এড়াতে চাই। শুঁচিবাই গ্রস্থতায় আক্রান্ত হই, শোভন সংস্কাবাদী সংগঠন চাই এবং স্পষ্ট বিধিমালাও দাবী করি উপযুক্ত কতৃপক্ষের কাছে, আমাদের ভাবনার চ'দুষ্টতা এমন শুঁচিবাই গ্রস্থ কিংবা মানসিক ভাবে অসুস্থ করে রেখেছে আমাদের যে আমরা অহেতুক কাউকে কদর্য ভেবে ফেলি অনায়াসে।
যৌন চাহিদা স্বাভাবিক একটা প্রবনতা- এবং কদর্যতা বিষয়টা এর সাথে সর্বদা সহগামী এমন বিশ্বাস আমার না।তবে ধন্য বাংলা গদ্য এবং আমাদের চৈতন্যজাগ্রতকারী অতীট মানুষদের- তাদের সময়ে অনায়াসে টারা ভাষার যেই গঠনটা দিয়ে গেছেন আমাদের এবং আমাদের দরিদ্্র এবং সার্বক্ষণিক অভাবে বসবাসকারী জনগনের কাছে আদৃত সমাজসংস্কারকদের, যে ভাষা, যে ভাবনা দরিদ্্র জনগন গ্রহন করতে আগ্রহী ছিলো তা সি্নগ্ধ প্রেমের ধারনা। আমাদের প্রেম শিখিয়েছেন, প্রেমের প্রকাশ শিখিয়েছেন 1850 সালের পরের লেখকেরা।
তাদের ভিক্টোরিয়ান ভাবাদর্শের সাহিত্য পড়ে পাওয়া অনুপ্রেরণা এবং বাংলা গদ্যের সর্বোচ্চ পৃষ্টপোষকতাকারী মিশনারী সমাজ যেমতো ভাবতে শিখিয়েছেন আমাদের ভাবতে শেখার শুরু সেখানেই। অকামজ প্রেমের পাঠ জনপ্রিয় হয়েছে, এখনও অকামজ প্রেম জনপ্রিয় চেতনায়। অধরচুম্বন কোনো স্পৃহা জাগায় না প্রাণে, প্রাণ আজ শুশ্রুষা চায়,স্নেহ চায়- উদ্দাম মিলন নয় আমাদের সি্নগ্ধতা চাই। এবং সমাজের পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো নিঃশর্ত আত্মসমর্পন চায়- পুরুষ ত্রাতা, নারী শরনার্থি-যৌথ নির্মানের কোনো প্রকল্প নেই, প্রণয়ের যাবতীয় ছলাকলা, কামসূত্রের 64 আসন শেষে আর চাওয়ার কিছুই থাকে না বাকী-যৌনলীলা কামকলা বুঝে না, দায়স্খলনের মতো সঙ্গম শেষে বাতি নিভিয়ে সমাজসংস্কারক হয়ে উঠে নর, দায়মোচনের মতো সঙ্গম শেষে নারী পাশ ফিরে শোয় অন্ধকারে- তবে যৌথ নির্মানে কে হবে প্রধান স্থপতি, কে হবে ংন্য শ্রমিক সে নির্ণয় না হওয়া পর্যন্ত, কার ভূমিকা কখন কি হবে নির্দিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত দেহজ কামনা, ইন্দ্রিয় গ্রস্থতা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আসঙ্গলিপ্সা শব্দটা তার সবটুকু অর্থ নিয়ে পরিস্ফুটিত হয় না।
আবেশে অক্লেশে আলিঙ্গন সম্ভব নয় আজ, সাময়িক শুন্যতার অনুভুতি শেষে "আজ আর নতুন কোনো অনুভব নেই" যৌথ ভাবে এ সমাপ্তিতে এসে ঘুমিয়ে পড়া।
গল্প এখানে শুরু হয়, নাটকিয়তার শুরু এখানেই- অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিল সময়টার চতুর্থ বর্ষে জাগ্রত হওয়া ভাবনাগুলো-
