কৌশোরে মানুষের নানা বাতিক চাপে, আমাদের চেপেছিলো সমাজসেবার বাতিক, দুম করে একদিন সেবা সংঘ নামে এক সংগঠন তৈরি হয়ে গেলো । সদস্য সংখ্যা 20 জনের মতো, আমরা যেখানে থাকতাম সেখানে পরিবার ছিলো হাতে গোনা গোটা বিশেক, সবার বাসায় আমাদের সমবয়সী ছেলে মেয়ে ছিলো না,তবে কয়েক জন বাদ দিয়ে উঠতি কিশোর এবং তরূন সবাই এই সংঘের সদস্য হয়ে গেলো।
আমরা ঘটা করে পরবর্তি শুক্র বার সকালে সমাজ সেবার প্রথম ধাপ শুরু করলাম, এ উপলক্ষে, বিভিন্ন বাসা থেকে 20 জন ছেলে মেয়ে এসে সমস্ত মহল্লা ঝাড়ু দিলো, ড্রেন পরিস্কার করা হলো, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করা হলো। পরবর্তি কয়েক সপ্তাহ এই শিক্ষা দেওয়া হলো এলাকাবাসিদের ময়লা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, গলির মাথায় অন্ধকারের সুযোগে বিভিন্ন পথচারি চামের উপর পেশাব করে যেতো সেটাও বন্ধ করা হলো, আমরা প্রায় সমবয়সি ছেলে মেয়েরা এই সংঘ উপলক্ষে বিভিন্ন বাসায় বসে খানিক গল্পগুজবের সুযোগ পেলাম, প্রশাসনিক কাজের গাম্ভির মুখভঙ্গি আর তলে তলে বিভিন্ন জনের ভেতরে প্রেমের গোপন ব্যাধি, আমার সে সুযোগ ছিলো না, এলাকার পুরোনো বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে আমি সবার গন ভাগিনা সবাইকে মামা খালা ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলানো আমার জন্য এখানে কোনো সুযোগ নেই তাই আমি হলাম উৎসাহী দর্শক, কানকথা সংগ্রহ করি, কে কখন কার প্রেমে পড়ছে, কে ছ্যাকা খেলো কে দিলো, কার সাথে কাকে গোপনে কথা বলতে দেখা গেছে সব খবরই চলে আসতো। যাই হোক, এলাকাবাসি পরিবেশ উন্নয়ন হওয়ায় আমাদের উপর তুষ্ঠ, মোটামুটি আমরা যারা সবাই মোটামুটি একই সময়ে স্কুল শুরু করেছিলাম তারা একজোট হয়ে সেবামূলক কার্যক্রম চালাই, বিশেষ বিশেষ দিবসে ঘটা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বছরে 2বার পিকনিক, এই ভাবে 3 বছর চললো, এর পর আমরা নতুন জায়গায় বাসা ভাড়া নিলাম, সমস্ত কিছুর সাথে সংযোগ কেটে গেলো।
যাই হোক, মামুন বলে আমার সহপাঠি ছিলো একজন, তার বাবা গাঁজা বেচতো বাজারে, হুট করে এক দিন বয়সজনিত কারনে তার বাবা মারা গেলো, তার মা গাঁজার ব্যাবসা নিয়ে আসলো এলাকায়, দিন রাত যখন তখন শহরের বিভিন্ন গাঁজাখোর আসতো, এর পর উন্নতি হলো মামুনের মা হিরোইন বেচা ধরলো, এবং সেবা সংঘ থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হলো এই ব্যাবসা উচ্ছেদ করতে হবে, জনমত গঠিত হলো, এলাকার পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে এই সুবাদে তাদের ব্যাবসা বন্ধ করা হলো, সমাজিক আন্দোলন, খুব একটা খারাপ কাজ করেছি?
পরবর্তি ঘটনাগুলো পীড়াদায়ক, যেহেতু মামুন আমার সহপাঠি তাই তার উপার্জন ক্ষম হওয়ার সম্ভবনা ছিলো কম, 5 জনের একটা পরিবার চালাতে পারে এমন কর্ম সংস্থান করা সম্ভব ছিলো না আমাদের পক্ষে, এমন কি আমাদের 20 পরিবারের যেই ক্ষুদ্্র সমাজ সেখানেও এই অর্থ সংস্থানের কোনো ব্যাবস্থা ছিলো না, মামুনের মা পরে বিভিন্ন বাসায় ঘরের কাজ করতো, মামুন এস এস সি দিতে পারলো না, ওর জন্য এস এস সি দেওয়াটা প্রয়োজন,শিক্ষার গুরুত্ন সম্পর্কে অনেক বড় বড় কথা বলা মানুষেরাও এই ধারনাটা করতে পারলো না, মামুনের ছোটো 2 বোন এবং একেবারে ছোটো একটা ভাই, মামুন হুট করে নিরুদ্দেশ য়ে গেলো। পরবর্তিতে মামুন ট্রাকের হেলপার ছিলো কয়েক দিন, এর পর বোধ হয় ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন সীমান্তে যেতো, আমার সাথে দেখা হয় নাই, অনেক অনেক পরে যখন দেখা হলো, তখন মামুন বিয়ে করেছে, একটা মেয়েও হয়েছিলো, কিন্তু আমাদের সমাজের নিয়ম, গরিবের বৌ সবার বৌ হয়ে যায় অনায়াসে, জানি না কেনো, তবে একটা সময় এই সব শুচিতা অশুচিতা অনুশোচনা, সংকোচ, যাবতিয় মানবিক আবেগের দুর্বিপাকে তাদের ঘর ভাঙলো, যেই মরদ নিজের ঘরের বউয়ের আব্রু ইজ্জত রাখতে পারে না সে কিসের মরদ বলে মামুনের বৌ গৃহ ছাড়া হলো, সেই সন্ধ্যায় ভরপেট তাড়ি গিলে মামুন বৌ পিটালো কিছুক্ষন, এর পর এলাকাবাসি এসে গম্ভির মুখে ঘোষনা দিলো মামুন মাথা গরম মানুষ, বৌটা ঝিটাকে বড় অত্যাচার করে, ওর কাছ থেকে দুরে রাখা হোক বৌবিটিদের,
মামুনের ছওটো বোন রূমিকে ধর্ষনের চেষ্টা করলো, একটু মাথা আউলা এক ছেলে, এলাকাবাসি খানিক উত্তমমধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিলো, সেই পাগল ছেলে মহল্লা ছাড়া হলো এবং তার মা কিছু দিন হাহাকার করলো, মামুনের মা তোমার বেটিকে সামলায়া রাখতে পারো না, স্বাধীনের কি দোষ, ঐ মেয়েই তও স্বাধিনের ন্যাওটা, সারাক্ষন কাছে কাছে ঘুরে, আগুন আর মোম কি এক সাথে রাখতে আছে, অতএব স্বাধীনের পুনারাগমন ঘটে এলাকায়,
একটা সামাজিক আন্দোলন, একটা সঠিক সিদ্ধান্ত(!!) এবং একটা পরিবার ধ্বংস ,আমার চালচিত্র ভাবলে এমনটাই মনে হয়, মামুনের অন্য বোনটা সুমি, ওর বিয়ে হয় নাই বোধ হয়, ওর সবচেয়ে ছোট ভাইটা মাঝে মাঝেই আব্দার করতো, আমার অনুশোচনা কিংবা নিজেকে মহৎ ভাবার লোভ, যাই হোক না কেনো মাঝে মাঝেই তার আব্দার পুরন করে নিজের পাপস্খলন করতাম আমি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



