somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিভাবে টবে স্থলপদ্ম এবং জবা ফুল গাছ লাগাবেন...........

০২ রা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
কিভাবে টবে স্থলপদ্ম এবং জবা ফুল গাছ লাগাবেনঃ-


আগে ছিল রক্তজবা তবে এখন টিস্যু কালচার এবং গ্রাফটিং কলম পদ্ধতি অবলম্বন করে একই গাছে ফোটানো যায় একের অধিক রংয়ের জবাফুল। পাওয়া যায় অনেক দুর্লভ রংয়ের ও আকারের জবা। জবা এখন হয় নীল, হলুদ, কমলা, গোলাপি, সাদা, বর্ণিল জবা ও বাই-ট্রাই কালারের। বহু নার্সারিতে পাওয়া যায় এসব গাছ। তবে শুধু গাছ জোগাড় করলেই হবে না, জানতে হবে টব, মাটি, সার, ওষুধ থেকে পরিচর্যা সব। কয়েকদিন আগে আমার টবে লাগানো হালকা হলদে রঙের জবা ফুল গুটেছে একই সাথে স্থলপদ্মের ফুলের কুড়ি এসেছে।

চারাঃ
জবা ফুল কিম্বা স্থলপদ্ম গাছ লাগানোর জন্য নার্সারি থেকে ছোট আকারের ও মোটা কান্ডের সুস্থ সবল চারা বেছে নিন।

টব বা পাত্র প্রস্তুত করাঃ
১০-১২ ইঞ্চির টব বা পাত্র নিন। বড়ো পাত্র নিলেই যে প্রচুর ফুল ফুটবে সে-রকম নয়। তবে আপনি চাইলে বড়ো পাত্রও নিতে পারেন। প্রথমে টবের ছিদ্র গুলো ইটের টুকরো দিয়ে আটকে দিন ও কিছু বালি-নুড়ি টবের মধ্যে বিছিয়ে দিয়ে এক ইঞ্চি বেড তৈরি করুন যাতে অতিরিক্ত পানিটা ড্রেনেজ সিস্টেম থেকে টবের বাইরে বেরিয়ে যাবে।

মাটি প্রস্তুত করাঃ
মাটি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার গাছ কেমন হবে তার অনেকটা এর ওপর নির্ভর করে। ৪০% বেলে-দোয়াশ বা নার্সারি থেকে গার্ডেন সয়েল, ২০% সাদা বালি, ২০% কোকোপিট (নারকেল ছোবড়া) বা ধানের তুষ বা ছাই, ২০% যে কোনো কম্পোস্ট সার। এর সাথে মেশান- একমুঠো শুকনো নিমপাতা গুড়ো, যা মাটিতে থাকা জীবাণু নাশ করে ও গাছে পোকামাকড় এর আক্রমণ কম হয়। সবশেষে দু-তিন চামচ হাড়ের গুঁড়ো নিয়ে এবার সবগুলো ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন।

টবে মাটি ভরা ও গাছ লাগানোঃ
অল্প অল্প করে মাটি টবে ভরতে থাকুন আর হাত দিয়ে চেপে মাটির মধ্যে থাকা এয়ার গ্যাপ গুলোকে নষ্ট করে দিন। টবে অর্ধেক মাটি ভরা হলে চারাগাছের গোড়ার প্লাস্টিকের মোড়কটা ছাড়িয়ে নিচের কিছুটা মাটি হাত দিয়ে ভেঙে টবে ভরা অর্ধেক মাটির ওপর গাছটাকে সোজা করে বসিয়ে দিন। এরপর বাকি মাটি টবে ভরে টবের কানা থেকে এক ইঞ্চি খালি রেখে পানি ও সার দেওয়ার জন্য জায়গা রাখবেন। গাছ লাগানোর পর টব ভরে পানি দিয়ে যদি দেখেন যে- কিছুক্ষণ পর পানি বেরিয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন যে টবের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সঠিক হয়েছে। এবার গাছের গোড়ার মাটিকে কিছুটা উঁচু করে দিন যাতে গাছের গোড়ায় পানি আটকে না থাকে।
এছাড়াও বর্ষাকালে বা বর্ষা পরবর্তী বৃষ্টিতে স্থলপদ্ম বা জবা গাছের সুস্থ সবল ডাল কেটে নিয়ে মাটিতে বা টবে লাগালেও গাছ হয়। ডাল বসাবার পর সব পাতা ঝরে যাবে। তখন মনে হবে, গাছ মরে গেছে। কিন্তু মরেনি, আবার নতুন পাতা গজাবে।



