somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

Kumbalangi Nights

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০২১ সকাল ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Kumbalangi Nights

নামের একটা মালায়লাম সিনেমা দেখলাম। বিশাল ক্যানভাসের সিনেমা। পটভূমিকা কেরলের কোচি শহর। ছবির মত সুন্দর এই শহরটিতে রয়েছে ইকো ট্যুরিজম যার টানে অনেক পর্যটক আসেন। স্থানীয় এবং টুরিস্টদের নিয়েই ছবির কাহিনী। মালায়লাম ভাষায় নির্মিত হলেও ইংরেজি ও হিন্দি সাবটাইটেল আছে। তবুও অনেক চরিত্রের সমাবেশে সহজ বোধগম্য নয়।

গল্পটি চার ভাইয়ের হলেও আরও অনেক গুলো চরিত্রটির সমাবেশ ঘটেছে সংগত কারণেই। ঘটনাঃ অত্যন্ত নিম্নবিত্ত ছন্নছাড়া পরিবারের চার ছেলে। সাজি, ববি, বনি আর ফ্র‍্যাংকি। এরা জেলে পরিবার। বড়ো ভাইটি মধ্য তিরিশ। সব চাইতে ছোটোটি স্কুলে পড়ে। সে স্কলারশিপ পেয়ে একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়ে। বড় ভাই সাজি এবং মেজ ভাই ববির কোনো স্থায়ী রোজগার নেই। যখন যেমন হয়, সেই ভাবে চলে তারা। সেজ ভাই বনি, মুক বধির, সে এক নাচ গানের দলের সাথে ঘোরে, ট্যুরিস্টদের টুকটাক মনোরঞ্জন করে দিন গুজরান হয়। ওদের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ, দারিদ্রতা ছাড়া ওদের আর কোনো সামাজিক পরিচয় নেই।

সিনেমার শুরুতেই দেখা যায়- ছোট ভাই ফ্র‍্যাংকি স্কুল ছুটির খবরে খুব বিমর্ষ। স্কুল হোস্টেলে ফ্রি খাবার খাওয়ার সুযোগ ছেড়ে হোস্টেল থেকে বাড়ি ফিরতে তার অনীহা। তবুও নিয়মানুযায়ী বাড়ি ফিরতে হয়। দিন শেষে ভাইরা একে একে বাড়ি ফেরে। ওদের মা নেই, তবে ছবিতে মায়ের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আছে। সেদিন তাদের বাবার মৃত্যুদিন। কিন্তু ছোট ভাইটি ছাড়া কারুরই তা মনে নেই। ভাইদের মধ্যে ববি দেখতে সুদর্শন। কিছুটা ধনী পরিবারের মেয়ে বেবী মোলের সাথে পরিচয় হয় ববির। বেবী মোল আর ববি ঘনিষ্ঠ হতে থাকে।

বেবী মোল, তার দিদি, দিদির স্বামী শামি এবং মা, তাদের বাড়িতে hom-stay চালায়। যেখানে টুরিস্টরা এসে থাকে। ববি বেবী মোল এর ভালোবাসায় নিজের জীবনের মোড় ঘোরাতে চেষ্টা করে ববি। একদিন ববি প্রেমিকা বেবী মোলকে নিয়ে সিনেমা দেখতে যায়। সিনেমা হলে প্রেমিকার বুকে হাত দিয়ে তার হাতে চড় খায়। তাতে তারও ম্যাস্কুলিনিটি টাল খায়, কিন্তু সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। ববির নিজের উপার্জন না থাকা সত্বেও ভালোবাসার টানে তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত এবং রোজগেরে মেয়ে বেবী মোলকে বিয়ে করতে তার ম্যাস্কুলিনিটি খাটো হয় না।

বেবী মোল, একটি আফ্রো আমেরিকান তরুণী ট্যুরিস্টকে নিজের বাড়ি আনে। তার দিকে কুনজর পরে নিজের বোন জামাই শামির... এই তরুণীটির সাথে মুক বধির বনির নিটোল বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শামির কামুক দৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে বনি এই তরুণীটিকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে।

ভাঙাচোরা একটি বাড়ি যাতে একটা দরজা অবধি নেই, সেই খানে চার ভাইয়ের এতদিনের হল্লা, মারপিট, গালাগালির জীবনে একটা নতুন দিক উন্মোচিত হতে থাকে। চার ভাইয়ের দুইজন মা। প্রথম মা নিখোঁজ বা মৃত। দ্বিতীয় মায়ের প্রথম সন্তান ববি। জটিল সম্পর্ক। সামাজিক মর্যাদা, যেটার এতদিন কোনো প্রয়োজন ছিল না, হঠাৎ সেটার দরকার পড়ে। দ্বিতীয় মা, যে সংসার ছেড়ে চার্চে থাকে। তাকে তিন ভাই বাড়ি ফিরতে অনুরোধ করে। কিন্তু মা ফেরেন না। বাড়িতে দুটি মহিলা এবং একটি শিশুর উপস্থিতি আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতদিন যারা শুধু কোনমতে দিন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল, তাদের জীবনে আসতে থাকে মধুর পরিবর্তনের হাওয়া। শুধু ববি আর বেবী মোল এর বিয়ে আটকে থাকে ওই জটিল মনের ভগ্নীপতি শামীর জন্য।

