আসলে বাংলাদেশের ডাকব্যাবস্থা এত খারাপ সেখানে কোনো জিনিষ পোষ্ট করলে ওটা প্রাপকের কাছে পৌঁছাবে কবে তার নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু খোদ বিলাতের অবস্থা এত খারাপ এটা সম্পর্কে কোনো ধারনা ছিলো না।
অশেষ তাগাদার পর অবশেষে ব্রিটেনের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে শোমচৌ এবং হীরক লস্করের কথোপকথনের রেকর্ডটা আমার হাতে এসেছে, প্রায় 3 /4 ঘন্টার আলাপন ওতোটা লিখার মতো ধৈর্য নেই, তাই বিশেষ বিশেষ অংশগুলোই লিখবো, আর সম্পুর্নটা লেখাও হুতো সম্ভব হবে না, কাঁচিকর্ম তথা দর্জির হাতের কাজের নমুনা দেখা যাবে, এখানে ব্লগমডারেশনের ব্যাবস্থা এমন যে আপত্তিকর অংশ বাদ দিতে গেলে সম্পুর্ন লেখাই হাপিশ করে দেন কর্তারা। ঠগ বাছতে গাঁ উজার প্রবাদ এখানে মডারেট করতে গিয়ে পোষ্ট উধাও এ নেমেছে।
ভনিতা ছেড়ে সরাসরি ঝোঁপে কোপ দেই। আপনারা যা জানেন না তা হলো হীরক দাদার পুর্বপুরুষের ভিটা কিন্তু মুর্শিদাবাদ, সেখানের লোকদের শ'এর দোষ আছে, তারা সব শ'এর দন্ত ীয় উচ্চারন করেন। শোমচৌএর মতো আবৃতিবাজ, বিতার্কিক এবং নাটক নভেল করা পাবলিক কিন্তু এ বিষয়টা জানতেন না তাই খানিক বিড়ম্বনাও তৈরি হয়েছিলো।
আগে যেখানে শেষ করেছিলাম সেখান থেকেই শুরু করি,
লোকেশন ছিলো বৃটিশ লাইব্রেরী, তার সিড়িঁর সামনে হীরক দাদার সাথে দেখা হয় শোমচৌ'এর, দাদা তখন কিঞ্চিৎ রাম পান করে এই বৃষ্টি ভেজা রাতে চলে যেওনা গাচ্ছিলেন। ও আপনাদের জানানোই হয় নি যে হীরক দাদা পুরোনো দিনের বাংলা ছবির মুগ্ধ দর্শক। বিশেষত 70 এর রাজ্জাক 60 এর উত্তম আর 80 র দশকের সৌমিত্র তার প্রিয় নায়ক।
90এর শুরুতে সালমান শাহ আসার পর তার কালো সাংলাসপ্র ীতি দেখা দেয়। তিনি কারনে অকারনে রোদচশমা ঝুলিয়ে ঘুরতেন। তবে তখন বাংলাদেশে ভালো মানের রোদ চশমার দাম ছিলো অত্যাধিক বেশী তাই সস্তার চশমা ব্যাবহার করার ফলে তার চোখের সমস্যা হয়, তিনি এখন রোদচশমার নীচে - 1 পাওয়ারের চশমা লাগিয়ে ঘুরেন ।
এসব ব্যাক্তিগত তথ্য জানিয়ে হীরক দাদার ঘরের খবর ফাঁস করে দেওয়ার অপরাধে হীরকদাদা যদি পালটা কিছু করে বসেন তাহলে কে আমাকে বাঁচাতে আসবে??
