somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

IDENTITY CRISIS

২৮ শে মে, ২০২২ দুপুর ১২:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

IDENTITY CRISIS

ভেবেছিলাম "ইংরেজিতে লিখবো"। কিন্তু নির্ভুল ইংরেজি লিখতে পারিনা তাই সাহস পেলাম না। তবুও মনের মধ্যে প্রবল ইচ্ছা, আমার লেখা পৃথিবীর কোনায় ঘুপচিতে পৌঁছে যাক। আমি বলনে-লিখনে শতভাগ বাংলা চর্চায় অভ্যস্ত হলেও "ইংরেজিতে লিখে" আমার "আমিত্ব " প্রকাশ করতে চাই। আমাকে সবাই বিরাট বিদ্বান, বিরাট জ্ঞানী পণ্ডিত ভাববে...মানে নিজেকে প্রমাণ ও প্রচার করার প্রয়াস। বাংলায় যাকে বলে "অস্তিত্বের সংকট"। ইংরেজিতে Identity crisis.

খবর কাগজ, টেলিভিশন, ফেসবুক খুললেই একটা বড় অংশ জুড়ে- খুন, ধর্ষণ, অবৈধ সম্পর্কের জেড়ে আত্মহত্যা, রাজনৈতিক হানাহানি, নেতাদের একে অপরের বিরুদ্ধে কদর্য কাদা ছোঁড়াছুড়ি, শিশু পাচার, দারিদ্র্য, হতাশা, বেকারত্বের করুণ কাহিনী। সেই সব করুণ খবরের রংচঙা উত্তেজনাপূর্ণ খবরই বড় বিনোদন! মানুষ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করে এইসব নেতিবাচক গল্প। কারণ সেই "অস্তিত্বের সংকট"- Identity Crisis.

কিভাবে?
একজন মানুষকে বিচার করা হয়, তার সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, পারিবারিক অবস্থান থেকে। আজকের অসম বন্টনের পরিবেশে উন্মাদ আর কথা বলতে না শেখা শিশু ছাড়া সবাই এই Identity crisis এর শিকার। বলা ভাল, যার আছে (have), যার নেই (have not), সবাই এই সংকটে ভুগছেন।

প্রতি দিন মেগা সিরিয়াল, বিজ্ঞাপন আমাদের বলে দিচ্ছে ভালো থাকা কি। সিরিয়াল মনের অবচেতনে প্রবিষ্ট হয়ে বলছে 'বাড়িতেও তোমার বেনারসি, জামদানী পিওর সিল্ক শাড়ি পরা উচিৎ'। বাড়িতে একটা বউ/স্বামী, বাইরে আর একজনের সাথে শারীরিক মানষিক সম্পর্ক রাখা যায় কিভাবে। কিভাবে বউ/স্বামীকে মিথ্যা কথা বলে সব ম্যানেজ করা যায়। কিভাবে একান্নবর্তী পরিবার ভেঙে টুকরো করে দিয়ে, অন্যেরও সুখের সংসারে আগুন জ্বালিয়ে দিতে হয়।

আমরা প্রাণী থেকে মানুষে রূপান্তরিত হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি নিরন্তর। মানুষ ব্যতীত মানুষের অন্য পরিচয়গুলো জরুরি বলে আমি মনে করি না। কিন্তু আমিও এই প্রক্রিয়ার বাইরের কেউ না। ছোটবেলা থেকে অনেক পরিচয় নিয়ে বড় হয়েছি। প্রথমে ‍ওমুকের ছেলে, ওমুকের ভাই, ভাগ্নে- এগুলো স্বাভাবিক। এই পরিচয়গুলো মানুষ প্রয়োজনের তাগিদ থেকেই তৈরি করে। কিন্তু এই পরিচয়গুলো দিয়েই শুরু হয় মানুষ পরিচয় থেকে অন্য পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠার ধারা। এরপর ধীরে ধীরে মানুষ ছাত্র, শিক্ষক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, পুলিশ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদসহ আরো অনেক পরিচয়ে পরিচিত হয়ে ওঠে। আর এসব পরিচয় একসময় মানুষ পরিচয়কে আড়াল করে। এই পরিচয়ের ধারণা নিজেদের ভেতর একধরনের আমিত্ব তৈরি করে, যা অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা, গুরুত্বপূর্ণ আর বড় ভাবতে শেখায়। যা মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এখানেই তৈরি হয় শ্রেণির। শ্রেণি সৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় শ্রেণিবৈষম্যের। পৃথিবীর শ্রেণিসংগ্রামের ইতিহাস অনেক পুরোনো ক্যাচাল এবং প্যাঁচাল। পেশার ভিত্তিতে মানুষের বিভিন্ন পরিচয় তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই পরিচয় যদি মানুষ পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে তখনই তা বিপত্তি বাধায়।

আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র, সরকারও মানুষ পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তির পেশাগত পরিচয়কে বড় করে দেখে। আমাদের সরকারি দল ও বিরোধী দলের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর রয়েছে নিজস্ব পরিচয়পত্র, যা নিজেদের লোক বলে জাহির করে। আর এর মধ্য দিয়ে তারা অন্য সাধারণ নাগরিক থেকে নিজেদের আলাদা, গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক হিসেবে ভাবতে পারে। বিভিন্ন সুযোগ-‍সুবিধা নিতে তাদের এই পরিচয় সহায়তা করে। গাড়ির নম্বরপ্লেট থেকে শুরু করে সব জায়গায় এই পরিচয় ব্যবস্থা আছে।

একজন শিক্ষককে কানে ধরানোর প্রতিবাদের নামে কয়েকটা দুশ্চরিত্র ধান্ধাবাজ কানে ধরে ফটোসেশান করবে আর দেশের অসংখ্য সাধারণ মানুষকে পুলিশ, মন্ত্রী সাহেব কানে ধরিয়ে জনসম্মুখে ওঠবস করাবে তার বিচার কেউ চাইবেনা। একজন নারীকে দুই একটা কুলাংগার টিপ নিয়ে নোংরা মন্তব্য করবে- তার কতিপয় পুরুষ নামের জোকার লোমশ বুকের ছবি আর কপালে টিপ দিয়ে মশকারা করে- অথচ ক্ষমতাসীন দলের বাইরে একজন নারীকে, একজন ছাত্রীকে যখন টেনে হিচড়ে রাস্তায় ফেলে গণপিটুনী দেয় তখন সেই দামড়াগুলো গর্তে ঢুকে থাকে! তার মানে কী সাধারণ মানুষ মার খেতেই পারে, কানে ধরাতেই পারে! একটি ঘটনার বিচার চেয়ে অন্য হাজারো ঘটনার বিচারকে আমরা কি নাকচ করে দিচ্ছি, এই ঘটনার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় শ্রেণি এবং শ্রেণিবৈষম্য। এখানেও Identity Crisis.
মানুষ পরিচয়টাই আমাদের প্রকৃত এবং শেষ পরিচয় হওয়া দরকার। এর চেয়ে বড় কোনো পরিচয় আমাদের থাকা বা হওয়া উচিত নয়। কবে বুঝতে পারবো আমাদের Identity crisis?

অভাবে স্বভাব নস্ট। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। সাধ আর সাধ্যের মধ্যে বিরাট ফারাক। তাই জন্ম নিচ্ছে হতাশা। হতাশ মানুষ কখনও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই চারপাশে শুধুই নেতিবাচক প্রভাব। এটাও Identity crisis.
আমাদের দেশ, ১৮ কোটি মানুষের দেশ। চালাচ্ছে কজন? দুই চার হাজার মানুষ। বেশির ভাগ সম্পত্তির মালিক তারা। চাবুক তারাই বাকি মানুষকে মারছে। হাই প্রোফাইল মেয়রদের ব্যার্থতায় মশারাও বেঁচে থাকে আর আল্লাহর ইচ্ছায় কুকুর বেড়ালের মত বাঁচছে মানুষ!
তা হলে উপায়?

স্যোশাল মিডিয়ার অনেক সেলিব্রেটি ভাই-বোনদেরদের মতো আমি ভালো লিখতে পারিনা, ওনাদের মতো আমার হাজার হাজার ফ্যান ফলোয়ার্স নাই, আমার পোস্টে লাইক কমেন্টস পরেনা- তাই বলে কি লেখালেখি বন্ধ করে দেব? এখানেও Identity Crisis.
আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। নিজনিজ যোগ্যতা দিয়ে আমাদের Identity রক্ষা করতে হবে। কবীর সুমনের কথায় বলি-
"দিন বদলের স্বপ্ন আমার এখনও গেলো না...
হাল ছেড়ো না বন্ধু, বরং কন্ঠ ছাড়ো জোরে, দেখা হবে তোমায় আমায় অন্য গানের ভোরে।"

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৫:১০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুদ্ধ ও প্রেমের দিন

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪১




অরুনিমা, এখন যুদ্ধ চলছে চারদিকে
তাই হুটহাট ঘর থেকে বের হবেনা, আমার অপেক্ষায় থেকো না বাগানে বসে
কখন যে বোমারু বিমান বোমা ফেলে দেয় বলা তো যায় না।

তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের দামামা বেজে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পছন্দের বাংলা গানগুলো

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ রাত ১:১১


অনেকদিনের ইচ্ছে পছন্দের বেশকিছু গান নিয়ে একটা পোস্ট দেব। দেওয়া হয়নি, কারণ, বিষয়টা সময়সাপেক্ষ। আজ হুট করে বসেই পড়লাম। রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুলগীতি, লালনগীতিসহ নানান ধরনের গানের একটা তালিকা করছি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×