somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

একজন দাদাভাই'এর গল্প........

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২১ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন দাদাভাই'এর গল্প........

রোকনুজ্জামান খান৷ জন্ম ১৯২৫ সালে রাজবাড়ী জেলার পাংশা নারায়ণপুর গ্রামে-নানার বাড়িতে। তাঁর নানা রওশন আলী চৌধুরী ছিলেন ‘কোহিনূর’ পত্রিকার সম্পাদক। বাবা মৌলভী মোখাইরউদ্দীন খান, মায়ের নাম রাহেলা খাতুন।

তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে নানাবাড়ি -পাংশায়৷ শৈশবকালেই সাহিত্যচর্চা ও সাংবাদিকতায় আকৃষ্ট হয়েছিলেন তিনি৷ যৌবনের অনেকটা সময় কোলকাতায় কাটে৷ দেশভাগের পরে তিনি পূর্ব-পাকিস্তান চলে আসেন। শিশুতোষ সাহিত্যকে একক প্রচেষ্টা আর উদ্যমে এগিয়ে নিয়ে যান৷ সাথে ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল, আহসান হাবীব৷

‘সওগাত’ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা "নুরী" ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী৷ নুরী বা নুরজাহান বেগম ছিলেন বাংলাদেশে নারী সাংবাদিকতার অগ্রদূত এবং সাহিত্যিক। ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম নারী সাপ্তাহিক পত্রিকা "বেগম" পত্রিকার সূচনালগ্ন থেকে এটির সম্পাদনার কাজ করেছেন প্রায় আমৃত্যু!

ছোটোবেলার সাহিত্য চর্চার সময়ই রোকোনুজ্জামান "দাদাভাই"ছদ্মনাম নিয়েছিলেন৷ পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামেই শিশুদের পাতা ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আর এ থেকেই দেশব্যাপী তাঁর পরিচয় হয়ে ওঠে -"দাদাভাই"!

তাঁর প্রকাশিত তিনটি শিশুতোষ গ্রন্থ হাট্টিমাটিম, খোকন খোকন ডাক পাড়ি, আজব হলেও গুজব নয় ...৷ তাঁর সম্পাদিত ঝিকিমিকি শিশু সংকলনে তিনি শিশুদের মনে নীতিজ্ঞান, দেশপ্রেম ও চারিত্রিক গুণাবলি জাগ্রত করার চেষ্টা করেন। কচি ও কাঁচা (১৯৬৫) তাঁর প্রতিষ্ঠিত আর একটি মাসিক পত্রিকা৷

রোকনুজ্জামানের সবচেয়ে বড় অবদান ‘কচি-কাঁচার মেলা’ (১৯৫৬) নামে শিশুসংগঠন প্রতিষ্ঠা। তাঁর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এর শাখা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকায় ছিল মূল কেন্দ্র৷ আমি এবং আমাদের বৃহত্তর যৌথ পরিবারের অনেক কাজীন ছিলাম 'কচি-কাঁচার মেলা’র সদস্য। শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য ‘কাকলী পাঠাগার’ স্থাপন করেন আমাদের দাদাভাই।

তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতাঃ

~"গাধার কান"~
একটা দড়ির দুদিক থেকে টানছে দুদল ছেলে
তাই না দেখে বনের বানর লাফায় খেলা ফেলে।
সকল বানর ফন্দি আঁটে জবর মজার খেলা
এমন খেলা খেলেই মোরা কাটিয়ে দেব বেলা।

কিন্তু দড়ি মিলবে কোথায়? ঘাবড়ে গেল মাথা
পালের সেরা বানর বলে মগজ তোদের যা-তা।
নেইকো দড়ি বয়েই গেল ভাবিস মিছে হাবা
লেজে লেজে ধরব টেনে হবে দড়ির বাবা।

যেইনা বলা দু'দল বানর দুদিক থেকে বসে
একের লেজটি ধরল টেনে জোরসে চেপে কষে।
বনের গাধা দাঁড়ায় মাঝে উঁচিয়ে দুটি কান
বলে, আমার দুদিক থেকে কান ধরে দে টান
কান ধরে এই মাথা নিবি আপন দলে টেনে
জিতবি তবে এই খেলাতে, রাখিস সবাই জেনে।

অমনি দুদল হেঁইয়ো টানে, গাধার বিপদ ভারি
কান ছিঁড়ে সব হুমড়ি খেয়ে পড়ল সারি সারি
সাঙ্গ হল দড়ির খেলা বানররা সব হাসে
কান হারিয়ে গাধা শুধুই চোখের জলে ভাসে।"

দাদাভাই'এর নামের শেষে "খান"পদবী ছিল৷
তিনি বাঙালি সংস্কৃতি লালন করতেন অন্তরে এবং কর্মে৷সেই জন্যেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি খানেরা তাঁর কচি-কাঁচার মেলার অফিস ভাংচুর করে এবং বইপত্র পুড়িয়ে দেয়।

১৯৯৯সালের ৩রা ডিসেম্বর দাদাভাই "রোকোনুজ্জামান খান"মারা যান৷
শ্রদ্ধা জানাই এই শিশুমনা মানুষটিকে৷

সূত্রঃ
বাংলা পিডিয়া, উইকিপিডিয়া।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দায় নেওয়ার কেউ নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫


বাংলাদেশের ব্যাংকিং সংকট নিয়ে যত আলোচনা হচ্ছে, যত টকশো হচ্ছে, যত বিশেষজ্ঞ মতামত দিচ্ছেন, তার কিছুই ব্যাংকের সামনে লাইনে দাঁড়ানো মানুষটার কাজে লাগছে না। তিনি জানতে চান একটাই কথা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের মানুষদের মাঝেও 'উত্তম মানুষ' আছেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৭



পবিত্র কোরআনে অসম্ভব সুন্দর একটি আয়াত আছে। মহামহিম খোদাতায়ালা পুরো বিশ্বের মানুষদের দিকে একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে পবিত্র কোরআনে জিজ্ঞাসা করেছেন - "আর ঐ ব্যক্তি থেকে কে বেশি উত্তম... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুখু মিয়া

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৭ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৬



গভীর অন্ধকার রাত প্রবল গর্জন করে আকাশ ডাকছে, দুখু মিয়া আর তার মেয়ে ফুলবানু খুপড়ি মতো ছাপরা ঘরের জানালা দিয়ে তাকিয়ে আকাশ দেখেন। অন্ধকারে কিছুই দেখা যায় না তারপরও বাপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে শহরে বৃষ্টি নেই

লিখেছেন রিয়াজ দ্বীন নূর, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৩০



শহরটা নিচে। অনেক নিচে। রিকশার টুংটাং, বাসের হর্ন, কারো হাসির শব্দ, কারো ঝগড়ার শব্দ — সব মিলিয়ে একটা জীবন্ত শহর। কিন্তু রিয়াজের কাছে এই সব শব্দ এখন অনেক দূরের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dual Currency Card Needed for Meta Monetization. Urgent National Interest.

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৬

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি প্রায় চল্লিশ মিনিট। এক জায়গায় এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে সাধারণত দুই ধরনের সন্দেহ হয়- এক, লোকটা কিছু করতে এসেছে। দুই, লোকটার করার কিছু নেই। আমি কোনোটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×