হীরকের গান শুনে শোমচৌএর মনে পড়ে আহা একবার মৌসুমির ছবির শু্যটিং এ গিয়েছিলেন, কেয়ামত থেকে কেয়ামত দেখে তাৎক্ষনিক মুগ্ধতার রেশ কাটেনি বহুদিন, সামনা সামনি মৌসুমিকে দেখে মেলাতে পারেন নি, আর তখন প্রথম প্রথম ক্যামেরার পিছনে দাড়ানো, বুঝছিলেন এ বিশল বপু মহিলাকে কি একটা ক্যামেরার আঁটানো সম্ভব হবে নাকি পাশাপাশি 2টা ক্যামেরা দিয়ে দৃশ্য ধারন করতে হবে, এ ভ্রান্তি কাটে তবে নায়ক ওরম সানির দৃঢ়বদ্ধ চোয়াল দেখে তিনি উপলব্ধি করেন মৌসুমির ভেতরটা ফাঁপা নয় বরং মৌসুমি আসলে খাঁটি জিনিষ খেয়ে বড় হয়েছেন। তিনি হীরককে বললেন দাদা ওসব পুরোনো দিনের গান ভুলে যান দাদা আসেন আমরা ফিডব্যাকের মৌসুমি গাই।
মৌসুমি গুনগুন করতে করতে তারা উঠেন 18 নাম্বার বাসে। সেখান থেকে বাস পালটে 25 নাম্বারে চড়ে আসেন শোমচৌএর বাসায়।
হীরক দাদা সামান্য বেসামাল রামের প্রভাবে, কিন্তু এসেই বলেন মতাহির আজগে রান্না কিন্তু আমিই করবো,তোমার বাসা এসেছে বলে তোমার উপর রান্নার ভার ছাড়তে পারবো না, লোকজন বলে আমি না কি ভালোই রান্না করি, তুমি কি খাবে বলো।
শোমচৌ প্রমাদ গনেন, কিন্তু মুখে হাসি টেনে রেখে বলেন, আরে হীরক দাদা আপনাকে ব্যাস্ত হতে হবে না, আমি করে নেব, আর না হলে সামনের ইন্ডিয়ান কুইজিনের দোকানের সিলেটি মালিক কে ফোন দিবো চমৎকার ইলিশ কারি চলে আসবে, আজকেবৃষ্টির দিন ইলিশের সাথে খিচুড়ি যাবে ভালো। আর এর সাথে যদি গরু ভুনা আর মিষ্টি আঁচার হয়, তাহলে জম্পেশ জমে যাবে দাদা কি বলেন?
হীরক দাদা খাবি খান কথা শুনে, বলে কি মতাহির, এতো এলাহি কান্ড, মেঘ না চাইতেই জলের মতো, তারও খিচুড়িবাসনা জাগ্রত হয়। ইত্যবসরে শোমচৌ ফ্রিজ খুলে ফস্টার এর একটা ক্যান বের করেন, আস্তে আস্তে চুমুক দিতে থাকেন।
হীরক দাদা রামের বোতল নামিয়ে রাখেন সদ্য কেনা কফি টেবলের উপরে। শোমচৌ খানিক মনখুন্ন হন, বলেন দাদা জিনিষটা দেখেছেন?
তার নতুন আসবাবসজ্জিত ঘর, তার চকচকে কাঠের পলিশে ঢাকা মেঝে, তার সুদৃশ্য ডাইনিং টেবল এবং কাঁচের কফি টেবল একটাও কি হীরকদাদার চোখে পড়লো না? না কি বেটা বেশী ভাব নেয়। ওর বাসায় গিয়া দেখতে হবে ওর ঘরের সজ্জা কেমন? এমনিতে ব্যাটাকে মনে হয় বেশ নাকউঁচু, এমন ভাবে চারপাশে নাক কুঁচকে দেখছে যেনো ঘরের কোনো গোপন চিপায় ইঁদুর মরে আছে ।
শোমচৌ বিরক্ত হয়ে চুমুকের পরিমান বাড়িয়ে দেন। একটার পর একটা ফস্টার , তিনি আজ দেখিয়েই ছাড়বেন সস্তা রামের চেয়ে এই যে বীয়ার পানের মৃদু নেশা এটা অনেক পশ, অনেক এরিস্টোক্রাট একটা বিষয়।
হাউ আর ইয়ু ডুইং দিজ ডেইজ, চোস্ত ব্রিটিশ উচ্চারনে বলেন শোমচৌ। তিনি রেগে গেলে ইংরেজিতে কথা বলেন, ইংরেজি তার রাগ প্রকাশের ভাষা, হীরক দাদা তাকান ফ্যালফ্যাল করে, তারপর বলেন, মতাহির, তুমি যে ব্রিটিশ কাউন্সিলে 9 মাসের ভাষা শিক্ষা কোর্স করেছিলে এটার প্রমান না দিলেও চলতো, নিজের শেকড়ের দিকে তাকাও, এই ব্রিটিশদের নকল উচ্চরনে শেখা বুলি ঝেড়ে ফেলো, তুমি দেখেছো কোথাও লন্ডেনে ওরা তোমার একসেন্টে ইংরেজি বলে? তুমি যে উচ্চারনে কথা বলছো এটা শিখতে বৃটিশ কাউন্সিল যেতে হয় না, এটা বিবিসি শুনলেই শেখা যায়।
আর তুমি ভাষার বুঝবেটা কি হে, শোমচৌ রেগে কিছু বলবেন ভাবছিলেন কিন্তু হীরকের ঢুলুঢুলু চোখ দেখে বুঝেন একে কিছু বোঝানো বৃথা, এ এখন বললেও কিছু বুঝবে না, রামের তিন চতুর্থাংশের বেশী এখন দাদার পেটে, এখনও উচ্চারন জড়িয়ে যায় নি, তবে হীরক দাদা আনমনে হাতের আঙ্গুল ফুটাচ্ছেন, পা নাড়াচ্ছেন, মাঝে মাঝে মাথার চুল ধরে টানছেন, বলেন, মতাহির তোমার টয়লেটটা কোন দিকে?
