somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

হিরো আলমের মুচলেকা.........

২৮ শে জুলাই, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হিরো আলমের মুচলেকা.........

২৭ জুলাই একটা মামলা সংক্রান্ত কাজে ডিবি অফিসে যেতে হয়েছিলো। আমি যখন ডিবি অফিসে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে ফোন করে আমার উপস্থিত হওয়ার কথা জানাই তখন জানতে পারি- "হিরো আলম" এসেছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন স্বয়ং ডিবি প্রধানসহ উর্ধতন কর্মকর্তাগণ- আমাকে অপেক্ষা করতে হবে!

বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। ডিবির রিসিপশন রুমে বসাতো দূরের কথা দাঁড়ানোর যায়গাও ছিলো না। ভ্যাপসা গরমে সবাই অতিষ্ট! আমার ব্যাক পেইনের জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হচ্ছিলো। আমি আবার সংশ্লিষ্ট অফিসারকে ফোন করে অনুরোধ করলাম- আমাকে পাস ইস্যু করা হোক, আমি ভিতরে কোথায় যেয়ে বসে অপেক্ষা করবো। তারপর সেই অফিসার এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন।

এটাই আমার প্রথম ডিবি অফিসে যাওয়া। অনেক যায়গা জুড়ে ডিবি হেড কোয়ার্টার- সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ। ভেতরে একটা পুকুরের মাঝখানে চমতকার একটা রেস্টুরেন্ট কাম ওয়েটিং প্লেস। নাম "বৃষ্টি বিলাস"! অসাধারণ সুন্দর পরিবেশে আমি দেড় ঘন্টা কিভাবে কাটিয়ে দিলাম- বুঝতে পারিনি!

হঠাত ডিবি প্রধানসহ উর্ধতন অন্যান্য অফিসার ডিবি মিডিয়া সেন্টারে মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে জানালেন- "হিরো আলম এর বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ......হিরো আলম মুচলেকা দিয়েছে- সে আর কোনোদিন রবীন্দ্র সংগীত গাইবেনা। পুলিশের ইউনিফর্ম পরবেনা......ইত্যাদি ইত্যাদি, যা আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদপত্রে পড়ে জেনেছি।

"হিরো আলম মুচলেকা দিয়েছে- সে আর কোনোদিন বিকৃত করে রবীন্দ্র সংগীত গাইবেনা" - এই মুচলেকা দেয়ার পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। হিরো আলম যখন ডিবি অফিস থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলো তখন গোটা ডিবি অফিসের এবং উপস্থিত সকল স্তরের লোকজন হিরো আলমকে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পরেছিল! মোদ্দাকথা ঐসময় মিন্টু রোডে কিছু সময়ের জন্য জ্যাম পরেছিলো!

এইতো দিন কয়েক আগে এক ইউএনও (বিসিএস ক্যাডারের) দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট করাতে ওই ইউএনও সাংবাদিক'কে ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেছেন- "জানোয়ারের বাচ্চা, তুই আমাকে চিনিস?"
এতে অবশ্য ওই ইউএনও'কে কোন মুচলেকা দিতে হয়নি।

হিরো আলমের অপরাধ'টা আসলে কি? রবীন্দ্রসঙ্গীত ভুল সূরে গাওয়া?
দেশের কোন আইনে বলা আছে রবীন্দ্রসঙ্গীত ভুল সূরে গাওয়া যাবে না? একজন ইউএনও রাষ্ট্রের টাকা মেরে দিয়ে অপরাধ করে উল্টো গলা উঁচু করে এই জনপদে বলতে পারেন- "জানোয়ারের বাচ্চা তুই আমাকে চিনিস?" আরেকজন রবীন্দ্রসঙ্গীত ভুল করে গাইলে তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে মুচলেকা দিতে হয়!

