somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

প্রিয় জীবন.....

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ ভোর ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রিয় জীবন......

জীবন তোমা‌কে কষ্ট দিতে চাইলে তু‌মিও জীবনকে দেখিয়ে দাও- তু‌মি কতটা কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রাখ। তু‌মি হয়তো এখন জীবনের অনেক খারাপ একটা সময় পার করছ অথবা অনেক আনন্দের একটা সময় পার করছ। আজ তোমার জীব‌নের ভালো অথবা খারাপ সময় যাই হোক না কেন এটাই জীবনের শেষ অংশ নয়। এটা শুরুর গল্প ও হ‌তে পা‌রে, অাবার এই থেকে অাবার শুরু হ‌তে পা‌রে জীব‌নের এক দুর্দান্ত সূচনা।

আজকের গল্পটা কারোর জীবনের শেষ গল্প নয়। আমি জানি এই ধর‌নের অসহায় ও ভীষণ কষ্টকর সময়গু‌লো পার করা কতটা কষ্টকর! হ্যাঁ, নিজেকে এই সময় মানিয়ে নেয়াটা এতটা সহজ নয়। তবুও একটু কষ্ট করে আমার লেখা গুলো মন দিয়ে পড়। কারন, তু‌মি নি‌জেই বুঝতে পারবে এই সময়গুলো স্থায়ী নয়, এই সময়গুলো চলে যাবে। সুখময় জীবন হাতছা‌নি দি‌য়ে ডাক‌ছে তোমায়, তাই সু‌দি‌নের প্রত্যাশায় স্বপ্ন দেখ- শয়‌নে, স্বপ‌নে ও জাগর‌নে।

আজ তোমার খারাপ সময় যাচ্ছে, এর মানে এই নয় যে তোমা‌র জীবনে আর কখনো ভালো সময় আসবে না।আজ তু‌মি কাঁদছো এর মানে এই নয় যে তু‌মি অনন্তকাল ধ‌রে কেব‌ল কাঁদ‌বে বা আর কখনো হাসবে না। দুঃখ কষ্ট আমাদের জীবনে শুধু আমাদেরকে কষ্ট দেয়ার জন্যই আসে না। বরং জীব‌নের দুঃখ-কষ্টগু‌লো অামা‌দের জীব‌নের পরম সত্য অনুধাবন ও উপল‌ব্ধি‌তেও সাহায্য কর‌তে অা‌সে- তাই ভে‌ঙ্গে প‌রো না, উ‌ঠে দাঁড়াও এবং দৌঁড়াও জীবন জ‌য়ের প্রত্যাশায়।

দুঃখ কষ্ট আমাদেরকে জীবন সম্পর্কে জানাতে আসে।আমাদের আসে-পাশের মানুষ গুলোর ভিতরের চেহারাটা অামা‌দের‌কে চিনিয়ে দিতে আসে। তোমার জীবনের সব থেকে কাছের মানুষটাকে চিনিয়ে দিতে আসে। কে তোমার শত্রু আর কে তোমার বন্ধু সেটা জানিয়ে দিতে আসে। তাই, খারাপ সম‌য়ে উ‌ঠে দাঁড়াও চি‌নে রাখ শত্রু ও বন্ধু‌কে যা সু‌দি‌নে তোমা‌কে বাস্তবতা চেনা‌বে।

তু‌মি এতোদিন যাকে প্রিয় বন্ধু বা প্রিয়জন বলতে গলা ফাটিয়ে ফেলছ সে হয়ত তোমার সত্যিকারের বন্ধু নাও হতে পারে। কারন,তোমারর খারাপ লাগার সময় সব বন্ধুর চোখে অশ্রু‌বিন্দুর দেখা নাও পে‌তে পার।

তোমার খারাপ সময়ে সব বন্ধুরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে না। শুধু মাত্র সত্যিকারের বন্ধুরাই তোমার খুশির জন্য নিজের খুশিগুলো বাজি রাখতে পারবে। হ্যাঁ, জীবনের সব থেকে খারাপ সময়গুলোকে নিজের জীবনকে শেষ করে দেয়াটা সব থেকে সহজ একটা কাজ। কিন্তু কয়েকটা দিন পর, খারাপ সময়টা কেটে যাওয়ার পর একটা ভালোদিনের প্রত্যাশা করাটা ততটা সহজ নয়। আজ তু‌মি অনেক ক‌ষ্টে থাক‌লেও ক‌দিন পরই হয়‌তো জীবনজ‌য়ের হাসিখুশিতে ভ‌রে উঠ‌বে জীবন। তাই সময় যত ক‌ঠিনই হোক না কেন, অাঁক‌ড়ে ধ‌রো জীবন জ‌য়ের প্রত্যাশাকে।

