somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইবানের গোলক

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অবশেষে মাথার উপরে ক্রমাগত চলতে থাকা গমগম শব্দটা থামলো।
লাবিব ক্যাকটাসের গোড়ায় ফুটো করে সেখান থেকে পানি ভরছিলেন চামড়ার থলিতে, ঘুর্ননরত চাকতিকে দেখে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন, আড়াল খোঁজার কথাও ভুলে যান। সম্বিত ফিরলো এই শব্দটা থামার পর। জায়গাটা তাইগ্রেসের 200 মাইল উত্তরে। বাবেল এখান থেকে 2 প্রহরের পথ, অবশ্য অশ্ব নিয়ে গেলে 1 প্রহরেরও কম লাগে। তিনি গরিব চাষি, অশ্ব কেনার মতো ক্ষমতা তার নেই। ফেরাতের অববাহিকাও এখান থেকে মাত্র 50 মাইল। প্রকৃতি উদার হাতে সাজিয়েছে তাদের বসতিকে, যব আর খজ্জুর ক্ষেত আছে তার। সেখানে ইয়ারুদ চাইলে ফসল ভালোই হয়, তবে তস্কর বেদুইনরা মাঝে মাঝে চলে আসে, বসতি লোপাট করে নিয়ে যায়, পেছনে যা কিছু থাকে সব আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে যায়। এই নিয়ে চার বার তাকে ঘর বানাতে হয়েছে, একেবারে শৈশবে বাপের সাথে কজ্জুর পাতার ছাউনি বানিয়েছিলো, সেবার বাপ তার বেচে গিয়েছিলো সামনের খন্দে লুকিয়ে, সেখানে তার মাও ছিলো, আর ছোটো বোন তরিফা।
এর 3 সন বাদে আবার বেদুইন এলো অশ্ব চালিয়ে, লাবিব যব ক্ষেতের আড়ালে ছিলেন ছোটো বোনটা তখন সদ্য ঋতুবতি হয়েছে, তাকে ধরে নিয়ে গেলো, শুনেছেন তাদের নিয়ে ওরা বেচে দেয় ইবানের বাজারে। বাবা ছিলেন মাঠে, ছোটোবোনটাকে বাচাতে এসেছিলেন সরকি নিয়ে, তাকে সেখানেই মেরে রেখে যায় বর্বরেরা।
এর 5 সন বাদে তিনি পছন্দ করে পাশের বসতি থেকে নিয়ে আসেন তার বউ সালিয়াকে। 5 কুটরি যব দিয়েছিলেন আর পালের সেরা সেরা 6টা ভেড়া। তার বউয়ের বাবা ইমরুল ছিলেন সে বসতির প্রধান। সে সুবাদে তারও খানিক প্রভাব প্রতিপত্তি হয় আশে পাশের বসতিতে।
হবে নাই বা কেনো। ইমরুলের বাহিনীতে 20জন অশ্বাহোরী ,তারা নিজের বসতি নয় আশে পাশের আরও 4 বসতিকে রক্ষা করেন। ব্যাবেলে বসে রাজা হিরোদ কিছুই করেন না, তিনি আছেন তার শখের খেয়াল নিয়ে, দ্্রাক্ষার সুরা আর ঝলসানো তিতিরের স্বাদে আপ্লুত তার প্রাসাদের অলিন্দে বসে কাশিদে প্রেমের সুর বাজান। বলা আছে আশে পাশের বসতিতে কোনো সুন্দরি বালার প্রথম রাত্রিযাপন হবে তার সাথে, তার সৈন্য বাহিনী যেবার ইমরুলের পাশের বসতি থেকে মেয়ে নিয়ে যেতে এলো ইমরুল তাদের হত্যা করে পুতে রাখেন ইতানের মাঠে।
এভাবেই তার সম্পর্কে বিভিন্ন উপকথার জন্ম নেয়। তাকে বর্শ ছুড়ে মারলে বর্শা তার আলখাল্লার সামনে এসে আপনিই থেমে যায়, তাকে আগুন মাখা তীর ছুড়লে সেটা মাঝপথে ছাই হয়ে যায়, এমন সত্য মিথ্যার মিশেল দেওয়া নান উপকথা।
লাবিব গেরস্থ, তাদের 3 ছেলে মেয়ে , লিজান, নামিন, কিশান বড় মেয়ে লিজানের বয়েস হয়েছে 8, সে বায়না ধরেছিলো তার সাথে যাবে ইশরাকের মেলায়। সেখানে দিনমান নানা আমোদ ,তিনি সাথে আনেন নি, এখন ঝোপের আড়ালে লুকাতে লুকাতে তার মনে হয় তিনি সিদ্ধান্তটা নিয়ে ভুল করেন নি। তার পিতৃমনের খচখচানি কমে যায়।

উজ্জল গোলক আকাশ ফুড়ে আচানক নেমে আসে
শিকারি বাজের মতো অতর্কিতে
2য় সূর্যের মতো স্থির আকাশে

