~~নাসার স্বর্ণাভিযান~~
আপনিও হতে পারেন বিলিয়ন ডলার ম্যান!
দিন দিন সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ২২.০৯. ২০২০ ইংরেজি তারিখ ২২ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি(১০ গ্রাম)র দাম ছিলো ৭৬,৪০০/-!
সোনার দাম যতই বাড়ুক, ভয় কিম্বা হতাশার কিছু নাই বরং ধৈর্যের সাথে অপেক্ষা করুন- আপনিও ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্বর্নের মালিক হয়ে যাবেন!
এই সুখবর নিয়ে এসেছে নাসা(NASA)।
নাসা এমন একটি গ্রহাণুর কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে যা শুনলে আপনার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। সোনা ছাড়াও অতি মূল্যবান ধাতু দিয়ে তৈরি সেই গ্রহাণুটি। সেখানে কীভাবে যাওয়া যায় তার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে নাসা। আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, গ্রহাণুটির মধ্যে যা খনিজ পদার্থ ও ধাতু রয়েছে, তার মূল্য বিশ্বের বাজারে ২০,০০০ কোয়াড্রিলিয়ন মার্কিন ডলার!
নতুন একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম উপগ্রহ বানাচ্ছে নাসা। উপলক্ষ্য, ওই গ্রহাণুর আরো খোঁজখবর নেওয়া। প্রায় ২২৬ কিমি চওড়া সেই গ্রহাণু, নাম ‘16 psyche'. ইতিমধ্যেই সেই উপগ্রহের ‘ক্রিটিকাল ডিজাইন’ তৈরী হয়ে গিয়েছে। এখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কী আছে ওই গ্রহাণুতে?
আসলে ওই গ্রহাণুটিকে মহাকাশের রত্নভাণ্ডার বলা হয়েছে। অনুমান, ওই গ্রহাণুতে এত বিপুল পরিমাণ বহুমূল্য ধাতু রয়েছে, যা গোটা পৃথিবীর সব মূল্যবান ধাতুর থেকেও বেশি! সৌরজগতের মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মাঝে এস্টেরয়েড বেল্টেই এই রত্ন গ্রহাণুর অবস্থান। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, ওই এস্টেরয়েড বেল্টের সব গ্রহাণুতেই লোহা, নিকেল, সোনা, প্লাটিনাম থাকলেও 16 psyche তে এসবের পরিমাণ লক্ষগুণ বেশি।
ওই গ্রহাণুতে যে পরিমাণ মূল্যবান ধাতু রয়েছে তার মোট মূল্য প্রায় ২০,০০০ কোয়াড্রিলিয়ন ডলার। এক কোয়াড্রিলিয়ন মানে ১০০০ ট্রিলিয়ন, আর এক ট্রিলিয়ন মানে ১০০০ বিলিয়ন, আবার এক বিলিয়ন মানে ১০০ কোটি। এখন ওই গ্রহাণুতে মোট কত টাকার সম্পত্তি রয়েছে তা আপনিই হিসাব করে নিন(আমার ১৬ ডিজিটের সাইন্টিফিক ক্যালকুলেটর দিয়েও আমি হিসাবটা বের করতে পারিনি)। নাসার গবেষকেরা বলছেন, ওই গ্রহাণু থেকে প্রাপ্ত ধাতুর মূল্য পৃথিবীর সকল লোকের মধ্যে বিলিয়ে দিলে জনপ্রতি ১(এক) বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে যাবেন! অপেক্ষা করুন, ব্যাংকের টাকা লোপাট না করে, রাস্ট্রীয় সম্পদ চুরিচামারি না করেই আমিও বিলিওনার হতে যাচ্ছি!
এই নতুন উপগ্রহ তৈরির কাজে নাসার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে এলন মাস্কের স্পেস এক্স। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে স্পেস এক্সের ফ্যালকন রকেটের মাধ্যমে কেপ কানাভেরাল লঞ্চপ্যাড 39A থেকে এই উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করার প্রাথমিক পরিকল্পনা সফল হলে ২০২৩ সালে এই উপগ্রহ মঙ্গলগ্রহ পেরোবে এবং ২০২৬ সালে ওই গ্রহাণুর গতিপথে প্রবেশ করবে নাসার এই উপগ্রহ এবং তার অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ক্যামেরা দিয়ে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এই গ্রহাণুকে। তেমন হলে পরে কোনো যান পাঠিয়ে 16 psyche খনন করে নিয়ে আসবে মূল্যবান সব রত্ন!
সুখবরের পাশাপাশি খারাপ খবরও আছে। কারণ গ্রহাণু থেকে উত্তোলিত সোনা ও অতি মূল্যবান ধাতু পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করলে তা আর মূল্যবান থাকবে না- স্যার সলিমুল্লাহ আর কাজের বুয়ার স্বামী কলিমুল্লার ইকোনমিক স্টাটাস একসাথে গড়াগড়ি খাবে। অর্থনীতির নিয়মে 'দাম ও আপেক্ষিক ঘাটতি'র একটি সম্পর্ক রয়েছে। বাজারে সোনার সরবরাহ বেড়ে গেলে তার দাম পড়ে যাবে। তখন সোনা আর আগের মত মূল্যবান থাকবে না।
সুতরাং 16 psyche থেকে সোনা ও অতি মূল্যবান ধাতু যদি উত্তোলন করে পৃথিবীতে নিয়ে আসাও হয়, আমার কোনো লাভ হবেনা। আপনাদেরও খুব বেশি লাভ হবে বলে মনে হয় না। তবে এটা ঠিক সোনা সহজলভ্য হলে সোনার গহনা গিন্নীকে দিতে মধ্যবিত্ত বাঙালির আর কোনো অসুবিধা হবে না।
তথ্যসূত্রঃ The International Journal of Space Science and Technology (IJSST) Aurtical: NASA's Gold Mission:
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




