মেজাজটা খারাপ গতকাল থেকে, ব্লগসেবিদের জন্য একটা পত্রিকা খুললাম,কিন্তু আমার কর্মিবাহিনী বাঙালি আলস্য মুক্ত হতে পারলো না। বিভিন্নসুত্রে আত্মিয়তা পাকিয়ে বিস্তর গনকদিয়ে গননা করে এই একটা প্রকল্প হাতে নিলাম তাও কি না অদক্ষ কর্মিবাহিনীর উৎপাতে পর্যুদস্ত হবে??
স্বর্গমর্ত্য পাতাল ইতিহাসের বিভিন্ন পাতায়, সবখানেই লোক পাঠালাম, পয়সার চিন্তা করি নাই, গৌরিসেনে পকেট কেটে যা এসেছিলো তাও এক অপ বাকের টাইম ম্যাশিন কেনার পিছনে দিয়েছি, উদ্দেশ্য একটাই ছিলো ব্লগসেবী ভাইবোনদের জন্য আদর্শ বিনোদনের একটা উপায় বের করা। গতকাল ই মেইল করলাম, দেখি পাঞ্চিং মেশিনে মুখার নাম আছে নাকি, ও মা শুনি সে যবন ঠাকুরের সাথে 7ম স্বর্গবিহারে গেছে, মেনেকাদেবীর নাচ দেখতে, তারপর সকালে বিস্তর কারণবারিপ্রভাবিত আদমের নারীনির্যাতনের কেসফাইল পাঠিয়েছে, কিন্তু হাওয়ার জিডি রিপোর্ট পাঠায় নি, এবং কি সুবেদার বৈরাম খাঁর তোলা ছবিটিও দিতে ভুলেছে, পরে অবশ্য নারদঠাকুর হাতে আঁকা একটা স্কেচ পাঠিয়েছিলো ওটা সমেত প্রকাশ করেছি আজকের পাতায়।
কিন্তু মর্মাহত হয়েছি অন্য একটা সংবাদ পেয়ে,
আমার লন্ডনপ্রতিনিধি যখন বসে বসে বাংলা ব্যাকরন বই পড়ছিলো সেই মূহুর্তে শোমচৌ এর সাথে দেখা করেছে হীরক লস্কর। এ খবর কি না আমাকে নিতে হলো স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের দারোয়ানকে পয়সা দিয়ে। তাহলে একটা আস্ত মানুষ লন্ডনে রাখার প্রয়োজনটা কি আপনারাই বলেন?
গতকাল দুপুরে লন্ডনের আকাশ ছিলো কিঞ্চিৎ মেঘলা, বিকেলের দিকে বৃষ্টি হবে এমনটাই বলেছিলো আবহাওয়া অফিস থেকে, হীরক লস্করকে ওয়েস্ট লেন পাব থেকে তিনঘোড়ার ছবিওয়ালা রাম কিনতে দেখে সন্দেহ হয় ডিটেকটিভ টিম রহ্যামের। হীরকের চোখে ছিলো গুলিস্তান থেকে কেনা প্লাস্টিকের বেগুনি সানগ্লাস। গায়ে ছিলো লং কোট, কোটের পকেটে সেই রাম নিয়ে তাকে উঠতে দেখা যায় 72 নাম্বার বাসে।
টিম রহ্যাম তার পিছু নিয়ে পৌছান শহরের পিকাডেলি লেনে। সেখান থেকে পায়ে হেটে তাকে বৃষ্টিবিলাস করতে দেখা গেছে, এবং এর পরে কোথা থেকে এলো দমকা হাওয়া , হীরকের ছাতা গেলো উলটে, প্রত্যক্ষদর্শি জানিয়েছেন এ সময় হীরকের চোখে ছিলো পানি। এক চুমুক রাম পান করে রাম চিৎকার দিয়ে তাকে পার্কের রেলিংএ মাথা কুটতে দেখে বিহবল টিম ত্বরিৎ খবর পাঠান ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল ইউনিটকে।
হীরক এর পর ব্রটিশ লাইব্রেরীর বাইরে বসে বাদাম খাচ্ছিলেন আর অল্প অল্প মাথা নাড়ছিলেন।
সন্ধ্যের দিকে শমচৌ আসেন সেখানে। এর পরই ঘটে শতাব্দির অন্যতম আলোড়ন সৃষ্টিকারি ঘটনাটা।
এ খবর দিতে ব্যার্থ হওয়ায় আমি হাসানের এ সপ্তাহের হাত খরচের টাকা থেকে 90 পাউন্ড 72 শিলিং কেটে রেখেছি।
এখনও সম্পুর্ন রিপোর্ট আসে নি, আপনার ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন, আমরা সে আলোচনার সম্পুর্ন হস্তগত হলেই আপনাদের জানাবো।
আপাতত ছোট্ট একটা বিজ্ঞাপন বিরতি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


