somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়...........

০৭ ই জানুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়...........


সময়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের জীবনযাপন। নানা জটিলতার বেড়াজালে বন্দী আমাদের স্বাভাবিক জীবন আর আগের মতো সহজ সরল স্বাভাবিক থাকছে না। প্রাত্যহিক জীবনে নিত্য তাড়া করে ফিরছে বিচিত্র সঙ্কট। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির। ঘটছে অপ্রত্যাশিত ঘটনা, খবরগুলো এখন নিত্যকার চালচিত্র। এ ধরনের খবরগুলো যে কোন বিবেকবান মানুষকে খুব সহজেই আলোড়িত করে, বিচলিতও করে। আমাদের সমাজে এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। আগে কালেভদ্রে এ জতীয় ঘটনা ঘটলেও এখন এগুলো নিত্যকার চালচিত্র।

আমাদের চারপাশে প্রতিদিন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখে মনে প্রশ্ন জাগছে, আমরা কোন পথে এগোচ্ছি! আমাদের মানবিক মূল্যবোধ কি লোপ পাচ্ছে, আমরা কি দিনে দিনে সভ্য সুশিক্ষিত আধুনিক মুক্ত চিন্তা-চেতনার দাবিদার হওয়ার বদলে অসভ্য, বর্বর মানবিক মূল্যবোধহীন হয়ে পড়ছি? শহরে নাগরিক জীবনযাপনে যান্ত্রিক সভ্যতার প্রতিক্রিয়ায় হয়ত পারিবারিক, সামাজিক বন্ধন ও সম্পর্কে নতুন সমীকরণ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে আটপৌরে সাধারণ জীবনে যান্ত্রিকতা বাসা বাঁধছে। পুরনো প্রচলিত মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় সাংস্কৃতিক চেতনা, নৈতিক আদর্শিক ভাবধারা ক্রমেই মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। এখন হৃদয়বৃত্তিক আকর্ষণের বদলে সবাই বিত্তবৈভবে প্রভাব প্রতিপত্তি ইত্যাদি অর্জনে অতিমাত্রায় আগ্রহী হয়ে উঠেছি। যে কোন উপায়ে সহজ সংক্ষিপ্ত উপায়ে ধনী হওয়ার নেশায় পেয়ে বসেছে সবাইকে। এজন্য নৈতিক অধঃপতন ঘটছে অনেকের। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য যে কোন উপায় অবলম্বন করতে বিব্রত হচ্ছে না তারা। দুর্নীতি, অসততা, অনিয়ম, প্রতরাণা, লোভ লালসার কাছে প্রতিনিয়ত আত্মসমর্পণ করতে দ্বিধা সঙ্কোচ করছে না- এক শ্রেণীর মানুষ। মনুষ্যত্বকে ভূলুণ্ঠিত করে পশুত্বকেই প্রশ্রয় দিচ্ছে তারা। এভাবেই সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে দুর্নীতি অবক্ষয়, অসততা, প্রতারণা, লাম্পট্য ব্যভিচার, অনিয়ম, লোভ আর নির্মমতা। যার ফলে প্রতিদিনই ঘটছে অসদাচরণের বিচিত্র সব ঘটনা। হতাশা, বঞ্চনা, ব্যর্থতার গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে অনেকে ভুল পথে ধাবিত হচ্ছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে এভাবেই হাজার হাজার নারী-পুরুষ। মাদকাসক্তি আমাদের গোটা সমাজকে কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, মদ, হেরোইনের নেশায় বুঁদ হয়ে জগত সংসার, বাস্তবতা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে কত মানুষ তার হিসাব জানা নেই কারও।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এমন দিন আর বেশী দূরে নেই যখন মানুষের আত্মসম্মানবোধ, মানবিক মূল্যবোধ বলে কিছুই থাকবে না। যৌথ পরিবার ভেঙে এখন নিউক্লিয়ার পরিবার হচ্ছে। নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিও ভাঙতে ভাঙতে লিভ-ইন্; সিঙ্গল পেরেন্টহুডের দোর গোড়ায়।

