somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Yesterday Today & Tomorrow এবং সোফিয়া লোরেন....

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিন কয়েক আগে এইচবিও চ্যানেল সোফিয়া লোরেন অভিনীত 'Yesterday Today & Tomorrow' মুভিটা দেখিয়েছে। চমৎকার মুভি। প্রায় অর্ধশতক আগের ছবি কিন্তু এখনো মুভির আবেদন বিন্দুমাত্র কমেনি। আসলে কিছুকিছু মুভির আবেদন চিরকালের। আমার অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী সোফিয়া লোরেন। সোফিয়া লোরেন অভিনীত অনেক মুভি আমি দেখেছি। উল্লেখ যোগ্য মুভির মধ্যে 'Sunflower', 'Two Women' অসংখ্য বার দেখেছি!

El Cid, The Fall of the Roman, Empire, Houseboat, Man of La Mancha, Five Miles To Midnight, Desire Under The Elms, It Started In Naples, Operation Crossbow, Between Strangers, Yesterday Today & Tomorrow, Ghost Italian Style, La Favorita, Arabesque, Eida, Boy in A Dolphin, Romilda, The Pride and The Passion, La Saiosayara একাধিক বার দেখেছি।

তখন ঢাকার বলাকা, মধুমতি, নাজ সিনেমা হলে মর্নিং শো তে খুব ভালো মানের ইংলিশ মুভি দেখাতো। ১৯৭৪ সনে 'Two Women' দিয়ে সোফিয়া লোরেন অভিনীত মুভি দেখা শুরু। সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ একজন তরুণের চমকে যাওয়ার জন্য এই মুভিটাই যথেষ্ট। তার পর একে একে 'সানফ্লাওয়ার', 'ঘোস্ট ইটালিয়ান স্টাইল', দ্যা প্রাইড এন্ড দ্যা প্যাশন' এর মত ক্লাসিকস ছবিগুলো দেখেছি। 'সানফ্লাওয়ার' মুভি বিশ্বযুদ্ধে বাধ্যতামূলক যোগ দেওয়া একজন যুবক(মার্সেলো মাস্ত্রোয়ানী) ও তার তরুণী প্রেমিকার রোমান্টিক প্রেম আর যুদ্ধের ভয়াবহতার মুভি। অন্যদিকে 'টু ওমেন' বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা ও দুর্ভিক্ষের ছবি। আমাদের মা-খালাদের মায়েরও বড় এই অভিনেত্রীকে তখনকার দিনে স্বপনে-জাগরণে ভাবতে আমার মতো কৈশোর উত্তীর্ণ সদ্য যুবাদের কোনো বাধা ছিল না। ব্যক্তিগত ভাবে সোফিয়া লোরেনকে 'পাশের বাড়ির মেয়ে' এবং প্রেমাস্পদ মনে করতে সামন্যতম কুণ্ঠাবোধ হত না। সত্যি বলতে, আমি সোফিয়া লোরেনের মোহে মোহাবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলাম।

১৯৯২ সনে শ্রদ্ধেয় শফিক রেহমান স্যার প্রতিষ্ঠা করেন "একাডেমি ফ্লিম সোসাইটি"। আমি প্রথম থেকেই ওখানকার মেম্বার হই এবং দুনিয়া শ্রেষ্ঠ সব মুভিগুলো দেখার সুযোগ পাই। ওখানেই আমি সোফিয়া লোরেন অভিনীত অসংখ্য মুভি দেখি।

তার অভিনীত ছবির তালিকা অনেক দীর্ঘ। ১৯৩৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ইতালিতে জন্মগ্রহণ করেন সোফিয়া লোরেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দগদগে ঘা হয়ে টিকে রয়েছেন যিনি 'টু উইমেন' সেলুলয়েডে।

একেবারেই বাঙলাদেশী নিম্নবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েনের দগদগে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি ছিল সোফিয়া লোরেনের জীবন। অভাবক্লিষ্ট, অনিশ্চিত! জন্মের আগে তার মা রোমিলডা একজন পুরুষকে ভালোবাসতেন। সেই প্রেমিকের সঙ্গে মিলনের ফলেই রোমিলডা গর্ভবতী হন। এই দেশের প্রেমিকদের মতোই লোকটি তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। ফলে সমাজের চোখে 'অবৈধ' এই সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। সোজা বাংলায় আমাদের সমাজে যাকে 'জারজ' বলা হয়। সেই শিশুকন্যাই বিখ্যাত অভিনেত্রী সোফিয়ার লোরেন। পর্দায় এবং পর্দার বাইরে যার উপস্থিতি প্রতিটি মুহূর্তের জন্য শিহরণ জাগায়। বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হয়ে যে মেয়েটি পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হয়েছেন। এই চরম অনিশ্চিত জীবনের শুরুটাই হয়ত তাকে সংগ্রাম করতে সাহস যুগিয়েছে।

সোফিয়ার মায়ের জীবন নিয়ে করা ছবি ‘রোমিলডা’তে সোফিয়া এক সঙ্গে মা ও মেয়ে উভয় ভূমিকায় অভিনয় করে সকলকে বিস্মিত করেন!