আজ তু‌মি প্রচুর পরিমান খারাপ ও ভীষণরকম একটা ক‌ঠিন সময় পার করলেও ক'দিন পর দেখ‌বে তোমার জীবনেও একটা ভালোলাগার সময় আসবে স্বাভাবিক ভা‌বেই। তু‌মি কখনো অন্য কারো চিন্তা ভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। ঠিক তেমনি ভাবে আমাদের জীবনের প্রতিটা বিষয়কে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। মানুষ শুধু একটা জিনিসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সেটা হলো তার প্রত্যাশা। তাই নিজ প্রত্যাশা পূরণে অটল থাক, জীবনের জয় কে হা‌তের মু‌ঠোয় তু‌লে অান‌তে।

একটু ভেবে দেখ,
মানুষের জীবনে প্রতিটা কষ্টের কারন হচ্ছে এই প্রত্যাশা। যখন মানুষের প্রত্যাশা গুলো পূরণ হয় না ঠিক তখনই মানুষ কষ্ট পায়। তাই কারো উপর খুব বেশি প্রত্যাশা রেখ না। শুধু জীবনজ‌য়ের একান্ত নি‌জের স্বপ্নে‌তেই বি‌ভোর থাক। দেখ‌বে, জীবন জ‌য়ের বরমাল্য তোমা‌রি হা‌তে।

কারো উপর প্রত্যাশা করার থেকে নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখ। দুঃখ ও কষ্টের সাথে যুদ্ধ করতে শিখ। সু'সময়ের বন্ধু আর দু'সময়ের বন্ধুগুলোকে চিনে রাখ। কারন, জীবন এক‌দিন ঠিক বদলে যাবেই, খারাপ সময় গুলোও কেটে যাবে। জীবন তোমা‌কে একবার আঘাত করলে তু‌মিও জীবনকে দুইবার আঘাত কর। জীবন তোমা‌কে কাঁদাতে চাইলে তু‌মি হাস‌তে থাক প্রাণ ভরে। তবুও হাল ছেড়ে দিও না, ক‌ঠিন সম‌য়ে জীব‌নের হাল শক্ত ক‌রে ধ‌রে ব‌সে থাক একাগ্রম‌নে। দেখ‌বে দুঃখ হে‌রে যা‌বে তোমার কাছে, তু‌মি জয়ী হ‌বে জীব‌নের কা‌ছে।

জীবনের সাথে যুদ্ধে পরাজয় মেনে নে‌বে না। ধৈর্য্য ধরো, দেখ‌বে জীবনের গল্পটা বদলে যাবে। হ্যাঁ, বদলে যা‌বে। অার এই বদ‌লে যাওয়া জীবনটাই হ‌বে তোমার অর্জন।

ভা‌লো থে‌কো, খুব ভা‌লো থে‌কো, জীবনজয়ী হ‌ও। এভা‌বেই আমরা প্র‌ত্যে‌কেই হ‌য়ে উঠ‌তে পা‌রি আমা‌দের জীবন জ‌য়ের রূপকার।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৪ সকাল ৮:২২
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মীয়তা বজায় রাখা ইসলামে ফরজ

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:১৪

ইসলামে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা (সিলাতুর রাহিম) একটি মৌলিক নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি কেবল সামাজিক শিষ্টাচার নয়; বরং আল্লাহর নির্দেশিত ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কুরআন ও হাদীসে বারবার আত্মীয়তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ইলিশ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:২৬


ইলিশ!ইলিশ!! রূপালী ইলিশ, কোথায় তোমার দেশ? 
ভোজন রসিকের রসনায় তুমি তৃপ্তি অনিঃশেষ। 

সরষে- ইলিশ, ইলিশ-বেগুন আরও নানান পদ
যেমন তেমন রান্না তবুও খেতে দারুণ সোয়াদ

রূপে তুমি অনন্য ঝলমলে ও চকচকে।
যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×