আমাদের শাররীক উদ্দিপনা আমাদের মানসিক কামনার সাথে ঐক্যতানিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দায়মোচনের নিশি অবসান হয় না। আমাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক কাঠামোতে মানসিক কামজ উদ্দিপনা জাগ্রতকারী ভাবনাগুলো সঙ্গতকারণেই অবদমিত, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে প্রেম বিলাসিতা।যৌনতারূপকল্প ভাববার অবকাশ নেই, বরং কামদায়গ্রস্থ হয়ে গলগ্রহের মতো দার পরিগ্রহন, সামাজিক চাপে উপগ্রহের মতো দারের চারপাশে বাউলি কেটে যাওয়া যৌনতারূপকল্পের সাময়িক তৃপ্তি কিংবা উত্তরাধিকারী সৃষ্টির দায়-
যৌনতা মানুষের স্বাভাবিক চাহিদা- তবে নানাবিধ অনিশ্চয়তা ওসঙ্কটপূর্ণ জীবনযাপনে আমরা আমাদের যৌনতার অবচেতন ধারণাগুলোকে কখনই নিজের কাছে প্রকাশ্য করতে পারি না।সাহিত্য আমাদের ভাবনার খোরাক, সেখানেও তেমন ভাবে চিন্তার উপকরণ নেই, বটতলার সাহিত্য বা কবির লড়াইয়ে কবিয়ালদের সস্তা অশীলতা মোটেও যৌনতারূপকল্পের সাথে যায় না, কিংবা এতটা স্থুল ভাবনায় আমাদের নিজস্ব ব্যতিক্রমগুলো ফুটে উঠে না- উপগত সে তো প্রাণিমাত্রই হয়।
প্রেম আমাদের অবচেতন কাম্য নারীর সন্ধান- আমাদের সচেতন ভাবনায় প্রেমার্তের প্রেমের প্রকাশ " তার চোখ সুন্দর, তার হাসি সুন্দর, তার কথা সুন্দর,সে যেভাবে বসে থাকে সে ব্র ীড়া সুন্দর- এবং এসব অযৌন শব্দকোষে কোথাও দেহজ বা মানসিক কামজ উপাদান নেই। আমাদের প্রথম প্রেমিকার আদলে পরবর্তি প্রেমিকার খোঁজ- শাররীক কাঠামো, দেহের মুদ্্রা এবং ভাবনা প্রকাশের মিল খুঁজে আমরা সম্পর্ক স্থাপন করতে থাকি- অবশেষে সাময়িক নিস্কৃতি- সে সমেয় রূপকথা লিখিত হয়- অতঃপর তাহারা সুখে শান্তিতে সবসাব করিতে লাগিলো।
এমন বিলাসিতার সুযোগ পায় কয় জনায়।বিভিন্ন জৈবনিক চাহিদাপুরণের পর আমাদের মানসিক স্পৃহা থাকে না- প্রেমের চাহিদা জাগায় বিনোদন।স্থুলাঙ্গী যৌনতার দেবী যার ক্ষীনাঙ্গী তার সহধর্মিনী হলে তার প্রচেষ্টা থাকে কিভাবে ক্ষীনাঙ্গিকে তার কাম্য শাররীক কাঠামো দেওয়া যায়।
এক পাক্ষিক যৌনটারূপকল্প স্বস্তিদায়ক- আমরা আমাদের মানসিক চাহিদা এবং শাররীক চাহিদার সবটুকু পুরণ করতে পারি-যখন দ্্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় যায় বিষয়টা তখন অন্য পক্ষের সাররীক সক্ষমতার বিচার্য হয়ে উঠে।যৌনতারূপকল্প যেমন উত্তেজক সক্রিয় সঙ্গম সর্বদা ততটা সুখদ নয়- এমন যৌন হতাশা পক্ষান্তরে সবটুকু চাহিদা বা কল্পনার অপূর্ণতা।