১৯৪৮ সালে বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তপর্বে উঠে যাওয়া দিয়ে শুরু হয়ে আর তাকে পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এরই মধ্যে যে পরিচালক কার্লো পন্টি তাকে 'ব্রেক' দিয়েছিল তাকেই বিয়ে করেন সোফিয়া। তার পর একে একে ১৯৫২ সালে ‘লা ফ্যাভোরিটা’, ১৯৫৩ সালে ‘এইডা’ ছবি উপহার পায় ফিল্মি দুনিয়া। আমি এই টেকো মাথার কার্লো পন্টিকে ভীষণভাবে হিংসে করতাম-সোফিয়া লোরেনের স্বামী হওয়ায়!

আরও পরে ১৯৫৭ সালে অভিনয় করেন প্রথম আমেরিকান ছবি ‘বয় ইন আ ডলফিন’-এ৷ ‘দ্য প্রাইড এন্ড দ্য প্যাশন’ ও ‘হাউসবোট’ ছবিতে। ‘লা সাইওসায়ারা’-তে অভিনয় করে ১৯৬০ সালে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন সোফিয়া।

সে সময়কার বিখ্যাত অভিনেতা মার্সেলো মাস্ত্রোয়ানি, পল নিউম্যান, মার্লন ব্র্যান্ডো, গ্রেগরি পেক, স্টিভ ম্যাককুইন, চার্লটন হিউসটনদের মতো নামকরা সব অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেন সমান দক্ষতায়। দুইবার অস্কার এবং একাধারে পাঁচটি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড পেয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:১৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাদীস সংগ্রাহক

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মে, ২০২০ দুপুর ১২:২৬



হাদীস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন মুসলমানদের জন্য।
যদিও দুষ্টলোকজন হাদীসের ভুল ব্যাখ্যা করে থাকেন। তাতে সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলে। ইসলামকে আঁকড়ে ধরতে হয় মহাগ্রন্থ আল কুরআন এবং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুড ওল্ড নাইন্টিজ

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৭ শে মে, ২০২০ বিকাল ৪:৪২



আমরা গল্প করছিলাম সাত্তার মিয়ার চায়ের দোকানে বসে। সাত্তার মিয়া জঘন্য চা বানায়। আমার বন্ধু সোবহানের মতে এই চা ঘোড়ার মুতের সমতূল্য। সাত্তার মিয়ার সামনেই এসব আলোচনা করা হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাহায্যও নাকি আবার বেআইনী হয়? দুনিয়ার ম্যাঁওপ্যাঁও

লিখেছেন চাঁদগাজী, ২৭ শে মে, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২২



আমি কুইন্স বরোর সীমানার সাথে লাগানো, লংআইল্যান্ডের একটা এলাকায় বেশ কিছু সময় চাকুরী করেছিলাম; এক সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পথে এক সাদা রমনীকে সাহায্য করে, ধন্যবাদের বদলে হুশিয়ারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি নিয়ে আসলে রাজনীতি করেছে কারা, ছবির জন্য নামাজ পড়িয়েছে কারা

লিখেছেন গুরুভাঈ, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৮:২৪



ছবি দেখুন। আমাদের যে ছবিটা দেখানোর জন্য এই নামাজের আয়োজন করা হয়েছে আমরা শুধু সেই ছবিটাই দেখেছি এবং অনেকে দ্বিদ্ধানিত আছি এই ভেবে যে হয়ত আসলেই শুকনা জায়গা ছিলোনা বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেমন কাটালাম এবারের ঈদ!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৭ শে মে, ২০২০ রাত ৯:১৩

(পোস্টটা গতকালের লেখা)

গতকাল পবিত্র ঈদুল ফিতর গত হয়ে গেল! মনের মাঝে আনন্দ বিষাদের বিচিত্র সব অনুভূতি খেলা করে চলছিল সেই সকাল থেকেই। এবারের রোযার মাসটা আল্লাহতা’লার অশেষ রহমতে খুব ভাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×