somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সামাজিক মানুষ

১৭ ই মে, ২০০৬ রাত ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কৌশোরে মানুষের নানা বাতিক চাপে, আমাদের চেপেছিলো সমাজসেবার বাতিক, দুম করে একদিন সেবা সংঘ নামে এক সংগঠন তৈরি হয়ে গেলো । সদস্য সংখ্যা 20 জনের মতো, আমরা যেখানে থাকতাম সেখানে পরিবার ছিলো হাতে গোনা গোটা বিশেক, সবার বাসায় আমাদের সমবয়সী ছেলে মেয়ে ছিলো না,তবে কয়েক জন বাদ দিয়ে উঠতি কিশোর এবং তরূন সবাই এই সংঘের সদস্য হয়ে গেলো।
আমরা ঘটা করে পরবর্তি শুক্র বার সকালে সমাজ সেবার প্রথম ধাপ শুরু করলাম, এ উপলক্ষে, বিভিন্ন বাসা থেকে 20 জন ছেলে মেয়ে এসে সমস্ত মহল্লা ঝাড়ু দিলো, ড্রেন পরিস্কার করা হলো, ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করা হলো। পরবর্তি কয়েক সপ্তাহ এই শিক্ষা দেওয়া হলো এলাকাবাসিদের ময়লা ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে, গলির মাথায় অন্ধকারের সুযোগে বিভিন্ন পথচারি চামের উপর পেশাব করে যেতো সেটাও বন্ধ করা হলো, আমরা প্রায় সমবয়সি ছেলে মেয়েরা এই সংঘ উপলক্ষে বিভিন্ন বাসায় বসে খানিক গল্পগুজবের সুযোগ পেলাম, প্রশাসনিক কাজের গাম্ভির মুখভঙ্গি আর তলে তলে বিভিন্ন জনের ভেতরে প্রেমের গোপন ব্যাধি, আমার সে সুযোগ ছিলো না, এলাকার পুরোনো বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে আমি সবার গন ভাগিনা সবাইকে মামা খালা ডেকে মুখে ফেনা তুলে ফেলানো আমার জন্য এখানে কোনো সুযোগ নেই তাই আমি হলাম উৎসাহী দর্শক, কানকথা সংগ্রহ করি, কে কখন কার প্রেমে পড়ছে, কে ছ্যাকা খেলো কে দিলো, কার সাথে কাকে গোপনে কথা বলতে দেখা গেছে সব খবরই চলে আসতো। যাই হোক, এলাকাবাসি পরিবেশ উন্নয়ন হওয়ায় আমাদের উপর তুষ্ঠ, মোটামুটি আমরা যারা সবাই মোটামুটি একই সময়ে স্কুল শুরু করেছিলাম তারা একজোট হয়ে সেবামূলক কার্যক্রম চালাই, বিশেষ বিশেষ দিবসে ঘটা করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বছরে 2বার পিকনিক, এই ভাবে 3 বছর চললো, এর পর আমরা নতুন জায়গায় বাসা ভাড়া নিলাম, সমস্ত কিছুর সাথে সংযোগ কেটে গেলো।
যাই হোক, মামুন বলে আমার সহপাঠি ছিলো একজন, তার বাবা গাঁজা বেচতো বাজারে, হুট করে এক দিন বয়সজনিত কারনে তার বাবা মারা গেলো, তার মা গাঁজার ব্যাবসা নিয়ে আসলো এলাকায়, দিন রাত যখন তখন শহরের বিভিন্ন গাঁজাখোর আসতো, এর পর উন্নতি হলো মামুনের মা হিরোইন বেচা ধরলো, এবং সেবা সংঘ থেকে পরিকল্পনা নেওয়া হলো এই ব্যাবসা উচ্ছেদ করতে হবে, জনমত গঠিত হলো, এলাকার পরিবেশ কলুষিত হচ্ছে এই সুবাদে তাদের ব্যাবসা বন্ধ করা হলো, সমাজিক আন্দোলন, খুব একটা খারাপ কাজ করেছি?
