somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

৷ call a spade a spade......

২৯ শে মে, ২০২২ সকাল ৯:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

I call a spade a spade......

দম্ভের সীমাকে নস্যাৎ করে অবোধ উচ্চারণ বহুবার অনেকের মুখেই শুনেছি...."I call a spade a spade. আমি স্পষ্ট কথা বলতে ভয় পাই না। সে জন্যেই আমি অনেকের অপ্রিয়।"

আমি জানি, এই কল্পিত অপ্রিয় হয়ে থাকার মধ্যে এক নির্দিষ্ট অহং কেমন সুখ এনে দেয়। এই ধরনের মাতাল- সুখবোধের কোনো একাল- সেকাল নেই।

সত্যকে আড়াল করে মিথ্যাকে সামনে নিয়ে এসে সত্যের অবমাননা আর কতকাল চলবে? এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি; কিন্তু কীভাবে? আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি; কিন্তু কেউ আমাদের পথ দেখাক তা চাই না। আমরা বিচার চাই, রায় চাই না। আমরা ফলাফল চাই, শৃঙ্খলা চাই না। আমরা ভালোবাসা চাই; কিন্তু অন্তর্মুখী হয়ে থাকি।

আমরা সহনশীলতা চাই, মতপার্থক্য পছন্দ করি না। আমরা ঐক্য চাই, আবার একা থাকতে পছন্দ করি। আমরা সমাধান চাই, আবার মনে করি কোনো কিছুই অকাট্য নয়। এমনকি আমরা জানি না যে, আমরা যা জানি না তা কীভাবে জানা যায়। আমরা সত্য বলতেই শুধু ভয় পাই না, সত্য শুনলে অনেক সময় তা বেয়াদবি মনে করি। যারা সত্য বলে তাদেরকে আমরা মন্দ-রূঢ়-অভদ্র বলতে দ্বিধা করি না।

ছেলে বেলা থেকেই আমার মেলামেশার পরিধি বড় হতে দিইনি বলে জীবনের অনেক angle থেকে নিশ্চয় আমি বঞ্চিত থেকেছি। তার কোনো কোণ, কোনো ডিরেকশনকেই আমি অস্বীকার করি না। করবার কেউ নই বলেই এবং আমি এও জানি যে, আমার স্বীকার- অস্বীকারে কিছুরই অস্তিত্ব লঙ্ঘিত হয় না। তবে আমার এক বিরামহীন দেখা- শোনা থেকে গেছে। চোখ খুলে। অথবা চোখ বুজে। তীব্রতা বাড়াতে আমি চোখ দিয়ে শুনেছি কখনো। কান দিয়ে দেখেছি।

এবং আমি অনন্ত মজা পেয়েছি.... এমন সব সীমাহীনতায়। কিছু কিছু স্পষ্ট কথার ভার আছে। ধপ করে পড়েই কেমন stagnant হয়ে যায়। Immovable থাকে। চলমানতা নেই। প্রবাহ নেই। বাতাসে ওড়ানো শব্দদাপটকে যদিও স্পষ্ট কথা বলার ব্যাকরণে ধরা যায় না.... তবু তেমন দাপুটে স্পষ্টতায় গ্রামার ভেঙে ছিটকে বেরিয়ে যেতেও দেখি ওইসব জনকে। স্পষ্ট কথারা তখন অবশ্য বাতাসে উড়ছে! আমি আবার বিশ্লেষণের ভক্ত। ভাবি, বুঝি বা কিছু ভেঙে কিছু সৃষ্টি! হলেও হতে পারতো, অথবা কিছুই হতো না।

সত্য শুধু এদেশ থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছে না, সত্য নিরুদ্দেশের পথে সব দেশে। রুশ লেখক পিতার পোমারানসেভ তো একটা আস্ত বই-ই লিখে ফেলেছেন এ বিষয়ে: ‘Nothing is True and Everything is Possible’. ব্যবস্থাপনা গুরু নামে বিশ্বআদৃত লেখক পিটার ড্রাকার বলেছেন: আমরা মানবেতিহাসে সবচেয়ে আলোড়িত সামাজিক পরিবর্তনের মধ্যে বসবাস করছি।