শোমচৌ টয়লেট পর্যন্ত এগিয়ে দেন এদিকে 3 ক্যান ফস্টার 10 ক্যান হয়ে কিডনির দেয়ালে বাঁধ ভাঙা ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে, হীরক দাদা বের হলে টানা 4 মিনিট দারিয়ে জলবিয়োগ করবেন এমন প্রতিজ্ঞা আটেন মনে মনে, হীরক দাদা চোখে মুখে পানি দিয়ে ধাতস্থ হয়ে ফিরে আসেন। শোমচৌ বললেন, দাদা একটু ফ্রেশ হয়ে আসি, সারাদিন লাইব্রেরিতে ছিলাম, যাস্ট গিভ মি ফাইভ মিনিটস, আই'ল বি ব্যাক বাই দেন। ও কে। ফিল ফ্রি। আর কফি মেকার থেকে এককাপ কফি নিতে পারেন, কিচেন তো দেখতেই পাচ্ছেন, সুগার কিউব আছে, নিজের বাসার মতো ভাবেন, ফিল ফ্রি।
শোমচৌ ফিরে আসার পরে দেখেন দাদা আপন মনে ন্যাশনাল গিওগ্রাফিকের পাতা উলটাচ্ছেন।
আমাজানের ট্রাইবগুলো দেখেছেন ওদের মধ্যে হেটরোগ্যামি এখনও বর্তমান, হীরকের কথা শুনে শোমচৌ কি বলবেন বুঝেন না, কোথা থেকে আমাজানের ট্রাইব এসে পড়লো তার সুসজ্জিত লন্ডনী ড্রইং রূমে তার ঠাওর পান না তিনি, হুমম, দাদা কফি দেই, আপনি কি ক্ষুধার্ত। শোমচৌএর বাংলা উচ্চারনশুচীতা আছে পুরোদমে। নরেশ বাবুর কাছে শেখা উচ্চারন, টিএসসির সামনে কতদিন শ স ষ য আর জ এর মধ্যের উচ্চারন পার্থক্য বুঝিয়েছেন নরেশ দা। তালুর ব্যাবহার কণ্ঠের ব্যাবহার, কথা বলার মুদ্্রা সবই চর্চা করেছেন, আয়ত্ব করেছেন, এখন কেউ অশুদ্ধ উচ্চারনে বাংলা বললে তার চামড়া জ্বলে যায়। হীরক দাদা বলেন তা আপনার পড়াশোনার অবস্থা কি?
এভরিথিং ইজ ওয়ার্কিং ফাইন, আই য়্যাম নট ডিপ্রেসড, হোয়াই ইয়্যুআর আস্কিং মি?
হীরক দাদা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান রীতিমতো, কোথা থেকে ডিপ্রেশন এসে পড়লো? মনে পড়লো শোমচৌ কয়েকদিন আগেই ব্লগিয়েছেন ডিপ্রেশন নিয়ে, সেখানে ছিলো, যৌনইচ্ছা কমে যায় ডিপ্রেশনে। তার মুর্শিদাবাদের শ উচ্চারনের ভুলে উচ্চারনশূচি শোমচৌ শোনা কে সোনা ভেবে একটা পালটা জবাব দিয়েছে ভেবে তিনি হো হো করে হেসে উঠেন।
না মানে আপনার এডুকেশনাল লাইফ নিয়ে কথা বলছিলাম, রিসার্চ চলছে কেমন, থিসিস সংশোধন শুরু করেছেন।
শোমচৌ খানিক ক্ষন চুপ থাকেন, বলেন হ্যা দাদা আগাচ্ছে ঠিকমতোই, কয়েকটা রেফারেন্স দরকার ছিলো হাতে এলেই শেষ করে ফেলবো।
আপনি কি মাঝে মাঝে সামহোয়্যার ইন এ ঢু মারেন দাদা।
হুমম তা যাই, কিন্তু এখন আমি বেশ ব্যাস্ত ছোটোমনিদের কৌতুক সংকলনের কাজে। কিন্তু ছোটোমনিদের কৌতুক খুজে পাওয়া কঠিন, আপনি একটু সাহায্য করেন না, বড়দের কৌতুকতো পাওয়া যায়ই কিন্তু ছোটোদের উপযোগী কৌতুক পাওয়া কঠিন।
ঠিক আছে আমি খুঁজবো, তা খাবেন এখনই নাকি একটু দেরী হবে, ঘরিতে তখন 9টা।