পরিচর্যা ও সার ব্যাবস্থাপনাঃ

গাছ লাগানোর পর একমাস অন্তর অল্প জৈব সার দিলে ভালো হয়। কলার খোসা পচিয়ে গাছে দিতে পারেন। এতে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম আছে যা জবা গাছের খুব উপকারী। কলার খোসা পচানো সম্ভব না হলে পটাশ সার এক চামচ গোড়ার থেকে দূরে টবের ধারে মাটিতে দিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়া পটাশের বদলে ডি এ পি সারও দিতে পারেন। তার ১৫ দিন পর কম্পোস্ট সার মাটিতে দেওয়া যেতে পারে। ১৫ দিন পর সরষের খৈল পানিতে মিশিয়ে মাটিতে দেওয়া যেতে পারে। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত সার দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। সকালে টব ভর্তি করে পানি দেবেন (বৃষ্টি না হলে)। সকালে গাছের গোড়ায় পানি দিলে বিকেলে গাছের পাতায় স্প্রে দিয়ে ভিজিয়ে দেবেন, মাটিতে নয়। এতে গাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। গাছ সমেত টব সবসময় সূর্যের আলোয় রাখতে হবে। সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে এতেই ফুটবে সারা বছরের ফুল।

কীটনাশক ও পোকামাকড়ঃ
জবা গাছে সঠিক ভাবে মাটি তৈরি করলে, পরিচর্যা করলে পোকামাকড় এর আক্রমণ কম থাকে, তা সত্ত্বেও যদি হয় তাহলে পাতা মুড়ে যাওয়া, পাতা ঝরে যাওয়া, গাছে ও ফুলের কুড়িতে সাদা চুনের ছিটের মতো দাগ কুড়ি বা পাতা ঝরে যাওয়া, গাছ শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি অনেক কিছু ঘটতে পারে। সাদা মিলিবাগ পোকা, রেড স্পাইডার বা লাল মাকড়সা, পিচ পোকা ইত্যাদির আক্রমণ জবা গাছের একটা অতি পরিচিত রোগ। তাই এগুলো হবে ধরে নিয়ে প্রথম থেকে প্রতি সাত দিন অন্তর ৫ মিলি লিটার নিমতেল ও কাঠাল পাতার তেল (কাঠাল তেল না পেলে শুধু নিমতেল) এক লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করা হলে এসব পোকামাকড় এর হাত থেকে অনেকটা নিশ্চিত থাকা যেতে পারে। আর যদি তাতেও না হয় তাহলে SAAF ও Actara নামক ছত্রাক নাশক ৫ এম এল করে এক লিটার পানিতে কয়েক ফোটা শ্যাম্পু মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১১:৫৩
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার জটিল ভাইয়ের কুটিল এজেন্ডা ফাঁস!

লিখেছেন জটিল ভাই, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ৯:৩৩


(ছবি নেট হতে)

জটিল ভাইকে সবাই হয়তো চিনেন না। আমি কোনোকালেই তাঁর ভক্ত ছিলাম না। এমনকি কখনও আমি তাকে ব্লগার হিসেবেও স্বীকৃতি দিতে রাজি নই। তাছাড়া ভবিষ্যতে তিনি করবেন এমন একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সালাত আদায় বনাম নামাজ পড়া বনাম সালাত কায়েম

লিখেছেন জ্যাকেল , ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১১:৫৪




মুসলমান ও ইয়াহুদী ধর্মের মানুষগণ সেজদা সহ মোটামুটি মিল আছে উপায়ে প্রার্থনা করেন/নামাজ পড়েন। লোকমুখে আমাদের দেশে এভাবে ব্যাপারটা চলে-

নামাজ পড়তে হবে।
নামাজ পড়া বাদ দিলে মুসলমান থাকা যায় না। ফাসেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×