somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

সাইকেল শেখা........

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাইকেল শেখা......

গ্রীন রোড স্টাফ কোয়ার্টার মাঠের পশ্চিম প্রান্তে প্রতিদিন সকালে বাজার বসে। দেশীয় তাজা মাছ, মুরগী শাকসবজি পাওয়া যায়। সকালে হাটতে বেরিয়ে মাঝেমধ্যে ওখান থেকে মাছ সব্জির কিনে বাড়ি ফিরি। সেদিনও বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ নজর আটকে গেল একটা খুব পরিচিত দৃশ্যে, যা প্রায়শই আমাদের নজরে পড়ে, কিন্তু অতটা খেয়াল করিনা...

মাঠে এক ভদ্রলোক তার ছেলেকে সাইকেল চালানো শেখাচ্ছেন। ছেলেকে সীটের উপর বসিয়ে বাবা কিছুটা ধরে ধরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। ছেলেও কিছুটা চালাতে পারছে, তারপর পড়ে যাচ্ছে। বাবা দৌড়ে গিয়ে তাকে আবার তুলে ধরছেন। সীটে বসিয়ে আবার তাকে কিছুটা ঠেলে দিয়ে বলছেন, "এই তো হচ্ছে, সামনের দিকে তাকাও, দূরে তাকাও। ভয় পেওনা। এই তো ব্যালেন্স এসে গেছে। এই তো হচ্ছে... হচ্ছে, হচ্ছে, সাবাস...হচ্ছে। চালাও..."

আমার বেশ লাগছে দেখতে। দাঁড়িয়ে গেলাম৷

ছেলেটা আবার পড়ে গেল। বাবা ছুটে গিয়ে তুলে দাঁড় করালেন। ছেলেটা আজ আর শিখতে চাইছে না। বাবা আবার তাকে জোর করে সাইকেলে তুলে বললেন, "আর দুপাক চালাও, পুরো শিখে যাবে।"

ছেলে আবার প্যাডেলে চাপ দিল। একটু বেঁকতে বেঁকতে দেহের ভারসাম্য হারিয়েও নিজেকে সোজা করে নিল৷ প্যাডেলে চাপ দিয়ে কিছুটা এগিয়ে গেল৷ কি আশ্চর্য্য! আর পড়ে যাচ্ছে না। সুন্দর চালাচ্ছে!

বাবা মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কিছু বলছেন, তবে সে আওয়াজ ছাপিয়ে ছেলের গলা শোনা যাচ্ছে, "বাবা আমি পারছি। আমি পারছি। পারছিইইই..."।
ছেলের চোখে মুখে বিজয়ীর হাসি। বাবার মুখে পরিতৃপ্তির। সাইকেল ঘুরে চলেছে....একপাক, দুপাক, তিনপাক....

স্থানুবৎ দাঁড়িয়ে দৃশ্যটা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল আমি টাইম মেশিনে চেপে তেপ্পান্ন বছর পিছিয়ে গেছি ............

বাড়ির সামনে ধানমণ্ডি মাঠ(এখন শেখ জামাল ক্লাব)আমার বাবা আমাকে বলছেন "সাবাস, এই তো হচ্ছে। জোরসে প্যাডেল ঘোরাও। ভয় পাবেনা। দূরে তাকাও... চাকার দিকে তাকাবেনা, সামনে তাকিয়ে প্যাডেল করো"......