আমি জীবনে কখনো হিরো আলমের কোন ভিডিও দেখিনি। তবে বাধ্য হয়েই লেখার জন্য আমাকে ওই রবীন্দ্রসঙ্গীত'টা শুনতে হয়েছে। আমি হিরো আলমের ভক্ত নই। স্রেফ এই লেখার কারনে তার ভিডিওটা আমাকে দেখতে হয়েছে। হলফ করে বলতে পারব- ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক নামকরা সেলেব্রিটি এর চাইতেও ভয়ানক সূরে এলভিস প্রেসলি, বব ডিলানের গান গেয়ে ভিডিও আপলোড করে বেড়াচ্ছে। সেখানে অবশ্য কারো কিছু হচ্ছে না। কেউ মুচলেকাও নিচ্ছে না। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বিস্ময় বালক সুবর্ণ আইজ্যাক বারী এবং তার উচ্চশিক্ষিত পরিবারের সদস্যরা মিলে জাতীয় সংগীত গেয়েছে- যা চরম বিকৃতি, সেজন্য আইজ্যাক বারীকে কিম্বা তার পরিবারকে কোনো প্রকার জবাবদীহি করতে হয়নি!

যারা বয়সে আমার মতো কিছুটা প্রবীণ তাদের নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, কোলকাতার প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস এবং বাংলাদেশের প্রয়াত রবীন্দ্র সংগীর শিল্পী জাহীদুর রহীমকেও রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন নিয়ে অনেক হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিলো!

রবীন্দ্রনাথ কী ঈশ্বর? তার গান কী বাইবেল?

তাহলে কেউ যদি নিজের ইচ্ছা মত রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়; তাতে আপনাদের সমস্যাটা কোথায়? এই দেশে কি হিরো আলমই প্রথম মানুষ, যে বেসুরে গান গাইছে? অতীতে কি আর কেউ বেসূরে গায়নি?

বার্তাটা খুব পরিষ্কার। এই দেশ এবং সমাজ আপনাকে বার্তা দিচ্ছে- আপনি যদি দরিদ্র হন। আপনি যদি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসেন। আপনি যদি কালো, রোগা, হ্যাংলা-পাতলা কিংবা অশিক্ষিত হন। এই সমাজ; এই রাষ্ট্র আপনাকে আইন দেখাবে।

আপনি আপনার মত কিছু করতে পারবেন না। এটিএন বাংলার মাহাফুজুর রহমান বিকৃত সুর আর কন্ঠে রবীন্দ্র সংগীত টেলিভিশন চ্যানেলে পরিবেশন করলে কিম্বা "দাইমা"- জাতীয় উস্কানিমূলক নাট্যগীতি পরিবেশন করলে কিম্বা অন্যরা এর চাইতে জঘন্য অপরাধ করলেও সমস্যা নেই। তখন এই একই পুলিশ এসে বলবে- আমরা তদন্ত করে দেখছি অপরাধটা আসলে কার! অন্যদিকে রবীন্দ্র চার্চা যে আলাদা একটা ব্রাহ্মবাদী ধর্ম এইটা হিরো আলম হাতেকলমে বুঝায় দিল!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০২৪ বিকাল ৫:৪২
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভুলে যেও

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০১

" ভুলে যেও "

একটু একটু করে চলে যাচ্ছি গভীর অতলে,
ধীরে সুস্থে হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছি
অনন্তকালের ঘরে।
যেখানে থাকতে হবে একাকি
নি:স্বীম আঁধারে।

ভালো থেক ফুল,পাখি, লতাপাতা,
ভালো থেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আকাশ বলতে কিছু নেই

লিখেছেন সালমান মাহফুজ, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২

অনেক হয়েছে । আর না ।
সেই পরশু রাত থেকে । এক-দুই-পাঁচ-দশবার নয় । তিরাশিবার ! হ্যাঁ, তিরাশিবার ঈশিতার নাম্বারে ডায়াল করেও কোনো রেসপন্স পায় নি অলক ।
ওপাশ থেকে একটা নারীকণ্ঠ... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪১

স্মৃতিভুক বৈশাখী মেলা আর হালখাতা....

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালীর পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার রীতিও বদলে গিয়েছে। অনেক ঐতিহ্য কালের গর্বে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন রীতি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোকেয়া পদক ২০২৫: ঘৃণা আর পুরস্কারের এক অদ্ভুত সহাবস্থান

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:০৭


২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে অনেক কিছু ঘটেছিল। কিছু আশার, কিছু উত্তেজনার, আর কিছু একেবারে হতবাক করে দেওয়ার মতো। হতবাক করার মতো প্রথমেই যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ- মেঘলা আকাশ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৩৮

তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস
সময় সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪০ মিনিট
জানালা থেকে ঐ বাঁ দিকে Lake Ontario -র জল আর আকাশের মেঘের মেলা মিলেমিশে একাকার


একটু আলোর রেখা
টরোন্টো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×