somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সবুজের মাঝে লাল ( একক অভিনয় )

০২ রা জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৬ মাসের কোলে রাইখা বুলবুলির বাবা আরেকটা বিয়া কইরা ঢাকায় চইলা গেছে। মানুষের বাড়িতে কাজ কইরা একটু একটু কইরা সোনার চানরে বড় করছি। মনে অনেক কষ্ট নিয়াও রাত্তিরে গান গাইয়া গাইয়া বুলবুলিরে ঘুম পাড়াইতাম। ৫ বছর বয়সে স্কুলে পাঠাইলাম। বুলবুলি আমার গান গাইতো কি সুন্দর গান ! স্কুলের শিক্ষকেরা আমারে বলতো এত সুন্দর গানের গলা এই মেয়ের। বড় হইলে সাবিনা ইয়াসমিন রুনালায়লার মত মস্ত বড় শিল্পী হইবো তোমার বুলবুলি। তোমার কপাল খুইলা যাইবো বুলবুলির মা। এইতো ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান। আমার বুলবুলি গান গাইলো, সবুজের বুকে লাল সেতো উড়বেই চিরকাল.............। সমস্ত ছেলেমেয়েদের মধ্যে আমার বুলবুলি ফার্স্ট হইলো।
আমাদের এলাকার জাকির চাচা ঢাকার মস্তবড় ডাক্তার। বুলবুলির গান শুইনা আমারে কইলো বুলবুলিরে আমারে দিয়া দাও। আমি লেখা -পড়া শিখাইয়া মানুষ কইরা দিব। আর একজন ভাল গানের শিক্ষকের কাছে গান শিখাবো। আমি কইলাম বুলবুলিরে ছাড়াতো আমি বাচতে পারুম না। আমারে কইলো তুমি চলো, আমার পরিবারে তুমিও থাকতে পারবা আমার স্ত্রী-ছেলেমেয়ের সাথে। কথা শুইনা খুশীতে আমার মন ভইরা গেল। সকাল ৯'টায় বরিশাল থেইকা বাসে উঠলাম। ঢাকার দিকে বাস ছাড়লো। সারা পথ বুলবুলি হাত দিয়া রাস্তার ধারের দোকানপাট দেখাইতেছিল আমারে । কি সুন্দর লাগছিল আমার বুলবুলি রে! গাবতলি নাইমা রাস্তা পার হইয়া টেম্পুতে উঠতে যাব এমন সময় কোত্থেইকা একটা গুলি আইসা আমার বুলবুলির সবুজ জামাটা রক্তে লাল কইরা দিল। যন্ত্রনায় আমার কচি ময়নাটা মা মা কইরা ছটফট করতে লাগলো। আস্তে আস্তে অসহায়ের মত আমার বুলবুলিের পৃথিবী দিয়া বিদায় দিলাম।
চারিদিকে ভিড় করলো মানুষ। আমর বুলবুলির জামাটার সবুজের মাঝে রক্তের লাল রং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সাথে মিশা গেল।
৭১-এ যারা আমার দেশকে জ্বালাইয়া পোড়াইয়া দিছিলো ওদের জাত ভাইরাই আমার বুলবুলিরে কাইড়া নিল। শোন মানুষ তোমরা সবাই সতর্ক হও এদেরকে আইনের হাতে তুলে দাও।
আমার বুলবুলি আর গাইবেনা কোনদিন সবুজের বুকে লাল সেতো উড়বেই চিরকাল...। সবুজের বুকে লাল সেতো উড়বেই চিরকাল...। সবুজের বুকে লাল সেতো উড়বেই চিরকাল।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×