
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা জিয়া থেকে এসেছে। প্রিয়জনের পরিবারের সদস্যদেরকে ভালোবাসতে গিয়ে জনগণ এখন ক্লান্ত। জনগণ এখন ভালোবাসার প্রতিদান চায়। যার থেকে তারা ভালোবাসার প্রতিদান চায় তার ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার যোগ্যতা আছে কিনা সেটাও তারা বুঝতে চায়। একাত্তর বেচে অনেক খেয়েছে দুই পরিবার। এখন আর একাত্তর কিনতে চায় না জনতা। কারণ ভোগান্তি। ভালোবাসার ভোগান্তি তাদের আর সহ্য হচ্ছে না। প্রিয় পরিবারের সদস্যদের মরণে তাদের জানাজায় যেতে এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করতে জনগণ রাজি আছে। তবে তাদের অযোগ্যতার ভোগান্তি তারা আর মেনে নিতে রাজি নয়।
এখন শান্তি পেতে রাজাকারকেও ভোট দেয় জনতা। পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন থেকে সেটা বুঝাগেছে। আগামী নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে। আমার স্ত্রীর বড় বোনকে বিএনপিকে ভোট দিতে অনেক বুঝালেন আমার স্ত্রী। তিনি কোনভাবেই রাজি হলেন না। তিনি বললেন, এবার ভোট দেব জামায়াতকে। আমাদের জামাইয়ের কথা বলেও তাঁকে বুঝানো গেল না। ক্লাশের ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলের পক্ষে কথা বলতে দিলাম। যাকে বিএনপির পক্ষে কথা বলতে দিলাম সে বলল কি বলব স্যার? এরা ক্ষমতায় গিয়ে সাইন বোড পাল্টায়, কিন্তু সাইবোডের ভিতরের জিনিস আগের মতই থাকে। জনতা এটা বার বার দেখেছে। জনতা চায় দ্রব্য মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকুক এবং তাদের বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকুরী হোক। আর সরকারী সেবা পেতে ঘুষ না লাগুক। রাস্তায় চলতে গিয়ে হাঁড়ের জোড়া ঢিল না হোক। এসব না পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু-জিয়া ও একাত্তর চেতনা ইত্যাদি শুনতে আর ভালো লাগে না। অনেকেই বলছে বিএনপি আওয়ামী লীগের মতই হবে। তারা সংস্কারকে না বলে দিয়েছে। যারা সংস্কারকে হ্যাঁ বলতে চায় তারা বিএনপিকে ভোট দিবে কি? এ বিষয়ে আমার মনে খানিকটা সন্দেহ দেখাদিয়েছে।
ভাবুন তারেক জিয়া ভাবুন। আপনার কি প্লান আছে? সেই প্লান জনতাকে না জানালে তারা অন্ধের মত আপনার দলকে ভোট দিবে- সেই দিন মনে হয় শেষ হতে চলেছে। বঞ্চিত জনতা ধিরে ধিরে হাদির মত জ্বলে উঠছে। এ সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে মেরে শেষ করা যাবে না। মারতে গিয়ে হাসিনা পালিয়ে গেলেন। ক্ষমতায় যাওয়া বড় কথা নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকাও একটা কথা। প্রতিপক্ষকে গালি দিয়ে আজ-কাল কাবু করা যায় না। এখন সৃজনশিলতা লাগবে। আপনার কি সৃজনশিলতা আছে আপনি বলুন, আমারা শুনে আমাদের কান জুড়াই। আপনার মা মন্দের ভালো ছিলেন। জনতা এখন তাঁর চেয়ে ভালো চায়। আপনি কি তাঁর চেয়ে ভালো? আপনি তাঁর চেয়ে ভালো হলেও আপনার চেয়ে অন্য কেউ আরো বেশী ভালো হলে ভোটার সেদিকে ছুটবে। ছাত্রদের আচরণে সেটাই বুঝা যাচ্ছে। আর গণভোটে আপনার ‘না’ ভোট বেছে নেওয়া আপনার ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ জনগণ এখন সংস্কার চায়। তারা পরির্তন চায়। আমি তো সেই আগের মতই আছি- এগান এখন আর চলে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



