somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯১

০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



গত কয়েকদিন ঢাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
ভোরের দিকে চারপাশ কুয়াশায় ভরে থাকে। দুপুরবেলা শীত কম থাকে। অল্প সময়ের জন্য রোদ উঠলেও রোদের তাপ থাকে না। আবার বিকেল থেকে শীতের তীব্রতা হুহু করে বাড়তে থাকে। শীতের কারণে রাস্তায় মানুষজন কম থাকে। শাহেদ অন্য সবার মতো না। শাহেদ আলাদা। সে শীত উপভোগ করে। শাহেদকে শীত উপভোগ করতে শিখিয়েছে একজন স্কুল শিক্ষিকা। শিক্ষিকার নাম বকুল। বকুল বিবাহিতা। তার দুই বড় বড় ছেলে আছে। স্বামী ব্যবসায়ী। বকুল ঢাকার নামকরা এক স্কুলের শিক্ষিকা। দেখতে সুন্দর। তবে চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা থাকে সব সময়। সব সময় শাড়ি পড়েন। অনেকখানি ফর্সা পেট বের হয়ে থাকে, সেটা নিয়ে তার কোনো অস্বস্তি নেই। অবশ্য বকুল যতক্ষন স্কুলে থাকে, ততক্ষন- এপ্রোন পড়ে থাকতে হয়। বকুলের ধারনা সে একজন অসুখী মানুষ।

দশ টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানো যায়।
হ্যা ঢাকা শহরের অনেক হাসপাতালে দশ টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখানো যায়। শেখ হাসিনা সেই ব্যবস্থা করে দিয়ে গেছেন। আল্লাহ শেখের বেটিকে বাঁচিয়ে রাখুক। সেদিন শাহেদ দশ টাকা দিয়ে ডাক্তার দেখালো। লাইনে দাঁড়িয়ে দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এরপর ৩১২ নম্বর রুমে যাও। তিনজন ডাক্তার বসে আছেন। সবাই রোগী দেখছেন। প্রচুর রোগী। ডাক্তাররা ক্লান্ত। টেবিলের উপর একটা ইয়া মোটা বই রাখা। বইয়ের নাম: Skin diseases। শাহেদ জামাল যখন ডাক্তারের কাছে গেলো, তখন ডাক্তার ফ্লাক্স থেকে কাপে চা ঢালছিলেন। শাহেদকে বললেন, সমস্যা কি? শাহেদ বলল, কোনো সমস্যা নাই ম্যাডাম। আমি এমনি এমনি এসেছি! ডাক্তার হেসে ফেললেন। সহজ সরল সুন্দর হাসি। শাহেদ জামালও হেসে ফেললো। তারপর ডাক্তার শাহেদকে চা খাওয়ালো। যাইহোক, শাহেদ নিজের চোখে দেখলো, দশ টাকা দিয়ে মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে। এমনকি ফ্রি ওষুধও!

প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে বলেই রমনা পার্কে লোকজন কম।
শাহেদ রমনা পার্কে তার প্রিয় বেঞ্চে বসে আছে। তার পাশে বসে আছে বকুল। আজ বকুলের স্কুল বন্ধ। শাহেদ স্পষ্ট বলল, বকুল আমি তোমার সাথে পরকীয়া করতে পারিব না। বকুল হেসে ফেলল। সুন্দর হাসি। বলল, আমি তোমার সাথে কোণ দুঃখে পরকীয়া করিব? আমার স্বামী আছে, দুটা ছেলে আছে। আছে আমার স্কুল এবং ঘরসংসার। শাহেদ বলল, তাহলে তুমি আমাকে কেন ফোন দাও? কেন বাসায় যেতে বলো? কেন প্রেমিকার মতোন আচরণ করো? বকুল বলল, ভালো লাগে। এরপর শাহেদ জামাল চুপ, বকুলও চুপ। কারো কোনো কথা নেই। একজন চা বিক্রেতা এলো। নিরবতা ভাঙলো। শাহেদ বলল, খিচুড়ি আর হাসের মাংস খেতে ইচ্ছা করছে বকুল। বকুল বলল, আগামীকাল দুপুরে আমার বাসায় এসো। আমি রান্না করে রাখিব। এছাড়া যদি তুমি অন্য কোনো আবদার করো, সেটাও মেনে নিবো। শাহেদ হেসে ফেলল। স্বচ্ছ হাসি।