পরবর্তি ঘটনাগুলো পীড়াদায়ক, যেহেতু মামুন আমার সহপাঠি তাই তার উপার্জন ক্ষম হওয়ার সম্ভবনা ছিলো কম, 5 জনের একটা পরিবার চালাতে পারে এমন কর্ম সংস্থান করা সম্ভব ছিলো না আমাদের পক্ষে, এমন কি আমাদের 20 পরিবারের যেই ক্ষুদ্্র সমাজ সেখানেও এই অর্থ সংস্থানের কোনো ব্যাবস্থা ছিলো না, মামুনের মা পরে বিভিন্ন বাসায় ঘরের কাজ করতো, মামুন এস এস সি দিতে পারলো না, ওর জন্য এস এস সি দেওয়াটা প্রয়োজন,শিক্ষার গুরুত্ন সম্পর্কে অনেক বড় বড় কথা বলা মানুষেরাও এই ধারনাটা করতে পারলো না, মামুনের ছোটো 2 বোন এবং একেবারে ছোটো একটা ভাই, মামুন হুট করে নিরুদ্দেশ য়ে গেলো। পরবর্তিতে মামুন ট্রাকের হেলপার ছিলো কয়েক দিন, এর পর বোধ হয় ট্রাক নিয়ে বিভিন্ন সীমান্তে যেতো, আমার সাথে দেখা হয় নাই, অনেক অনেক পরে যখন দেখা হলো, তখন মামুন বিয়ে করেছে, একটা মেয়েও হয়েছিলো, কিন্তু আমাদের সমাজের নিয়ম, গরিবের বৌ সবার বৌ হয়ে যায় অনায়াসে, জানি না কেনো, তবে একটা সময় এই সব শুচিতা অশুচিতা অনুশোচনা, সংকোচ, যাবতিয় মানবিক আবেগের দুর্বিপাকে তাদের ঘর ভাঙলো, যেই মরদ নিজের ঘরের বউয়ের আব্রু ইজ্জত রাখতে পারে না সে কিসের মরদ বলে মামুনের বৌ গৃহ ছাড়া হলো, সেই সন্ধ্যায় ভরপেট তাড়ি গিলে মামুন বৌ পিটালো কিছুক্ষন, এর পর এলাকাবাসি এসে গম্ভির মুখে ঘোষনা দিলো মামুন মাথা গরম মানুষ, বৌটা ঝিটাকে বড় অত্যাচার করে, ওর কাছ থেকে দুরে রাখা হোক বৌবিটিদের,
মামুনের ছওটো বোন রূমিকে ধর্ষনের চেষ্টা করলো, একটু মাথা আউলা এক ছেলে, এলাকাবাসি খানিক উত্তমমধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিলো, সেই পাগল ছেলে মহল্লা ছাড়া হলো এবং তার মা কিছু দিন হাহাকার করলো, মামুনের মা তোমার বেটিকে সামলায়া রাখতে পারো না, স্বাধীনের কি দোষ, ঐ মেয়েই তও স্বাধিনের ন্যাওটা, সারাক্ষন কাছে কাছে ঘুরে, আগুন আর মোম কি এক সাথে রাখতে আছে, অতএব স্বাধীনের পুনারাগমন ঘটে এলাকায়,
একটা সামাজিক আন্দোলন, একটা সঠিক সিদ্ধান্ত(!!) এবং একটা পরিবার ধ্বংস ,আমার চালচিত্র ভাবলে এমনটাই মনে হয়, মামুনের অন্য বোনটা সুমি, ওর বিয়ে হয় নাই বোধ হয়, ওর সবচেয়ে ছোট ভাইটা মাঝে মাঝেই আব্দার করতো, আমার অনুশোচনা কিংবা নিজেকে মহৎ ভাবার লোভ, যাই হোক না কেনো মাঝে মাঝেই তার আব্দার পুরন করে নিজের পাপস্খলন করতাম আমি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাবেন না, প্লিজ!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৭



জনাব তারেক রহমান,
আসসালামু আলাইকুম।

আমি প্রথমেই জানাতে চাই, ভারতের সাধারণ জনগণের সাথে বাংলাদেশের মানুষের কোন বিরোধ নেই। ঐ দেশের সাধারণ জনগণ আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৫৫



সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুস্থধারায় ফিরছে রাজনীতি; আম্লিগের ফেরার পথ আরো ধূসর হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১০


গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে একে অপরের মধ্যে কোথাও কোথাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×