সাময়িক সুবিধা বিবেচনা করে আমরা আমাদের কামকলার চর্চা করি বিভিন্ন প্রকারে। সবরকম প্রক্রিয়া চর্চার পর কামজ উদ্দিপনা এবং নারী একটু বিচ্ছিন্ন অবস্থানে। আমরা প্রকৃত সঙ্গম করি ক'জনায়। ইন্দ্রিয়গ্রস্থতা নেই যেখানে, যেখানে আহবান নেই, যেখানে সমর্পন নেই সেখানে সঙ্গম নেহায়েত শাররীক কসরত। আমাদের যৌনদায়স্খলন।
প্রেমিকার সঙ্গসুখ,অকামজ শব্দকোষের সবগুলো শব্দ একটা পর্যায়ে আমাদের বিভ্রান্ত করে।শরীর স্পর্শ চায়, একটু ছোঁয়া চায়, এই একটু সাংস্কৃতিক সীমারেখা মেনেই চলতে চায়। আমি কায়া-মন-বাক্যে তোমাকেই চাই- আমি তোমাতেই সমর্পিত প্রকৃত ভাবনায়- যৌনসম্পর্ক শুরুর আগের পূর্বরাগ,অপেক্ষা সুখদ তবে শৃঙ্গারের অবসানে বিচ্ছেদ আমাদের কামদায়গ্রস্থ করে। আমরা কায়া-মন-বাক্যে সমর্পিতার কাছে প্রবেশাধিকার না পেয়ে ভিন্নপাত্রে দায়স্খলন করি। আমরা প্রার্থিতার কাছে সর্বান্তকরণে সমর্পিত থেকেই ভিন্ন শরীরে উপগত হই।
আমাদের অবদমনের সুযোগ কম- তেমন শাররীক কাঠামো সংক্রান্ত জটিলতার অবসান না হলে এক পর্যায়ে আমরা সঙ্গমনিরাসক্ত হয়ে উঠার পর ভিন্ন ভিন্ন পাত্রী সংগ্রাহাভিযান শুরু করি। সঙ্গননিরাসক্তি যৌনঅবদমনের চুড়ান্ত ধাপ। আমাদের ভেতরে যদি প্রার্থিত নারীর অবয়ব স্পষ্ট না হয়, আমাদের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ ও পশ্চাৎপট যদি পরিস্কার না হয়- আমাদের যেসব যৌনতারূপকল্প আমাদের তীব্র সংবেদনশীল করে তা যদি আমরা অনুধাবনে ব্যর্থ হই টাহলে আমাদের যৌন অতৃপ্তি বিভিন্ন নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাবে।
আমার এক বন্ধু গৃহভৃত্তাসক্ত ছিলো। প্রচ্ছন্ন কামবোধ ভেতরে নিয়ে অলস দুপুরে প্রতিবেশীর গৃহে সঙ্গমনিমিত্তে গৃহভৃত্তার সন্ধানে কাটানো সময় কিংবা এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহন তাকে যেভাবে চনমনে সংবেদনশীল করেছিলো তেমনটা শুধু তার জন্যেই প্রযোজ্য নয়- এমন চাহিদা অনেকেই ভেতরে ধারন করে। এমন কামনা অনেককেই উদ্দিপ্ত করে থাকে।
পরিশুদ্ধ যৌনকামনা, সুশীল সংবেদনশীল যৌনকামনা এমন একটা পর্যায় যেখানে শাররীক কাঠামোর আপাত সমস্যার নিরসন কয়েছে- আমর অনুরাগ বিদগ্ধ নারীকূলের প্রতি না কি অকপট গ্রমতার প্রতি- সঙ্গমকালীন ভাবনাবিনিময়ে আমি শেলী কিটস শুনতে চাই না কি রসময়ের রসঘন বয়ান। আমি রাষ্ট্র এবং পররাস্ট্র নীতি আলোচনা করবো কিংবা রং এর মানসিক সংবেদন আলোচনা করবো শৃঙ্গারকালীন সময়ে - এসব বিলাসিতা সে নিরীক্ষার ফসল হটে পারে।