আরও কিছু দিন পর মানুষ নিজের সাথেও নিজে থাকতে পারবে না। সহ্য করতে পারবে না নিজেকে। সুইসাইডাল দিন কাল। বোহেমিয়ান হবারও কিছু ডিসিপ্লিন থাকে। নিজের জন্য নিজে যখন হাতে বিষ তুলে নেয় কেউ, জীবন তখন আরও দুরূহ। আশেপাশে দোষ দেবারও কেউ থাকে না।

আমার অফিসের কাছেই দেশ সেরা এবং ঐতিহ্যবাহী একটা স্কুল কাম কলেজের ২০/২৫ জন ছাত্রছাত্রীদের গ্রুপভিত্তিক গাঁজার আসর বসে সকাল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত। একদল চলে যায়, আর একদল আসে.... কয়েকশো মিটার এলাকা জুড়ে গাঁজার ধোঁয়া আর উৎকট গন্ধ! এরা সবাই না হলেও বেশীরভাগই ধনাঢ্য এবং অভিজাত পরিবারের সন্তান। ওদের মা-বাবা, অবিভাবকেরা হয়তো জানেনা তাদের উচ্ছন্নে যাওয়া সন্তানদের কথা.......

আমার বাড়ির পাশেই একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। সকাল থেকে রাত দশটা এগারোটা পর্যন্ত সড়কে, ফুটপাতে, বারান্দায় ছাত্রছাত্রীদের বেলেল্লাপনা.... সন্ধ্যেবেলা কড়া ডোজের চোখ; কিছু টিনএজ ছেলে-মেয়েচোখে পড়ে....মায়া হয়, ওরা আমাদেরই সন্তান, ভাই-বোন.....কিভাবে উচ্ছন্নে যাচ্ছে! স্ট্রিট লাইটের নীলচে আলোয় ঝিমাচ্ছে। ওদের চোখের দিকে তাকানো যায়না। মোবাইল স্ক্রীনে চেয়ে থাকা অপলক রাত; চোখের নীচে ডার্ক সার্কল। ফাউন্ডেশন লাগিয়েও ঢাকা পড়েনা ক্লান্তি।

ইচ্ছে করে ওদের কোলে করে স্লিপিং ব্যাগে তুলে বাড়ি নিয়ে আসি। ঘুম পাড়াই...ঘুম ভাংগলে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলবো- 'তোমরা যা করছো তা প্রেম ভালোবাসা নয়। যৌনতারও একটা শৃঙ্খলা আছে, সৌন্দর্য আছে....তোমরা যা করছো তা প্রেমভালবাসা নয়, বিকৃত মানসিকতা। প্রেমকে কখনও জীবনের ওপরে রেখো না। সত্যিকারের প্রেম নিজেই একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন। কেনো, কিসের জন্য এভাবে নিজেদের ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিচ্ছো....'!

মনে অজানা ভয়....
বাড়ি ফিরে সন্তানদের দেখে আস্বস্ত হই.... আমার বাসার দক্ষিণের বারান্দা দিয়ে হাস্নুহেনার গন্ধ ভেসে আসে। ধ্বংসন্মুখ এই প্রজন্মের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যাই। ফজরের নামাজ আদায় করে ভোরের আকাশে দেখি আধ খাওয়া চাঁদ আর শুকতারা পাশাপাশি শুয়ে আছে- এই দৃশ্যের চাইতে সুন্দর কি আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:২২
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওয়াশিংটন থেকে বেইজিং: বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫


মার্চ ২০২৬-এর ক্যালেন্ডার বলছে, বাংলাদেশের কূটনীতি নতুন দিকে মোড় নিয়েছে । একই সময়ে বাংলাদেশের তিনজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব আমেরিকার মাটিতে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিউ ইয়র্কে ব্যস্ত নিজের ক্যাম্পেইনে। সেনাপ্রধান জেনারেল... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ থেকে ২০০৬ / ২০২৬শে এসে আবারও দেশ ফিরে গেলো খাম্বার খপ্পরে ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৪

তারেক জিয়া “ ২০০১ থেকে

২০০৬ পর্যন্ত যা করে গিয়েছিলেন। তিনি ঠিক সেখান থেকেই ২০২৬ শুরু করলেন। অনেকেই তার অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা বলছেন। ছোট ছোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×