
বাবার কোলে নিচ্ছেন শিশুকে। অনাবিল হাসি একরত্তির মুখে। আর বাবার চোখে মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। মেহমেত আসলানের তোলা এই ছবি সিয়েনা ইন্টারন্যাশানালে সেরা ছবির স্বীকৃতি পেয়েছে। ছবিটি সিরিয়ার সীমান্তে তুরস্কের হাতায় প্রদেশের রেহানলি জেলায় তোলা হয়েছিল।
পোস্টের এই ছবিটা অনেক দিন যাবত সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে, কিন্তু আমরা অনেকেই ছবিটির পূর্বাপর জানিনা।
ছবির শিশুটির নাম মুস্তাফা। জন্ম থেকেই তার হাত-পা নেই। বিরল রোগে আক্রান্ত এই একরত্তির শিশুটি। ওর বাবার নাম মুনজির। সিরিয়ায় ইদলিবের একটি বাজারের মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময় বোমা বিস্ফোরণে ডান পা হারান মুনজির। তার পর থেকে তাঁর নিত্যসঙ্গী ক্র্যাচ।
উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার একটি জনপদ। যখন বিস্ফোরণটা হয়, মুনজির বাজারে গিয়েছিল। ডান পা উড়ে যায় ওর।
স্ত্রী জেয়নেব প্রেগনেন্ট তখন। বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস ছেয়ে যায় তার রক্তস্রোতে। বেঁচে থাকার জন্যই সে নিতে বাধ্য হয় ওষুধ।
তারপর একদিন মুস্তাফা জন্মায়। দেখা যায় সে টেট্রা- আমেলিয়ার শিকার। গর্ভস্থ ভ্রূণ এ যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর আলোতো দেখেছে, কিন্তু হাত-পা নেই তার। হিংসার ক্ষত অনেক গভীর, সুদূরপ্রসারী। সুস্থ ভালোবাসাকে সামান্য ওষুধের সাঁকো দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যায় না কিছুতেই।
বাবা- মা- সন্তান পালিয়ে আসে রেহানলিতে। হাতায় প্রদেশ, তুর্কি সীমান্ত। সেখানেই তাদের জীবনের সঙ্গে জীবন জড়িয়ে যায় মেহমত আসলানের। মেহমত ছবি তোলে। এর বেশি পারে না সে।
একদিন মুনজির আর মুস্তাফার জীবন, এক সামান্য মুহূর্ত ধরা পড়ে তার লেন্সে। আপাতত পৃথিবী চেনে ওদের। মেহমতের ছবিটি এ বছরের সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে যে!
এভাবেই বেঁচে আছে মানুষ।
যন্ত্রণায়, সুখে।
যুদ্ধে, সন্তানে।
বর্তমানের অসহায়তায়, ভবিষ্যতের আশাবাদে।
জীবন আসলে মুস্তাফা- মুনজির- জেয়নেপ- মেহমতের।
সমস্ত বিস্ফোরণ, রক্ত, কাঁটাতার আর রাত পেরিয়ে সে আমাদের সুসকাল হোক।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



