somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুনজির- মুস্তফা.........

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মুনজির- মুস্তফা.........


বাবার কোলে নিচ্ছেন শিশুকে। অনাবিল হাসি একরত্তির মুখে। আর বাবার চোখে মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ। মেহমেত আসলানের তোলা এই ছবি সিয়েনা ইন্টারন্যাশানালে সেরা ছবির স্বীকৃতি পেয়েছে। ছবিটি সিরিয়ার সীমান্তে তুরস্কের হাতায় প্রদেশের রেহানলি জেলায় তোলা হয়েছিল।
পোস্টের এই ছবিটা অনেক দিন যাবত সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে, কিন্তু আমরা অনেকেই ছবিটির পূর্বাপর জানিনা।
ছবির শিশুটির নাম মুস্তাফা। জন্ম থেকেই তার হাত-পা নেই। বিরল রোগে আক্রান্ত এই একরত্তির শিশুটি। ওর বাবার নাম মুনজির। সিরিয়ায় ইদলিবের একটি বাজারের মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময় বোমা বিস্ফোরণে ডান পা হারান মুনজির। তার পর থেকে তাঁর নিত্যসঙ্গী ক্র্যাচ।

উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার একটি জনপদ। যখন বিস্ফোরণটা হয়, মুনজির বাজারে গিয়েছিল। ডান পা উড়ে যায় ওর।
স্ত্রী জেয়নেব প্রেগনেন্ট তখন। বিষাক্ত নার্ভ গ্যাস ছেয়ে যায় তার রক্তস্রোতে। বেঁচে থাকার জন্যই সে নিতে বাধ্য হয় ওষুধ।
তারপর একদিন মুস্তাফা জন্মায়। দেখা যায় সে টেট্রা- আমেলিয়ার শিকার। গর্ভস্থ ভ্রূণ এ যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীর আলোতো দেখেছে, কিন্তু হাত-পা নেই তার। হিংসার ক্ষত অনেক গভীর, সুদূরপ্রসারী। সুস্থ ভালোবাসাকে সামান্য ওষুধের সাঁকো দিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া যায় না কিছুতেই।

বাবা- মা- সন্তান পালিয়ে আসে রেহানলিতে। হাতায় প্রদেশ, তুর্কি সীমান্ত। সেখানেই তাদের জীবনের সঙ্গে জীবন জড়িয়ে যায় মেহমত আসলানের। মেহমত ছবি তোলে। এর বেশি পারে না সে।

একদিন মুনজির আর মুস্তাফার জীবন, এক সামান্য মুহূর্ত ধরা পড়ে তার লেন্সে। আপাতত পৃথিবী চেনে ওদের। মেহমতের ছবিটি এ বছরের সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে যে!

এভাবেই বেঁচে আছে মানুষ।
যন্ত্রণায়, সুখে।
যুদ্ধে, সন্তানে।
বর্তমানের অসহায়তায়, ভবিষ্যতের আশাবাদে।
জীবন আসলে মুস্তাফা- মুনজির- জেয়নেপ- মেহমতের।
সমস্ত বিস্ফোরণ, রক্ত, কাঁটাতার আর রাত পেরিয়ে সে আমাদের সুসকাল হোক।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ১০:৩৭
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মেয়েদের চোখে মাস্ক পড়া ছেলেরা বেশী আকর্ষণীয়

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১১:১৪


ইংল্যান্ডের কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ পরিচালিত একটা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মেয়েরা মাস্কহীন পুরুষের চেয়ে মাস্ক পরিহিত পুরুষদের দ্বারা বেশী আকৃষ্ট হয়। যে সব ছেলেদের চেহারা আমার মত ব্যাকা ত্যাড়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

সারোগেট বেবি

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:১৮





অন্যের পেটে আপনার সন্তান, বাড়ছে আরামে, আর আপনি মা হয়েও ঘুরছেন হিল্লি-দিল্লী। সহজ কথায় এরই নাম সারোগেট। বাবার শুক্রানু ও মায়ের ডিম্বানু নিয়ে ভ্রুণ বানিয়ে কোনো এক মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়ের ব্যবধানে...

লিখেছেন দেয়ালিকা বিপাশা, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১২:৪০

সব আন্দোলন আসলে আন্দোলন নয়, সব দাবী, দাওয়া সত্যিকার অর্থেই কোন অর্থই বহন করে না

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:২৫



শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযয়ের ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন দেখে, আমার ছোট বেলার একটি আন্দোলনের কথা মনে পরে গেলো । সেটি ছিলো আমার জীবনের প্রথম কোন আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাবিআইয়্যিআলায়িরাব্বিকুমাতুকাজ্জিবান?

লিখেছেন জটিল ভাই, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৫:২৩


(ছবি নেট হতে)

তোমায় ভালবেসে জীবন দিতে চাই,
সকল সময়ে তোমার চরণে দিও ঠাঁই।
জানি মোর পাপের পাল্লা অতিমাত্রায় ভারি,
কিন্তু বহুগুণ ভারিতো; করুনার পাল্লা তোমারি।
তাইতো কঠিন মাটিতে ফলাও শস্যদানা,
আবার সে মাটি হতেই দাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×