শাররীক সম্পর্ক স্থাপন সহজ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, এর পেছনের মানসিক অবকাঠামো বা মানসিক নসগবেদন সম্পর্কে অনবহিত থেকেও জীবন যাপন সম্ভব।চতুর্থ বর্ষে আলোচিত সমস্যাগুলোর অধিকাংশই এমন যৌননিরাসক্তির। এ বিষয়টা আসলে সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বেই ভেবে নেওয়া উচিত ছিলো।
আমাদের সামনে দিয়ে একাধিক নারী হেঁটে গেলে আমাদের মানসিক সংবেদনে সবার প্রতি আকর্ষিত হওয়ার পরিমানটা উপলব্ধি করা যায় হয়তো।বিভিন্ন শাররীক কাঠামো, মুখ ও অভিব্যাক্তি আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সংবেদন দেয়। আমাদের সি্নগ্ধতার অনুভব আসে, কোমলতার অনুভব আসে। মনে বিভিন্ন বিশেষণ জন্ম নেয়, তবে সেক্সঅ্যাপিলের যথাযোগ্য অনুবাদ খুঁজে পাচ্ছি না। লিবিডো অবশ্য টেমন পরিপূরক শব্দকোষের অন্তর্ভূক্ত হতে পারে না, কামার্ততা, কামজর্জরিত অবস্থা এবং তার ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার পরিচায়ক শব্দ অনুপস্থিত আমাদের ব্যাবহৃত শব্দকোষে। উগ্র সৈন্দর্য বন্য সৈন্দর্য সি্নগ্ধ মুখচ্ছবি, আঁকন সুন্দরী, দেখন সুন্দরী- এসব বিশেষন অনুপুযুক্ত হলেও শেষমেষ সর্বাপেক্সা আকর্ষনীয় রমণীয় নারী একেবারে চলতি ভাষায় কোপাইন্যা মাল।
রমণীয় শব্দটার যৌংন্ধ মুছে গেছে শালীন ব্যাবহারে। রমণ করিবার উপযুক্ত কাম্য নারীর প্রতিরূপে যে সি্নগ্ধতার আবেশ ছড়ানো তার সাথে কোপাইন্যা শব্দটা যোজন দুরত্ব রাখে। রমণীয় তার রমনজড়িত অবস্থাচু্যত হয়ে এখন কোমলতার প্রতিমূর্তি।
আমাদের অবশিষ্ট নিত্যব্যাবহার্য শব্দকোষে আমরা সঙ্গমনিরাসক্তির স্পষ্ট ভাব খুঁজে পাই না। রূপকথা শেষ হওয়ার 4 বছর পরে আবার নতুন করে আবিস্কারের তাগিদ থাকে না, দীর্ঘকালীন সহবাসের( উভয়ার্থে) অভ্যাস সঙ্গমনিরাসক্ত রাত্রিযাপন, দায়মোচনের অমা নিয়ে আসে। এমন সময়ে উদঘাটনের প্রচেষ্টা নিতে হয়। একটু বিচ্ছিন্ন থেকে পরিনত মননে ভাবতে হয় পরস্পরকে পরস্পরের কাছে আকর্ষণীয় করে রাখার কৌশল।
আমাদের সংবেদন, আমাদের ভাবনার কাঠামো এবং এর ভাষাতাত্তি্বক নির্মানের গল্প শেষ করছি একটা প্রতিবেদন দিয়ে-