সময় সন্ধ্যা সাতটা।
শীতের সন্ধ্যা। হুহু করে বাতাসের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। শাহেদ জামাল যাবে পুরান ঢাকা। নাজিমুদ্দিন রোড। শাহবাগ এসে শাহেদ রিকশা থেকে নেমে গেলো। কারণ বিশাল জনসভা হচ্ছে। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা ভিড় করছে। রাস্তা বন্ধ। তারা চিৎকার দিয়ে ইনকিলাব ইনকিলাব বলছে, সাথে খারাপ গালিও দিচ্ছে। এই গালি হাদি শিখিয়ে গেছে। এরা কাকে গালি দিচ্ছে শাহেদ জামাল বুঝতে পারলো না। এরা কি জঙ্গী? এরা কি নেশা গ্রস্ত? এরা কি অসুস্থ? এরা কি টাকার বিনিময়ে রাস্তা আটকে হাজার হাজার মানুষের অসুবিধা করে কিসের সমাবেশ? শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে এক ঘন্টার মধ্যে শাহবাগ খালি করে ফেলতো। একবার হুজুরেরা মতিঝিল দখল করেছিলো। শেখের বেটি এক রাতের মধ্যে পুরো মতিঝিল ফাঁকা করে ফেলেছিলো। যতই দিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছে শেখ হাসিনা গ্রেট। দেশের ভালোর জন্য এবং ৭১ এর পরাজিত শক্তিকে দমিয়ে রাখার জন্য একজন শেখ হাসিনা বড় প্রয়োজন।

শাহেদ জামাল বিরাট বিপদে পড়েছে।
তার বাসার গেটে সব সময় পাঁচ সাতটা কুকুর থাকে। শাহেদ কুকুর ভয় পায়। তার ধারনা কুকুরের কামড় খেয়ে দীর্ঘদিন থাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হবে। কুকুর বিড়াল সামান্য আচড় দিলেও অনেক ভোগান্তি। সে এ মাসে নতুন মেসে উঠেছে। এই এলাকায় সে একদম নতুন। এলাকার নাম- বাসাবো। এটা আবার কেমন নাম? বাসাবো! এটা শুধু বাসাবো না, উত্তর বাসাবো আছে, দক্ষিন বাসাবো আছে, পূর্ব পশ্চিম বাসাবোও আছে। শাহেদ জামাল থাকে মধ্য বাসাবো। করোনা কালে পুরো ঢাকা শহরের এই এলাকার মানুষের করোনা বেশি হয়েছে। বাসাবো'তে একটা মাঠ আছে। সেই মাঠ শেখ হাসিনার অবদান। বাসাবোর শেষ মাথায় নন্দীপাড়া নামে একটা জায়গা আছে। সেখানে নাকি ধানক্ষেত আছে। শাহেদ জামাল ধানক্ষেত দেখতে যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জ্বলে উঠার আগেই তারেক ম্যাজিকের সমাপ্তি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪০



খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা জিয়া থেকে এসেছে। প্রিয়জনের পরিবারের সদস্যদেরকে ভালোবাসতে গিয়ে জনগণ এখন ক্লান্ত। জনগণ এখন ভালোবাসার প্রতিদান চায়। যার থেকে তারা ভালোবাসার প্রতিদান চায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপনতা জেকে বসেছে ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫১


ব্লগ একটি লেখা প্রকাশ ও পাঠক মন্তব্য চালাচালির স্থান।একজন লেখক তাঁর লেখার উপর পাঠক প্রতিক্রিয়া/ফিডব্যক দেখতে চান, যেন তিনি পাঠক প্রতিক্রিয়ার আলোকে নীজের লেখার মান উন্নত... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) সুন্নাতের পর আখারিনের মাযহাবের কথা আল্লাহ নিজেই বলেছেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০৭



সূরা: ৯ তাওবা, ১২২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২২। আর মু’মিনদের এটাও উচিৎ নয় যে (জিহাদের জন্য) সবাই একত্রে বের হয়ে পড়বে। সুতরাং এমন কেন করা হয় না যে, তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ইমাম এত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবেন কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৬


১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির গেটে শুরু হয় অস্বাভাবিক গোলমাল। মিনিটের মধ্যে সেখানে জড়ো হয় দেড়শো মানুষের উত্তেজিত ভিড়। তাদের টার্গেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৯ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৩৬

আসল সত্য তাহলে কোনটা?

জাপানের ফুজি মাউন্টেন, ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ওরা এখনো বলে, শাপলা চত্বরে হেফাজতের জমায়েতে
কাউকেই নাকি হত্যা করা হয়নি।
গায়ে রং মেখে কিছু লোক ৫ মে ২০১৩... ...বাকিটুকু পড়ুন

×