শামির মোটেই পছন্দ ছিল না যে তার শ্যালিকা বেবী মোল চালচুলোহীন ববিকে বিয়ে করুক। কিন্তু বেবী মোল নিজের সিদ্ধান্তে অনড়। তারা পালিয়ে যাবার প্ল্যান টের পেয়ে শামির জটিল মানসিক দিক প্রকাশ পায়। সে দুই বোন আর শাশুড়ির ওপর শারীরিক অত্যাচার করে একটা রুমে বেঁধে রাখে। অনেক বার ফোন করা সত্বেও যখন বেবী মোল ফোন ধরে না, তখন চার ভাই ওদের বাড়ি যায় এবং একটা বন্ধ রুমে আবিষ্কার করে। রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে চার ভাই শামিকে কবজা করে এবং বেবী মোল, তার মা ও দিদি বেঁচে যায়।
শেষ দৃশ্যে চার ভাইয়ের দরজা বিহীন বাড়ি সেজে ওঠে আলোকসজ্জায়। নৌকো করে আসা নিমন্ত্রিত অতিথিরা ববি আর বেবি মোলেত বিয়ের উৎসবে মেতে ওঠে।

প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে এত সুন্দর কবিতার মত সিনেমা বানানো সহজ নয়। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, সামাজিক বৈষম্য সবই এসেছে কিন্তু উচ্চকিত ভাবে নয়। এতে এই স্তরের মানুষকে মানুষই দেখানো হয়েছে, তার দোষ গুণ সমেত। তারা এক অসহনীয় পরিস্থিতিতে ঝগড়া করে, কিন্তু এক উন্নত জীবনের দিকে এগিয়ে যায়। তিনজন মহিলা, সমাজের বিভিন্ন স্তরের, তাদের সান্নিধ্য তাদের ভিতরের ভালো মানুষটিকে বাইরে আনে।

সিনেমাটি আলাদা করে কোনো সামাজিক পরিবর্তনের মেসেজ যেমন দেয় না, তেমনই সামাজিক সমস্যা গুলোকে উপেক্ষাও করে না। প্রতিটি চরিত্র নির্দেশকের যথাযথ মনোযোগ পায়। কোনো চরিত্র আলাদা করে অসাধারণ হয়ে ওঠে না। পরিচালকের সংবেদনশীল নির্দেশনা কোচির সৌন্দর্যের ব্যাকড্রপে অতি সাধারণ মানুষজনের হাসি কান্না, প্রেম ঘৃণা, মানসিক জটিলতা, পারস্পরিক নির্ভরতার এক অপূর্ব কোলাজ তৈরি করে।।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০২৪ রাত ৯:১৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খালেদা জিয়ার জানাজা

লিখেছেন অপু তানভীর, ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ১১:৩৯

আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমার নানীর বোন মারা যান। নানীর বোন তখন নানাবাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন। সেইবারই আমি প্রথম কোনো মৃতদেহ সরাসরি দেখেছিলাম। রাতের বেলা যখন লাশ নিয়ে গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইংরেজী শুভ নববর্ষ '২০২৬

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৭:৪৭

ইংরেজী শুভ নববর্ষ '২০২৬



আগত ২০২৬ ইংরেজী নববর্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ ।

বিগত ২০২৫ সাল বাংলাদেশ ও বর্হির বিশ্ব ছিলো ঘটনা বহুল এবং দু:খজনক অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ।
সময়ের পার্থক্যের কারণে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমরত্বের মহাকাব্যে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪


এই বাংলার আপসহীন মা কে
হারিয়ে ফেলাম শুধু মহাকাব্যে;
ধ্বনিত হবে এতটুকু আকাশ মাটিতে
আর অশ্রুসিক্ত শস্য শ্যামল মাঠে-
চোখ পুড়া সোনালি স্মৃতির পটে অপূর্ণ
গলাশূন্য হাহাকার পূর্ণিমায় চাঁদের ঘরে;
তবু আপসহীন মাকে খুঁজে পাবো?
সমস্ত কর্মের... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালেদা জিয়ার জানাজা - নৃতত্ত্ব এবং বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:০৭


সাধারণ মানুষকে আমরা তার ব্যক্তি চরিত্র দিয়ে বিচার করি, কিন্তু একজন ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদকে ব্যক্তিজীবন দিয়ে নয়, বরং তার কর্ম, নীতি, আদর্শ ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ও টিটিপি বিতর্ক: নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর কি দিল্লির কোনো এজেন্ডা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৭


আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝে আফগান তালেবান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা নূর আহমাদ নূরের ঢাকা সফর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন পশ্চিমা বিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×