আমিও মন্ত্রমুগ্ধের মত কানে সেই শব্দগুলো শুনছি আর পালন করে যাচ্ছি সাধ্যমত।
মনে হচ্ছে আমি সাইকেল চালানো শিখছি... মাঝে মাঝে পড়ে যাচ্ছি। আবার উঠছি। আব্বু দৌড়ে এসে সোজা দাঁড় করাচ্ছেন। আমি বলছি, "আব্বু আজ আর না। আবার কাল....."। আব্বু বলেন, "তুমিতো শিখেই গিয়েছো... আর দশমিনিট চালাও- পুরো শিখে যাবে।"

অগত্যা সাইকেলের প্যাডেলে চাপ দিলাম কিছুটা অনিচ্ছায়। পড়তে পড়তেও নিজেকে সামলে নিলাম, মনের জেদে...
আরে! আমি তো সত্যিই আর পড়ে যাচ্ছি না। মনে মনে ঠিক করলাম আর পড়ে যাব না।

"এই তো হচ্ছে"- আব্বু সমানে বলে যাচ্ছেন- "ভয় পেওনা, সাবাশ, এই তো হচ্ছে, সামনের দিকে তাকিয়ে জোরে প্যাডেল করো।"

আমি সামনের দিকে না তাকিয়েই সাইকেল চালাচ্ছি...তাকিয়ে দেখলাম, আব্বুর মুখে পরিতৃপ্তির হাসি। আমারও খুব আনন্দ হচ্ছে। আব্বু মাঠের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছেন, আমি আব্বুকে ঘিরে পাক খাচ্ছি মনের অনন্দে.......
একপাক, দুপাক, তিনপাক......
যেন মাইলের পর মাইল সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছি.....

এ এক পার্থিব সত্য, সব বাবারাই ছেলেকে বলেন, "অন্যরা পারলে তুমিও পারবে৷ মন দিয়ে কর, এগিয়ে চল। জিততে তোমায় হবেই"।

...... আব্বু বেঁচে নেই দুই যুগ হলো....
আমার জীবনের পরাজয় তোমাকে দেখে যেতে হয়নি....
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৩:১০
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প-পুতিনের দানবীয় খেলায় কি তবে ৩য় বিশ্বযুদ্ধই ভবিতব্য?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৮


২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসটি ক্রমেই এমন এক অশুভ কালপঞ্জিতে পরিণত হচ্ছে, যা ইতিহাসের মোড় ঘোরানো মুহূর্তগুলোর সঙ্গে তুলনীয় হয়ে উঠছে। ১৯১৪ সালের সারায়েভো হত্যাকাণ্ড বা ১৯৩৯ সালের পোল্যান্ড আক্রমণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১৩



গত কয়েকদিন ঢাকায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে।
ভোরের দিকে চারপাশ কুয়াশায় ভরে থাকে। দুপুরবেলা শীত কম থাকে। অল্প সময়ের জন্য রোদ উঠলেও রোদের তাপ থাকে না। আবার বিকেল থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্বলে উঠার আগেই তারেক ম্যাজিকের সমাপ্তি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪০



খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জনপ্রিয়তা জিয়া থেকে এসেছে। প্রিয়জনের পরিবারের সদস্যদেরকে ভালোবাসতে গিয়ে জনগণ এখন ক্লান্ত। জনগণ এখন ভালোবাসার প্রতিদান চায়। যার থেকে তারা ভালোবাসার প্রতিদান চায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই শীতে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



মানুষের আগে জমাটবদ্ধ হচ্ছে জল!
যতটুকু পাখির কিচিরমিচির অবশিষ্ট ছিলো-
সেখানে ভর করেছে মৌনতা!
বাতাসে সুই ফোটা ফণা;
দিনান্তের পুঁজির মানুষের জন্য শীত যেনবা অভিশাপ!

এই হচ্ছে নগরকেন্দ্রিক নিরন্ন মানুষের একচিলতে উপাখ্যান;... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে কি ব্লগারদের কৃপনতা জেকে বসেছে ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৮ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫১


ব্লগ একটি লেখা প্রকাশ ও পাঠক মন্তব্য চালাচালির স্থান।একজন লেখক তাঁর লেখার উপর পাঠক প্রতিক্রিয়া/ফিডব্যক দেখতে চান, যেন তিনি পাঠক প্রতিক্রিয়ার আলোকে নীজের লেখার মান উন্নত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×