somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

আমি কিছুই হতে পারিনি.......

২৫ শে এপ্রিল, ২০২১ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি কিছুই হতে পারিনি.....

স্বাধীনতার আগেই বাবা-চাচারা ছাড়াও আমাদের বৃহত্তর পরিবারের অনেকেই প্রতিরক্ষা বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বয়সী শিক্ষিত যারা তাদের প্রায় সবাইর টার্গেট প্রতিরক্ষা বাহিনীর গর্বিত অফিসার হওয়া। স্বাধীনতার পূর্বাপর বৃহত্তর যৌথ পরিবারের ৮ জন ক্যাডেট কলেজের ছাত্র। সকলেরই টার্গেট লেফট রাইট লেফট্... মাঝখান থেকে আমি এসএসসি তে উঠেই ইচ্ছা প্রকাশ করছি বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স করবো এবং পেশা হিসেবে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চায় যুক্ত থাকবো- যা ক্যাডেট কলেজের ছাত্রদের মধ্যে অকল্পনীয় ভবিষ্যৎ পেশা। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার মূল অবিভাবক আব্বা/বুবু কেউ নন। বরং আব্বা আমার লেখা গল্প কবিতা পড়ে উৎসাহ দিতেন। একদিন বলেছিলেন, "Most of the people who have done very well in Bengali literature have studied in English literature (for example, many famous poets are named). If you study English literature, you will be able to learn by reading the writings of "রথী মাহারাথী" of world literature. So you can do Honors-Masters in English Literature
"। কিন্তু চাচা, মামারা আমার কবি হওয়ার ঘোর বিরোধী। আমার এক মামা যিনি তখন ঢাকা জেলা দায়রাজজ তিনি আমার হাত থেকে 'জীবনানন্দ দাশের কবিতা সমগ্র' বইটি নিয়ে কফি খেতে খেতে খানিকক্ষণ নাড়া চাড়া করে বলেছিলেন- "মিনিংলেস, ভবিষ্যৎ নেই"! স্পষ্ট মনে আছে আজও।

কলেজে আমি পিটি, ড্রিল, স্পোর্টস, ডিবেট এবং এক্সামে কারোর থেকেই খুব পিছিয়ে ছিলামনা। কিন্তু "মিনিংলেস, ভবিষ্যৎ নেই"-সেই ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎবাণী সারাক্ষণ আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখত। সেই মেলানকলিয়াকে অগ্রাহ্য করার জন্য রোজ ঘাম ঝরাতাম। বাস্কেটবল আর ভলিবল গ্রাউন্ডে সমস্ত বিষাদকে আছড়ে মেরে ফেলতাম। কিন্তু কবিতা গল্প লেখা আমি ছাড়তে পারিনি... রাতে পড়তে বসে হঠাৎ বইপত্র সরিয়ে রেখে রুল টানা খাতায় কবিতা লিখতাম।

তখন পড়েছিলাম নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'চিড়িয়াখানা' গল্পটি, যেখানে এক বাংলায় এম. এ. কোথাও চাকরি না পেয়ে চিড়িয়াখানার মৃত বাঘের খাঁচায় বাঘের চামড়া আর মুখোশ পরে দর্শকদের আনন্দ দেবার চাকরি করত। পাশের খাঁচায় থাকত একটি সিংহ। একদিন সে নকল বাঘের হাত কামড়ে ধরে লোহার রডের ফাঁক দিয়ে। বাংলায় এম. এ. মৃত্যুভয়ে চিৎকার করে উঠলে সিংহটি তাকে সতর্ক করে দিয়ে চিৎকার করতে বারণ করে- 'চুপ চুপ! আমিও বাংলার এম.এ."। এসব রসিকতার গল্পও আমাকে নৈরাশ্যের কিনারায় নিয়ে যেত(বাঘ / সিংহের ব্যাপারটা এখন আর মনে নেই। তবে নৈরাশ্যটা আজও ভুলিনি)।

আমাদের বাংলার শিক্ষকও একদিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, "চাকরির বাজারে বাংলায় এম এ-র স্থান সবার পিছনে।" সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছিলেন, 'যে ভাষার ভাত দেবার মুরোদ নেই সেই ভাষা নিয়ে আমরা আদিখ্যেতা করছি।' (২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে)- এসব কথা প্রতিদিন হতাশা বাড়িয়ে দিত গোপনে।

তারপর ৪০-৪৫ বছর কেটে গেল। আমার পরিচিতদের মধ্যে বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স অনেকেই এখন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী অধ্যাপক। অনেকেই শিক্ষকতায় খুব সফল রয়েছেন। একদা আমার দুই সহপাঠী দুই ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে এবং তিন সহপাঠী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। দুইজন সচিব পদ থেকে অবসর নিয়ে একজন এখন বিটিআরসি'র চেয়ারম্যান অন্যজন পিএসসি’র চেয়ারম্যান।

আর চারপাশে তাকিয়ে দেখছি, আমাদের প্রথম যৌবনের চাইতে অনেক বেশি সম্ভাবনাময় তরুণ তরুণী এখন কবিতা লিখছে, সাহিত্য সংস্কৃতির পুরোভাগে। তাদের ভাষা-ব্যবহার, ভাবনার গভীরতা, জীবনকে দেখার চোখ প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করে আমাকে। কবিতা বা সাহিত্য নিয়ে, খ্যাতি অথবা খ্যাতিহীনতা নিয়ে আমার আর কোনও নৈরাশ্য নেই। কিন্তু আমার বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স করে সাহিত্য সংস্কৃতির সেবক হওয়া হয়নি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:২৮
৮টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×