মিশনারী কিংবা ধর্মপ্রচারকদের ভূমিকা সভ্যতার ইতিহাসে ব্যাপক। এমন একটা বিচ্ছিন্ন সমাজে খ্রিস্ট প্রেমে উদ্্বুদ্ধ কতিপয় মানুষ প্রেমের বানী নিয়ে গিয়েছিলো( আমাদের মুসলিম খেলাফত সম্রাজ্য ও ধর্ম সমপ্রসারণের কৌশল হিসেবে খাপ খোলা তলোয়ার পছন্দ করে, শিশ্নও সেভাবেই তলোয়াররূপি) সেই বিচ্ছিন্ন সমাজে যৌথ যৌনতার চর্চা ছিলো। অনুরাগ হয়তো তাদের শব্দকোষে ছিলো তবে প্রেম একেবারেই নবীন অনুভব টাদের জীবনে। যৌথ যৌনতায় প্রতি পূর্ণিমায় সঙ্গম উৎসব হতো, পারস্পরিক সম্মতিতে যেকোনো পুরুষ যেকোনো নারীতে উপগত হতে পারতো।
অবশেষে মিশনারীরা টাদের ভেতরে প্রেম, ব্যক্তিমালিকানাবোধ সহ সভ্যতার যাবতীয় উপকরন প্রবিষ্ট করতে সক্ষম হলেন। ইর্ষা নামক রিপূটা, সেই প্রাচীন অনুভব যা স্পষ্ট দমিত ছিলো প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য তা বহুগুনে বিবর্ধিত হলো। অবশেষে একগামীটার, ব্যক্তিসত্ত্বের ধারণাটা টাদের প্রেমাভাবকে তাড়া করলো।
যৌথযৌনটার চর্চা তখন বিষাক্ত সামাজিক বিধি, এবং এক পর্যায়ে তারা স্পষ্ট বিদ্্রোহ করলো তাদের যৌথ যৌনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।
হয়তো পরিশুদ্ধতাবাদীরা লবে এটাই ভালো হলো। ভিক্টোরিয়ান মানসিকতা অতিক্রম করতে পরে নি যারা তাদের পক্ষে যৌথযৌনতার মানসিক চাপ গ্রহন করা সম্ভব না। আর যারা একটু োগ্রসর হয়ে রোমান্টিক যুগে প্রবেশ করেছে তাদের কাছে প্রণয়, পরিনয়, প্রণয়াকাঙ্ক্ষা শব্দগুলো কোমল সংবেদনশীলতার ক্ষেত্র, তারাও যৌথ যৌনতা পছন্দ করবে না।
আমিও কিছুটা প্রাচীন পন্থি- আমার কাছে এখনও সমর্পন, গ্রহন, আহবান গুরুত্বপূর্ণ আমি নিজেও বাংলাদেশের কিয়দংশে যৌথযৌনতার চর্চায় আতংকিত, তবে বাহ্যিক প্রভাবে সাংস্কৃতিক মুল্যবোধের নির্মান বিষয়টা সঠিক মনে হয় নি।
হয়তো মিশনারী প্রভাব না থাকলে তাদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের বিবর্তনে তারা প্রেমের ভাবগুলো গ্রহন করতে পারতো। তারা হয়তো পরিশুদ্ধ যৌনতার ধারনা পেতে পারতো- হয়তো তারা তাদের ভাষা নির্মাণের অধিকার পেলে আমাদের তুলনায় অগ্রসর ভাষা তৈরি করতে পারতো। সেসব ঘটলো না। আমরা আমাদের মিশনারী মুল্যবোধ নিয়ে যে সমস্যায় পড়েছি,আমাদের দুষিত স্বপ্ন দোষের ধাককা আমরা এখনও হজম করে উঠতে পারি নি। তাই আমাদের যৌনগন্ধি স্বপ্ন নিষিদ্ধ বিষয়ের তালিকায় উঠে গেছে।
উৎসর্গঃ তোমাকে
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ রাত ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