দুঃখজনক হল, আমরা অভাবনীয় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন-কালচারাল চেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছি, এটিকে খুঁজে বের করার কোনোরকম গাইডপোস্ট ছাড়াই। আমরা কোনো পরিবর্তনকে বন্ধ যেমন করতে পারি না, তেমনি এটাকে মন্থরও করে দিতে পারি না।

সহজ কথা আর স্পষ্ট কথায় খুব একটা সদ্ভাব আছে। তাই রবিবাবু বলেছেন- "সহজ কথা যায় না বলা সহজে"! আমি কিন্তু তবুও বলি। দু- চারটে সহজ সহজ কথা। যে স্পষ্ট কথায় অপর পক্ষের চোখ স্তম্ভিত হয়ে থেমে যায়, ব্যথিত হয়, তার মাথাটি ভেঙে নুয়ে আসে.... তেমন স্পষ্ট উচ্চারণ "সহজ" কথা নয়। কারণ, সহজের ভেতরে মালিন্য থাকে না। আমি তেমন স্পষ্ট কথার ভার বহন করি না।

সত্য আবিষ্কারের বিষয় নয়; উদ্ঘাটনের বিষয়। সত্য তো সত্যই। সত্য আছে চোখের অদেখায়, আমাদের চারপাশে, ঠিক বায়ু-আলো-আঁধারের মতো। একে খুঁজে বের করা মানুষের কাজ, দায়িত্ব।

উন্নয়নের, বেঁচে থাকার, অগ্রগতির, এগিয়ে যাওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে সত্যকে অধিষ্ঠিত করতে না পারলে সভ্যতার বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। গণতন্ত্রের আবশ্যকীয় সম্পদও হল সত্য চর্চা।

এবার একটু দার্শনিকতার কথা বলিঃ- স্পষ্ট কথা বলা আর স্পষ্ট কথা বলার দম্ভ এক নয়। এ দুইয়ে ততো ভাব নেই। বিরোধিতাও নেই মনে হয়। এরা আসলে পরস্পরকে তেমন চেনেই না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৫:১৫
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

উপরোধের আগে

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



একটা ক্ষণ,
ক্ষীণ, তবুও অবয়,
আমাকে হাজার বছর বাঁচিয়ে রাখবে সবুজ অটবীর আলেখ্যে,
তুমি এলে,
সেই পুরোনো মায়া হয়ে।

কতকাল পরে সম্মুক্ষে দু জোড়া চোখ?
সে প্রশ্নের প্লাবনে আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কি আধুনিক যুগের জন্য প্রস্তুত।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২৩

২০০৯ সাল থেকে সম্ভবত সকল সরকারি কর্মচারীদের ব্যাংকে বেতন হয়। এবং এই বেতন দেওয়ার পক্রিয়া ১০০% কম্পিউটার বেইস। সরকারি কর্মচারীদের বেতন সিজিএ অফিস হ্যান্ডেল করে। আর সম্ভবত আইবিবিএএস+ সার্ভার বেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫৫ বছরে কেন আরেকটা রিফাইনারি হলো না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৪৪


রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে আমেরিকার অনুমতি লাগবে। এই একটা বাক্য পড়লে অনেকে ভাববেন এটা কোনো রাজনৈতিক ভাষণের অংশ, কিংবা অতিরঞ্জন। কিন্তু এটা ২০২৬ সালের বাস্তবতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ লেগেছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আছছে পিনু ভাই

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:০২


ঘরের ছোল নাকি ঘরত আছছে
পুটি, বওল, টেংরা মাছ কুটিরে?
পাতিলত ভরে পুরপুরি ছালুনের
বাসনা যেনো আকাশত উরে-
কি সখ ছোলপল নিয়ে হামি এনা
যমুনাত যামু গাওধুমি, সাতরামু;
কে বারে শুন শুন হামাগিরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২০



নৈতিকতা, দ্বিচারিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কি আছে?

এখানে ছবি আছে ক্লি করে দেখতে হবে, যেহেতু আমাকে ছবি আপলোডে ব্লক করেছে এডমিন।

দেশের রাজনীতিতে একটি পুরোনো প্রবণতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে- জনগণের বাস্তব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×