somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?

২৬ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৯:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?

সব স্পন্দন কি শুধু মেটাফোরেই কথা বলে? মাঝে মাঝে মনে হয় না সমস্ত শিল্প-বিবৃতিইতো আসলে সূক্ষ্মতম অনুভূতির এক অক্ষম অনুবাদ?

ঐ যে নিভু নিভু সংবেদ! ওটাইতো ওর আসল শক্তি! লড়াই আর লড়াই! অনিবার্য এক চরম সত্যের বিরুদ্ধে। যদি বলি, হাতের তালুর পরম যত্নে নিশ্চিন্ত এক টুকরো কম্পমান অনিশ্চয়তা, তাহলে তার থেকে জীবনের অক্ষম অনুবাদ আর হয় না! অথবা ধরুন, পদ্মপাতায় জলফোঁটার ঐ টলটলে সংবেদ! অনিশ্চয়তার স্পর্শ ছুঁতে পেরেছে। কিন্তু আগ্রাসী অন্ধকারের বিরুদ্ধে ঐ তিরতিরে মোমশিখার অসম লড়াইটা? কে দেবে তার স্পর্শ?

নাহ!
সমস্ত কথনবিশ্বকেই বড্ড ঠুনকো আর একমাত্রিক লাগে যেন বিবৃতির সে প্রত্যক্ষতায়! তাই বহুমাত্রিক মেটাফোর চাই। একমাত্র তখনই অন্য শিল্প- মাধ্যমেও জীবনের স্পন্দন কবিতার মত বিশুদ্ধ সৃজন হয়ে উঠতে পারে।
ঐ এক টুকরো বাতির ভিশ্যুয়াল মেটাফোরটার কথা ভাবুন। তারকোভস্কির পেনাল্টিমেট ছবি Nostalghia(Nostalgia)। মূল প্রোটাগনিস্ট একজন রাশিয়ান লেখক- কবি! অভিনয় করবেন ইয়ানকোভস্কি। সত্যিকারের সৃজনশীল শিল্পীর কাছে সৃষ্টি তাঁর মাধ্যমের নিছকই নান্দনিক উচ্চারণ নয়! জীবনের প্রগাঢ় নিঃশ্বাস প্রশ্বাস।

তারকোভস্কি ইয়ানকোভস্কিকে বললেন- শোনো, একটা দৃশ্যকল্পেই জীবনের সবচেয়ে সংবেদী পাঠকে ধরতে চাই। অথচ একটা শটও কাটব না! সম্পাদনার শল্যচিকিৎসা ছোঁবে না এ স্পন্দন! কেন? কারণ নিঃশ্বাস কে টুকরো করে ধরা যায় না। জীবনকে টুকরো করে জুড়লে প্রযুক্তির নন্দন হবে হয়তো। শিল্প হবে না। শিল্প হলেও তা জীবনকে ছুঁতে পারবে না। জীবনের ঐ তিরতিরে আর্তিটা এক শটেই চাই আমার। আমার জীবনের সেরা শট হোক সেটা!
বাকিটা অভিনেতার লড়াই। জীবনেরও। কোনও সজ্জিত পরিক্রমণ নয় ; সে এক সযত্ন আবর্তন।

Cinema Narrative এর প্রাসঙ্গিক অংশটা কী ছিল?
পরিত্যক্ত খাদানে বন্ধুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধায় দেশ থেকে দূরে, বিদেশে স্বেচ্ছানির্বাসিত এক কবির দীপযাত্রা! ক্লান্ত ও ধ্বস্ত পদক্ষেপ! মুখে উৎকন্ঠা আর মমত্বের আর্তি! হাতে জীবনের প্রতিভূ হয়ে একটুকরো ভরন্ত আকাঙ্ক্ষা। তিরতিরে! দেদীপ্যমান! কখনো তালুর পরম মমতার আড়ালে, কখনো বা পোশাকের! যাবতীয় অনিশ্চয়তার লড়াই তখন অন্ধকারের বিরুদ্ধে। আগ্রাসী হাওয়া-বাতাসের বিরুদ্ধেও! দীপযাত্রার অনিবার্য বৃত্তায়নের শেষে ভেঙে পড়বেন কবিও।

কিন্তু পরিচালক কোথায় তখন?
ঐ ভিস্যুয়াল মেটাফোর ততক্ষণে নির্বাক গ্রাস করে ফেলেছে তাঁর সমস্ত চেতনা! তিনি তখন ক্যামেরার পিছনে নান্দনিক অন্তর্ছন্দে নেই। দৃশ্যকল্পের কৌণিক অভিঘাত, মোটিফের অনুপুঙ্খ -- সেসব থেকে অনেক দূরে! শিল্পবোধের জারণে তাঁর চেতনার নির্মাণ- পুনর্নিমাণ-- সবকিছুই কখন যেন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে! বরং অভিনেতার শরীর, শৈলি, মনে ছড়িয়ে দিয়েছেন তাঁর হৃদস্পন্দনের রঙরেখ আর নিঃশ্বাসের সরগম! উঁহু, তার থেকেও হয়তো আরো গভীরের কিছু! প্রোটাগনিস্ট-কবির সত্তায় ঢুকে পড়েছেন ভূতগ্রস্তের মতো পরিচালক নিজেই! জীবনের প্রগাঢ় উপলব্ধি কখন যেন হারিয়ে দিয়েছে শিল্পের নন্দনকে!

আসলে অতগুলো ইন্দ্রিয়সংবেদ ছুঁয়ে মেটাফরিক নন্দনও নিছকই গৌণ তখন। বৃহত্তর সত্যটা হলো তারকোভ্স্কি ছুঁয়ে ফেলতে পেরেছিলেন জীবনকে।

ততক্ষণে এক হয়ে গেছেন কবিবন্ধু, প্রোটাগনিস্ট কবি, আর স্রষ্টা পরিচালক; এক অতীন্দ্রিয় সমাপতনে! অনিশ্চয়তা আর অনিশ্চয়তা! ঘাত- প্রতিঘাতে, স্বপ্ন- হতাশায়, লগ্ন-চ্যুতিতে, সে অনিশ্চয়তার অনিবার্য স্পর্শকাতর অভিযাত্রাই জীবন!
বিবৃতির প্রগলভতায় আর প্রতিভাসের অনুপুঙ্খে জীবন হয়তো বা আলাদা আলাদা! কিন্তু, শিল্পদৃষ্টির সে আপেক্ষিকতা ও নান্দনিক সমীকরণের মূল সূত্রকে তুচ্ছ করে অনিশ্চয়তার অমোঘ নির্যাসে জীবন আসলে একই। লালনের মমতাতেও।

হে জীবন, তোমার লড়াইটা তোমারই।
অন্ধকারের বিরুদ্ধে তোমার লড়াই অনির্বাণ শিখায় জ্বলতে থাকুক।
কে নিতে পারে সে যন্ত্রণার ভাগ?
তবুতো এক দীপ থেকে প্রজ্জ্বলিত হয় আরো দীপ।
আলোর ভাগ কমে না তাতে এতটুকু!
আর তাই আজ নিঃস্বার্থে নিজেদের বিপন্ন করেও অন্যের প্রাণের লড়াইয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন শয়ে শয়ে ঈশ্বর!
ধুলোমাটির পৃথিবীতে এই মনুষ্যত্বটুকুই একমাত্র ঐশী নিশ্চয়তা, তোমার অনিশ্চয়তা ছুঁয়ে থেকেও।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১০
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×