কবি হিসেবে তার সামন্য সুনাম আছে লোকলয়ে। তিনি ঘটনাকে এভাবেই বয়ান করতে চান।
আমি শেকড়ের নির্যাস মশকে ভরছিলাম
হঠাৎ আকাশ ভেদ করে
বিদু্যতের মতো, শিকারি বাজের মতো
2য় সূর্য নেমে এলো ইবানের মাঠে।

তিনি ঝোপে আড়াল থেকে দেখেন, উজ্জল গোলকের ভেতর থেকে ঝোলানো একটা মই নেমে আসে, মাথার উপরে চিকন চিকন দুটো শিং, লতার মতো ঝুলে থাকে, চৌকোনা শিরস্ত্রান, আলাদা করে হাত পা নেই, অদ্ভুত পরিধেয় তার।
হাতে ছোটো একটা ঝুড়ি,
তিনি ইশারায় তাকে ডাকেন, লাবিব স্থানুর মতো দাড়িয়ে তামাশা দেখে, তার পর গম গম শব্দ আসে শুন্য থেকে
হে ইয়ারুদের উপাসক, তুমি আমার সামনে আইস, তোমার সাকিন বয়ান করো।
ঘাবরে যান লাবিব। তিনি অশায়ের মতো পিছু হটে যেতে চান, ক্যাকটাসের কাঁটায় ক্ষত বিক্ষত তবু পালাতে চান।
একটা আলোর ঝলক, এর পর কিছু মনে নেই তার, জ্ঞান ফিরলে নিজেকে আবিস্কার করেন ইবানের মাঠে, পাশে অসংখ্য সুতো বের হওয়া একটা বল। তিনি ভয়ে ভয়ে গোলক স্পর্শ করেন, সামনে উজ্জল পর্দা তৈরি হয়, সেখানে তারই মতো একজনের ছবি। ভয়ে তিনি ছুড়ে মারেন গোলকটিকে,
তার পর উর্ধশ্বাস ছুটেন বসতির দিকে।
যেতে যেতে কয়েকবার থামেন, ইমরুলকে খবর দিতে হবে, জানাতে সবাইকে, তিনি ছন্দ রচনা করতে করতে এক লোকালয় থেকে অন্য লোকালয়ে সদ্যজাত অভিজ্ঞতা বয়ান করতে করতে সন্ধ্যায় ইমরুলের সাথে দেখা করেন।

তাকে সবিস্তারে খুলে বলেন সব ঘটনা। ইমরূল শুনে বলেন, তুমি 10জন অশ্বাহোরী নিয়ে যাও ইবানের মাঠে, আমাকে গোলক এনে দাও।

এর পরে চাঁদে, ইমরূল হিরোদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন, তার আলোকবিচ্ছুরি গোলকের আলোকে আলোকিত হয়ে উঠে ফেরাতের দু কুল, জনসমুদ্্র তার অঙ্গুলি হেলনে উঠে বসে, তিনি মহান ইমরূল নামে পরিচিত হন, এবং লাবিব তার প্রধান মন্ত্রনাদাতা হিসেবে মহৎ লাবিব নামে পরিচিত হন।
এবং প্রায় 5 বর্ষা শেষে, তাদের দুজনকে নিয়ে অনেক উপকথা ছড়িয়ে পরে ফেরাত-তািগ্রস অববাহিকায়, তাদের নিয়ে অনেক মনোহর কাব্য রচিত হয়, এবং তারা ইতিহাসের অংশ হিসেবে আরবের রূপকথা হয়ে যান।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সৌদি আরব যেভাবে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে একটি অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:২২



সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তর আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর এবং দ্রুততম ঘটনা। বিশ শতকের প্রথমার্ধেও যে দেশটি ছিল মূলত যাযাবর বেদুইন, পশুপালন এবং সীমিত হজের আয়ের ওপর নির্ভরশীল একটি চরম... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘ছুটি’র স্মৃতি

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০

(প্রায় দু’মাস আগে লেখা। তখন গ্রীষ্মকাল হলেও ঢাকায় কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হতো। এখনকার মত “ঘাম ঝরে দরদর” ধরণের গরম ছিল না। রাতগুলো তুলনামূলকভাবে বেশ ঠাণ্ডা থাকতো।)

আজ খুব ভোরে (শেষরাতে)... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে কারণে এবারের বিশ্বকাপও আর্জেন্টিনার ঘরেই উঠবে B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



কারণ আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত, মেসি-মার্তিনেজরা অপ্রতিরোধ্য। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের সবগুলো ম্যাচেই একছত্র আধিপত্য দেখিয়ে জয়লাভ করে প্রবল বেগে ফাইনালের দিকে ধ্বাবিত হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে গতবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হোমিওপ্যাথি হচ্ছে একটি ধাপ্পাবাজ কিবিরাজি চিকিৎসা পদ্ধতি এর বৈজ্ঞানীক কোন ভিত্তি নেই

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:০৪



হোমিওপ্যাথি যে একটি ভাঁতাবাজি চিকিৎসা পদ্ধতি তা আমি আগেও জানতাম কিন্তু আমি কখনো এর বিরুদ্ধে কথা বলিনি বা কোথাও কিছু লিখিনি- তবে আজ কি মনে করে চ্যাটজিপিটির কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×