সিলোটি দোকান থেকে গরুভুনা ইলিশের দোপেয়াজা আর গরম খিচুড়ি এসে গেছে, নতুন কেনা ডাইনিং টেবলের উপর সাজিয়ে রাখেন শোমচৌ, পাশে রেড ওয়াইনের একটা বোতল, 12 বছরের পুরোনো, এটাই তার সাধ্যসীমায় আপাতত, তবে ওয়াইন হলো বউয়ের মতো যত দিন যায়, যত সময় গড়ায় তত স্বাদপোক্ত হয়, প্রেমের ফোঁড়ন আর স্বাদ খুলে। এমন কি চটি জুতোও সময়ের সাথে সুখদ হয়ে উঠে। কিন্তু চটিজুতোর সাথে ওয়াইনের তুলনাটা তার পছন্দ নয়, তিনি হিসেব করে দেখেন এ বয়েসে তার একটা বিয়ে হয়ে যাওয়া জরুরি ছিলো, ভৌত বিজ্ঞানের আলোকে বলা যেতো আসলেই কথাটা সত্যি কি না। এমনিতে শুনেছেন পুরোনো ওয়াইন আর পুরোনো বউ দুটোই মধুর, কিন্তু ওয়াইন হাতের নাগালে আসলেও বৌ আসে নি নাগালে তাই উপমার যথার্থতা বুঝতে পারেন নি তিনি।
মতাহির সেলিমকে চেনো নাকি।ঐ বেটাতো মইনু মিয়ার মসজিদে যায় প্রতি শুক্রবার।
মইনু মিয়াকে চিনেন শোমচৌ, এক কালের রাজাকার, এখন লন্ডনে মসজিদ দিয়ে সমাজসেবার ভান ধরেছে, সেখানে একটা মাদ্্রাসাও খুলেছে, রাজাকারদের রূপ চেনা কঠিন, বৃটিশ সরকারের গোপন নথিতে এদের সবার নাম লিপিবদ্ধ আছে তিনি শুনেছেন কিন্তু এখনও সেই সব কাগজপত্র চোখে দেখেন নি, কিন্তু সেলিমটা কে?
হীরক বলেন আরে ওটা শিবিরের লীডার ছিলো, এখন লন্ডনে এসেছে আইন শিক্ষা নিতে, ইসলামি শরিয়া আইনের উপর ডিগ্রি নিবে, বেটারা খ্রিস্টান দেশে এসে শরিয়া আইনের ডিগ্রি নেয়, রসিকতাটা দেখো একবার।
শোমচৌএর সবজান্তা ভাবটা মাঠে মারা যাচ্ছে দেখে তিনি বলেন আরে বৃটিশরাতো 2য় বিশ্বযুদ্ধের সময় অনেক প্রত্নতাত্তি্বক নিদর্শন নিয়ে এসেছে নিজের দেশে, এমন কি কোরানের প্রথম দিকের অনেক কপিও আছে, এখানে, তার কোনো কোনোটা 7 শতাব্দির প্রথম দিকের। আপনিতো জানেন যে কোরানের অনেকগুলো প্রতিলিপি আছে যার কোনো কোনোটার মধ্যে বেশ পার্থক্য। এটা নিয়ে গবেষনা চলছে রীতিমতো। এখন পর্যন্ত কোরানের 6টা ভাষ্য পাওয়া গেছে, যদিও সবাই দাবি করছে উসমানের সংকলিত কোরানই আসল কোরান কিন্তু এখানে রেফারেন্স হিসেবে যেসব কোরানের কথা বলা হয়েছে তা উসমানের মৃতু্যর 200 বছর পরে লেখা, এর আগে লেখা এবং সংকলিত কিছু কোরানরে সাথে ওদের মিল নেই, এটা নিয়ে বেশ চমৎকার কিছু নিবন্ধ আছে, আপনি পড়েছেন নিশ্চয়?
হীরক শোমচৌএর দিকে কেমন কেমন করে তাকান, পরে বলেন আপনার এ বিষয়ে আগ্রহ মনে হয় বেশী??
নাহ হীরক দাদা এই ওয়াইনটা চেখে দেখেন, 150 পাউন্ড দিয়ে কেনা, 15 বছরের পুরোনো ওয়াইন। ইচ্ছা করেই 3 বছর বাড়িয়ে বলেন তিনি, হীরক ওয়াইনের লেভল দেখেন, 1993 এ প্যাকেটকৃত, তিনি লেখাটা শোমচৌএর সামনে দিয়ে বেন, আপনাকে তো ঠকিয়েছে লেভেলএ লেখা 1993, 12 বছরের পুরোনো জিনিষ, কালকেই দোকানে গিয়ে পয়সা ফেরত আনবেন, সব জায়গায় জোচ্চর আছে দেখি।
শোমচৌ বিব্রত হয়ে ওয়াইনের বোতলটা খুলে বলেন, কোনো সমস্যা নেই দাদা পান করুন ইশ্বরের নামে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


