somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবিরাজ গনি মিয়া (ছোট গল্প) একটি অতি প্রাকৃতিক ঘটনা-১

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গাঙ্গে নতুন পানির ঢল নেমেছে। উথাল পাথাল গাঙ্গের পানি জামিল শেখের মনের পালে আনন্দের হাওয়া বইয়ে দিয়ে যায়। তিন মাস পর বউকে নিয়ে নিজের বাড়ী ফিরছেন। সাথে আছে কলিজার টুকরা তিন বছরের মেয়ে আমিনা। জামিল শেখ মুগ্ধ চোখে বউয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এত সুন্দর তার বউটা, খোদা যেন নিজ হাতে বানিয়েছেন। কাশ ফুলের মত শুভ্র গায়ের রঙ। রুপ যেন ঠিকরে পড়ছে তার তরুনী বধুর গা থেকে।

এই ভাটি অঞ্চলে এক ব্যবসায়ী বন্ধুর বাড়ীতে প্রথম দেখেছিল স্ত্রী আগরজান বিবিকে। সেই দেখা দেখেই জামিল শেখ দিওয়ানা হয়েছিলেন। ঐ বন্ধুর বাড়ীর পাশের বাড়ীতেই থাকতো তার স্ত্রীদের পরিবার। দুই মাসের মধ্যে বউ করে নিয়ে এলেন আগরজান বিবিকে। দুই বছর পর তাদের কোল জুড়ে এল মেয়ে আমিনা। বংশের প্রথম মেয়ে। বড় সৌভাগ্যবতী তার এই মেয়ে। জন্মের পর পরই খরা আক্রান্ত গ্রামে নামলো অঝোর ধারায় বৃষ্টি, গাইয়ের হল বাছুর। ব্যবসায়ী জামিল শেখেরও ব্যবসায় হতে লাগলো আয় উন্নতি। গ্রামের লোকজন বলল বড় পয়মন্ত মেয়েগো শেখের বেটি!!

তখন বৃটিশ পিরিয়ড সবে শেষ হয়েছে পাকিস্তান আমল চলছে। গ্রামের ছেলে হলে কি হবে জামিল শেখ ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার, তার বাবাও ছিলেন উকিল। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশে তিনি শুরু করেছিলেন অটোমোবাইলস এর ব্যবসা। ধীরে ধীরে ভালোই লাভ হতে লাগলো। তাইতো ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্হানে ছুটাছুটি করতে হয়। সেই সুবাদেই মাঝে মাঝে স্ত্রীকে বাপের বাড়ী নাইয়রে পাঠানো হয়।

এবারের নাইয়রটা একটু বেশী দিনেরই হয়ে গেল, প্রায় তিন মাস। তাইতো এইবার বউকে আনার সময় এত আনন্দ আয়োজন। বিরাট পানসি নাও ভাড়া নিয়েছেন, উচু লয়ে বাজছে কলের গান। আত্মীয় স্বজনরা সবাই হৈ হুল্লোড় করছে। বেশ দূরের পথ। বাড়ী পৌছাতে পৌছাতে মাঝ রাত্রি হয়ে যাবে।

সেদিন ছিল অমাবশ্যার রাত। চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। হারিকেনের টিমটিমে আলোই ছিল যা একটু ভরসা। আমিনা ফিসফিসিয়ে কানে কানে মাকে বলল তার ছোট বাথরুম পেয়েছে। আগরজান বিবি স্বামীকে বললেন "এই যে শুনছেন, মেয়েটারে নৌকার কিনারে একটু ধরেনতো ওর পিশাব ধরছে"। শেখ সাহেব অতি সাবধানে মেয়েকে নৌকার কিনারে বসিয়ে দিলেন। সে সময় নৌকা চলছিল এক পুরনো শ্মশ্মান ঘাটের কাছ ঘেষে যা অন্ধকারে কেউই দেখতে পায়নি।

অতঃপর শ্মশ্মান ঘাট পেরোবার পর পরই আমিনার পেটে শুরু হল তীব্র ব্যাথা। এ কি ব্যাথা!! এ যেন জীবন মরন ব্যাথা। ছোট্ট আমিনার কান্না দেখে কে। বাবা মায়ের মন কন্যার কষ্টে জ্বলে যাচ্ছে। এই অকূল পাথার নদীতে মেয়েকে নিয়ে এই রাতের বেলা কোথায় যাবেন, কিছুই ভেবে পাচ্ছেন না। কিছুদূর যাবার পর সবাই টের পেল শ্মশ্মান ঘাটের ব্যাপারটা। নিশ্চয়ই কোন দুষ্টু জ্বীনের নযর পড়েছে মেয়েটার উপর। মাঝি আশ্বাস দিল কাছেই খুব বিখ্যাত একজন কবিরাজ থাকেন, তার নাম গনি মিয়া। তিনি সব ঠিক করে দিবেন। নৌকা ঘুরিয়ে কবিরাজ বাড়ীর দিকে রওনা হল সবাই।

কবিরাজ বাড়ীর একদম কাছাকাছি চলে এসেছে নৌকা। জামিল সাহেব দরাজ গলায় ডাকলেন "গ..নি মি...য়া ও গ..নি মি..য়া বাড়ী আছোনি"। ডাক দেয়ার সাথে সাথে আমিনা উঠে বসল, তার ব্যাথা বেদনা সব ভাল হয়ে গেছে। সে হাসতে লাগলো। সবাইতো অবাক, ঘটনা কি? মেয়েটা এতক্ষন ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছিল কিন্তু কি এমন জাদুর ঘটনা ঘটল যে মেয়েটা হঠাৎ ভাল হয়ে গেল। মাঝির মুখ থেকে শোনা গেল আসল ঘটনা। তিনি বললেন "গনি মিয়া এতই নামী কবিরাজ যে তার নাম নিলেই খারাপ জ্বীন, দুষ্টু আত্মা সব দৌড়ে পালায়, তাই মেয়ের বাবা যখন গনি মিয়ার নাম ধরে ডাকলেন তখন ভয়ে জ্বীন আমিনাকে ছেড়ে যায়। আমিনাও তাই ব্যাথা মুক্ত হয়। নৌকার যাত্রীরা সব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো।পথে আর কোন সমস্যা হল না। নিরাপদে সবাই বাড়ী ফিরে গেল। এমন কবিরাজ কি এখন আর আছে যার নাম শুনলেই রোগ পালাবে!!!

আমার গল্পটি ফুরলো নটে গাছটি মুড়লো।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫১
২১টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×