somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

'পুরস্কার' কি কখনও কোনও সৃষ্টির মানদন্ড হওয়া উচিত?

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ সকাল ১১:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'পুরস্কার' কি কখনও কোনও সৃষ্টির মানদন্ড হওয়া উচিত?

অথচ হয়, সেটাই হয় প্রতিনিয়ত।
আমাদের প্রতিবেশী একটি মেয়ে একেবারেই সাধারণ ছবি আঁকে। মেয়েটির বাবা রাস্ট্রের একজন বিখ্যাত আমলা। ওদের গোটা বাড়িতে অনেকগুলো শো'কেসে বেশ নামি পুরস্কার স্মারক রাখা। দেখে জানতে চাইলাম। উত্তরে জানলাম সব আঁকার প্রতিযোগিতায় পেয়েছে। তখন তাঁর আঁকা ছবির খাতা দেখতে চাইলাম, দেখে তো পুরো অবাক। একেবারে অতি সাধারণ আঁকা।

একটা উদাহরণ দিই... আমাদের সুপরিচিত এক ব্লগার বন্ধু দুর্দান্ত ছবি আঁকে। অথচ দুর্দান্ত আঁকা ব্লগার বন্ধুটি আঁকার জন্য কোনও পুরস্কার কখনও অর্জন করতে পারেনি। তার মানে কি তাকে ইচ্ছা করে দেওয়া হয়নি? না, বিষয়টা ঠিক তেমন নয়। ভালো আঁকা ব্লগার বন্ধুটি প্রতিবার পেশাদার যোগ্য প্রতিযোগীদের মুখোমুখি হয়। যেখানে তার থেকেও ভালো আঁকা শিল্পী পুরস্কার ছিনিয়ে নেয়। অপর পক্ষে পুরস্কার পাওয়া মেয়েটি প্রতিবার এমন প্রতিযোগী পায়, যারা তার থেকেও খারাপ আঁকে।

এবার আর একটা বিষয়। আমার এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বন্ধুর বিশাল অফিসে গিয়েছি। যেয়ে দেখি- গোটা অফিস জুড়ে বিভিন্ন রকম মেডাল, ক্রেস্ট ভর্তি..... আমি খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে পুরস্কারগুলো দেখছি। হঠাত চোখ আটকে গেলো "শেরে-বাংলা স্মৃতি স্বর্ণ পদক- ২০২০” নামক ক্রেস্টের দিকে.... এই পুরস্কার প্রবর্তক এবং দাতা সংগঠনকে আমি খুব ভালো করে চিনি এবং জানি। এই পদক নামে যতটা ভারীই হোক প্রাপ্তি সহজ এবং শতভাগ বানিজ্যিক।

এবার দর্শক বা লেখার জগতে পাঠকের সাইকোলজির যদি ব্যাখা করি...
আমরা পুরস্কারকে যোগ্যতা মান মানসিক ভাবেই মেনে নিয়েছি। যখন আমাদের সামনে পুরস্কার প্রাপ্ত কেউ আসেন, আমরা আগে থেকেই মেনে নিয়ে তার ছবি, দেখি বা লেখা পড়ি... তিনি বা তারা পুরস্কার পেয়েছেন, কাজেই উপযুক্ত।
আমাদের মস্তিষ্ক যাচাই করার প্রতি আকর্ষণ হারায়।

লেখার জগতে দেখেছি- ঈদ সংখ্যায় কিম্বা অন্য যেকোনো বিশেষ সংখ্যায় যে বা যারা লিখবে, সে বা তারা তত বড়ো লেখক। এইভাবনা মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে। যে যত প্রতিযোগিতা জিতবে সে তত বড়ো শিল্পী/লেখক/কবি/সাহিত্যিক।
আমরা বাহারি মোড়কে আকৃষ্ট হয়ে, আসল খোঁজার চেষ্টাটাই ত্যাগ করেছি।
তবে, ব্যতিক্রম তো থাকবেই। কিছু পুরস্কারের কদর সত্যিই করতে হয়।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা মতামত... 'ভালো' সৃজনশীল, সৃষ্টি নিভৃত সাধনা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই প্রকৃত সৃষ্টি করতে হলে, নিজেকে নিজের অন্তরে লুকিয়ে ফেলতে হবে। আর সৃষ্টির যারা কদর করবে... তাদের ছাই সরিয়ে দেখতেই হবে। না হলে নকলের ভিড়ে সবাই হারিয়ে যাবে।

আমি মনে করি, লেখকের ক্ষেত্রে পাঠকপ্রিয়তা আর শিল্পীর ক্ষেত্রে দর্শক প্রিয়তা- এর থেকে বড়ো পুরস্কার নেই। বাংলা সাহিত্যের পুরস্কার ব্যাপারটা একেবারেই লেখা লেখির মান/ পরিমাণ/ গভীরতার সংগে ডাইরেক্ট রিলেটেবল না। তবে পুরস্কার নবীনদের উৎসাহ দেয়। কিক স্টার্ট করে দেয়।

যিনি নিভৃত সাহিত্য সাধক, তার লেখা পুরস্কৃত হলে পাঠক তাকে পড়েন, তা লেখার মানদণ্ড যেমনই হোক। আবার পুরস্কার অযোগ্যদের অতিউৎসাহও দেয়- যা আখেরে ক্ষতি। এখন অতি সহজেই যে কোনও পুরস্কার পাওয়া যায়। ফলে ঠিক কতটা খাটলে একটা পুরস্কার পাওয়া যায়, সেটা বোঝা আর কারোর পক্ষে সম্ভব হয় না। এখন যোগ্যতম কে পুরষ্কৃত হতে দেখিনা। আগেও হয়নি তা নয়।
পুরস্কারের সাথে সুযোগ ব্যাপারটা আসে। যেকোনো উপলক্ষে লেখা প্রতিযোগিতায় বেশীরভাগ সময়ই অতি নিম্নমানের হয়েও ছেপে যায় বিভিন্ন পত্রিকায়। এর একটা বড়ো কারণ যোগাযোগ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৪ দুপুর ১২:১৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×