somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাস্তার ডাক ও স্মৃতির চাকা: দু-চাকার ঈদযাত্রা যখন আবেগের নাম

১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতি বছর ঈদের ছুটি কাছে এলেই শহরের চেনা রাজপথগুলো এক অন্যরকম রূপ নেয়। চারদিকে এক অস্থির অথচ আনন্দময় ব্যস্ততা। আজ সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েই চোখে পড়ল সেই চিরচেনা দৃশ্য—সারি সারি মোটরসাইকেল। পিঠে ভারী ব্যাগ, বাইকের দু-পাশে ঝোলানো বিশালাকার পোটলা, আর চালকের পেছনে পরম নির্ভরতায় বসে থাকা সঙ্গী। কোনো কোনো বাইকে বাবা-মায়ের মাঝে স্যান্ডউইচ হয়ে বসে আছে খুদে যাত্রীটি। এই দৃশ্যটি দেখলেই বোঝা যায়, ইট-কাঠের শহর আজ খালি হতে শুরু করেছে; নাড়ির টানে মানুষ ফিরছে শেকড়ে।

ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার এই স্বাধীনতায় যেমন আনন্দ আছে, তেমনি আছে কিছু অঘোষিত ঝুঁকি। গণপরিবহনের ঝক্কি এড়াতে অনেকেই এখন নিজের প্রিয় বাইকটি বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু হাইওয়ের উত্তাল ট্রাফিক, বিশালকার বাস আর ট্রাকের মাঝখান দিয়ে ছোট একটি বাইকে যখন দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সাথে স্তূপীকৃত ব্যাগ থাকে, তখন ঝুঁকিটা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাইকের বাম পাশে শাড়ি-গার্ডের সাথে বড় বড় ব্যাগ বাঁধার ফলে বাইকের ভারসাম্য বা 'ব্যালেন্স' নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। এই ভারসাম্যহীনতা আর অন্য যানবাহনের সাথে সামান্য ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা ঈদযাত্রার আনন্দকে বিষাদে রূপ দিতে পারে। একটু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে ব্যাগ বাঁধলে এই জার্নিটা হতে পারে নিখাদ রোমাঞ্চের।

আজকের এই উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে মনের এক কোণে কেমন যেন একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা এসে ভিড় করল। সবাই বাড়ি যাচ্ছে, সবার একটা গন্তব্য আছে। অথচ আমার কোথাও যাওয়ার তাড়া নেই। সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে, শহরটা নিঝুম হতে শুরু করেছে, আর আমি যেন এক স্থবির দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দেখছি সবার ঘরমুখো আনন্দ।

স্মৃতি হাতড়ে ফিরে গেলাম ২০১৬ সালে। তখনো প্রমত্তা পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতু মাথা চাড়া দিয়ে ওঠেনি। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম খুলনার উদ্দেশ্যে। ফেরি পারাপারের সেই রোমাঞ্চ, নদীর শীতল বাতাস আর দু-চাকার গতির সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়া—সেই ট্যুরটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি। এবার ঈদেও এক লম্বা ছুটি হাতছানি দিচ্ছে। এই অলস দুপুরের নির্জনতায় মনটা বারবার বলছে—আবার কি বের হওয়া যায় না? কোনো এক অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে গিয়ার পাল্টে গতির সাথে মিতালি করা কি খুব কঠিন? হয়তো শেষমেশ আমিও কোনো এক সকালে ব্যাগ গুছিয়ে বাইকটা স্টার্ট দিয়ে দেব। গন্তব্য জানা নেই, কিন্তু রাস্তার সেই আদিম ডাক উপেক্ষা করা কঠিন।

পরিশেষে, যারা নাড়ির টানে বাইক নিয়ে বাড়ি ফিরছেন, তাদের পথচলা নিরাপদ হোক। আপনাদের প্রিয়জনেরা পথ চেয়ে বসে আছে, তাই গতি আর সতর্কতার ভারসাম্য বজায় রাখুন। আর যারা আমার মতো এই জনমানবহীন শহরেই থেকে যাচ্ছেন, তাদের সবার জন্যই রইল ঈদের আগাম শুভেচ্ছা।

সবাইকে ঈদ মোবারক। হ্যাপী বাইকিং টু অল!
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৪২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×